ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা যদি অ্যানিমের মাধ্যমে জানতে চান - নুজহাত নাওয়াল নিটোল


এ যাবৎ কালে যতোগুলো যুদ্ধ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা সব বয়সী মানুষের মনে দাগ কাটে। বিশেষ করে যুদ্ধাক্রান্ত দেশগুলোতে। যুদ্ধাক্রান্ত দেশের তালিকার মধ্যে উপরের সারিতে জাপানের নাম উঠে আসবে সবার আগে।
Studio Ghilbi র কথা আমার পূর্বের লেখাতে তুলে ধরেছিলাম। কিভাবে সূক্ষ্মাতি সূক্ষ ভাবে প্রোডাকশন হাউজটি চিত্রায়ন করে তা সবারই জানা। আজকের লেখায় তুলে ধরবো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা প্রভাব কিভাবে তারা তাদের ফিচার ফিল্ম “Grave of the Fireflies''; এ দর্শকদের উপহার দেয়।


“Grave of the Fireflies; জাপানীজ লেখক Akiyuki Nosaka র লেখা একটি সেমি অটোবায়োগ্রাফিকাল গল্প। বইটি মূলত ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের কোবিতে ফায়ারবোম্বিং এর সময়কালে লেখক এবং তার পরিবার যে দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তার অনুকরণে। তার বোনদের মধ্যে একজন মারা যায় অসুস্থতার দরুণ।অন্য জন, Keiko, মারা যায় পুষ্টিহীনতায় ভুগে। বাবা মারা যান ফায়ার বোম্বিং এর সময়। গল্পটি মূলত Keiko র কাছে ক্ষমা চেয়ে।

প্রথম গল্পটি প্রকাশিত হয় জাপানের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে। তিনি এই ছোটোগল্পের জন্য Naoki পুরষ্কার জিতে নেন। এই ছোটো গল্পটা আরো কয়েক বছর পর Studio Ghibli র নজর কাড়ে। Isao Takahata র পরিচালনায় ১৯৮৮ সালে প্রথম অ্যানিমে ফিচার ফিল্ম হিসেবে ছোটো গল্পটি দর্শকদের সামনে পর্দায় আসে। যা মূল লেখাটি প্রকাশ হবার প্রায় বিশ বছর পর।


মূল গল্পে ফেরত আসা যাক এবার। মূল গল্পটি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চার বছর বয়সী Setsuko এবং ১৪বছর বয়সী Seita কে নিয়ে।ফায়ার বোম্বিং চলাকালীন সময় তারা দুইভাইবোন অকালে মা হারায় এবং আরো কিছুদিন পর বাবাকেও। মা মারা যাবার পর শুরু হয় তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। প্রথমে বাবার বোনের কাছে কিছু দিন ভালো মতো থাকার পর একটা সময় তারা অনুভব করে তারা আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে থাকতে পারছে না। উঠতে বসতে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। সেখান থেকে দূরে সরে গিয়ে এক গুহায় তারা দুই ভাইবোন ঠাঁই নেয়। যদিও প্রথম দিকে সব ভালো মতো সামলে উঠছিলো। একটা সময় অভাবের জন্য দিন দিন তাদের বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে ঠেঁকে।
Seita ই একমাত্র মানুষ ছিলো যে তার ছোটো বোনকে দেখাশোনা করছিলো। একটা পর্যায় গিয়ে খাদ্যাভাবে পুষ্টিহীনতায় চার বছর বয়সী Setsuko মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। খাবার জোগাড় করা তাদের জন্য সোনার হরিণের মতো হয়ে ওঠে। এবং এর মাঝেই একদিন ছোট্ট Setsuko মারা যায়। যেভাবে আলো দেয়া শেষ হলে জোনাকিরা মারা যায় সেভাবে।
কিছুদিন পর বড় ভাই Seita ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বোনের বিরহে এবং কথায় গল্পটা যতোটা না হৃদয় বিদারক টিভি স্ক্রিনে দেখা তার চেয়ে বেশি কষ্টের। ''Grave of the Fireflies'';দেখে কাঁদেনি এমন মানুষ পাওয়া সত্যি বিরল।



অ্যানিমেশন ফিল্মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা অনুভবের জন্য এই মুভি সর্বকালের সেরা অ্যানিমে মুভি। অ্যানিমে বলতে আসলে আমরা বুঝি ছোটোদের জন্য তৈরীকৃত জগৎ। এই অসাধারণ মুভিটা দেখলে দর্শকদের সেই ভুল ধারণাটা ভাঙ্গবে। বড় থেকে ছোটো সব বয়সী মানুষের জন্য এই অ্যানিমে জগৎ। যদি আপনি এর মধ্যে লুকানো অনূভুতিটি ধারণ করতে পারেন এবং হলফ করে বলতে পারি এই কালজয়ী মুভি আপনার ভুল ধারণা ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট।
তবে আর দেরী কেনো? চটজলদি বসে পড়ুন এবং দেখে ফেলুন ''Grave of the Fireflies''।
আজকের মতো এখানেই বিদায় দেখা হবে অন্য কোনো লেখায়। ততোদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন।  





 

আমি নুজহাত নাওয়াল নিটোল। বর্তমানে পড়াশোনা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অবসর সময় কাটে বই পড়ে, অ্যানিমে দেখে এবং ইউকুলেলে বাজিয়ে। লেখালেখি শখের বসেই করা। আশা করছি আপনাদের পড়ে ভালো লাগবে।