টিনটিন চরিত্রটি উঠে আসে বিখ্যাত বেলজিয়ান লেখক এবং কার্টুনিস্ট জর্জ রেমির হাত ধরে। তবে তিনি তার সকল লেখনীতে ''অ্যার্জে''; ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। যা অনেক বাংলা অনুবাদ গ্রন্থগুলোতে ''হার্জ''; নামে ছাপা হয়।

টিনটিনের প্রথম আবির্ভাব ঘটে ১০ জানুয়ারি, ১৯২৯ সালে “Le Petit Vingtieme” নামের এক বেলজিয়ান পত্রিকার সাপ্তাহিক কিশোর সংকলনে (বর্তমানে যার নাম Le Vingtieme Siecle)। প্রথম কমিক বইটি শুরু হয় ''দ্যা এডভেঞ্চার অব টিনটিন- ইন দ্যা ল্যান্ড অব দ্যা সোভিয়েত''; দিয়ে। এরপর একে একে টিনটিন ইন কঙ্গো, টিনটিন ইন আমেরিকা থেকে শুরু করে টিনটিন এন্ড দ্যা পিকারস পর্যন্ত ২৩ টি কমিকস প্রকাশিত হয়। ২৪ তম কমিকসের কাজ শুরুর পর পরই লেখক মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৬ সালে। যার দরুণ অসম্পূর্ণ রয়ে যায় এর কাজ। যদিও তা আরো কিছু লেখা সংযুক্ত করে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

যতোদূর জানা যায় ১৯৩০ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১০০ এর বেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে ২৫০ মিলিয়নেরও অধিক এই সিরিজের বই বিক্রি হয়েছে। এই কমিক সিরিজটির উপর ভিত্তি করে টিভি সিরিজ নির্মাণ করা হয়। যা ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত হয়। এই সিরিজের এপিসডগুলো ইউটিউব, এমাজন, নেটফ্লিক্সে চাইলে বসে দেখে ফেলতে পারেন সহজেই। ২০১১ সালে প্যারামাউন্ট পিকচার ''দ্যা এডভেঞ্চারস অব টিনটিনঃ দ্যা সিক্রেট অব ইউনিকর্ণ''; নামে চলচিত্র টিনটিনপ্রেমীদের জন্য তৈরী করে। যা গোল্ডেন গ্লোব, ২০১২ থেকে শুরু করে এখন অব্দি ২২টি পুরষ্কার জিতে নেয়।

২০১২ সালে অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া ছাড়াও আরো ৬২টা পুরষ্কারের মনোনয়ন পায় এই চলচিত্র। দ্যা এডভেঞ্চার অব টিনটিন চলচিত্রের সিকুয়েল বের হবার ঘোষণা পরিচালক এবং প্রযোজক স্টিভেন স্পাইলবার্গ দিয়ে দিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এর বের হবার কোনো নামগন্ধ নেই। তা বের হলে দেখার বিষয় আগের চলচিত্রের মতো মান ধরে রাখতে পারে কিনা। আশা করি ভালো কিছুই দেখতে পাবো।

অনেক কিছুই তো বললাম এবার চরিত্র গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। কেন্দ্রীয় চরিত্র টিনটিন একাধারে রিপোর্টার এবং অভিযাত্রী।  রিপোর্ট তৈরীর জন্য খবর সংগ্রহের কাজে টিনটিনের তিব্বত থেকে শুরু করে রাশিয়া, আমেরিকা, মিশর, ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা এমন কি চাঁদেও যাওয়া হয়েছে। এইসব যাত্রা পথে বিভিন্ন রহস্যের মুখোমুখি হয়ে এবং সেসব রহস্যের ভিতরে ঢুকে সমাধান করে।সব যাত্রার সঙ্গী তার একমাত্র তুষার শুভ্র কুকুর স্নোই। স্নোই ছাড়া আরো অনেক চরিত্রের আনাগোনা দেখি আমরা সম্পূ্র্ণ কমিক সিরিজে। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান চরিত্র হলো ক্যাপ্টেন হ্যাডক (Captain Haddock)। পুরো নাম ক্যাপ্টেন আর্কিবল্ড হ্যাডক হলেও তাকে বেশির ভাগ সময় ক্যাপ্টেন নামেই ডাকা হয়। বহু অভিযানে টিনটিনের সঙ্গী হতে দেখা গিয়েছে ক্যাপ্টেন হ্যাডককে। কমেডি চরিত্র হিসেবেই তাকে ধরা যায়। তিনি খুব সহজেই উত্তেজিত হয়ে যান। সেই সঙ্গে মদ খেতে ভালোবাসেন যার কারণে টিনটিনকে বিভিন্ন সময়ে বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া আমরা পাবো জমজ ভাই জনসন ও রনসনকে। তারা দুজন গোয়েন্দা। শুধু গোয়েন্দা না বলে বোকা গোয়েন্দা বললে ঠিক হবে। গোঁফের আকৃতির পার্থক্য ছাড়া তাদের বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। তারা রহস্য সমাধান করতে গিয়ে রহস্যের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। সমাধান এ তো পৌছুতে পারেনই না বরং ভুল লোককে ধরিয়ে এর সমাধানে পৌছোন। এসব চরিত্রের সঙ্গে আরো আছেন

প্রফেসর কাথবার্ট ক্যালকুলাস। যিনি একটু ভুলোমনা তবে প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারি। তবে শ্রবণশক্তি কিছুটা সীমিত যার দরুণ গল্পে হাস্যরসের হেতু হন। তিনি কেবল তার পেন্ডুলামের সাহায্যে বাস্তবতার সাথে কল্পনার অদ্ভূত সংযোগ করতে পারেন। কমিক সিরিজগুলো যতো ভিতরে যাবেন আরো অনেক চরিত্র পাবেন যা আপনাদের সামনে এগিয়ে যেতে আকর্ষিত করবে।


টিনটিন নিয়ে তো অনেক কিছু বলে ফেললাম। আমার চোখে টিনটিনকে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। এবার আপনাদের পালা। যদি টিনটিনকে জানা না হয়ে থাকে বইয়ের পাতা, সিরিজে কিংবা চলচিত্রের মাধ্যমে টিনটিনকে চট করে জেনে ফেলুন। খারাপ বইকী চমৎকার এক অভিজ্ঞতা হবে। আজ চলি। সামনে হাজির হবো নতুন কোনো ক্লাসিক ক্যারেক্টার নিয়ে। ততোদিন পর্যন্ত সুস্থ সুন্দর থাকুন।


আমি নুজহাত নাওয়াল নিটোল। বর্তমানে পড়াশোনা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। অবসর সময় কাটে বই পড়ে, অ্যানিমে দেখে এবং ইউকুলেলে বাজিয়ে। লেখালেখি শখের বসেই করা। আশা করছি আপনাদের পড়ে ভালো লাগবে।