ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

পুরস্কার বিজয়ী গল্প: সুরভিত আলো



 সাহিত্য সন্দর্শন আয়োজিত- ২য় সাহিত্য উৎসব ''ধ্রুপদ''- এর গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ক্যাটেগরীতে ২য় পুরস্কার বিজয়ী গল্প, "সুরভিত আলো", লিখেছেন -  সাদিকা ইসলাম
সুরভিত আলো

খাবারের টেবিলে বসে আছে আলো। নানান ধরনের সুস্বাদু খাবার সাজানো আছে তার সামনে। কিন্তু এই খাবাররাজির সব স্বাদই তার কাছে বিস্বাদ লাগছে। খাবার যত সুস্বাদুই হোক তেমনটি আর পাওয়া যায় না  যেমনটি পাওয়া যেত মায়ের হাতে খেলে। মুহূর্তেই আজ তার মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা।
বছরখানেক  আগের কথা~~~
আলো টেবিল চেয়ারে বসে আপন মনে কম্পিউটারে গেমস খেলছিল। তার মা পাশেই বিছানায় তার মা শুয়ে ছিলেন।আর সে কানে হেডফোন পড়ে আপশ মনে গেমস খেলছিল। তার মার ডিহাইড্রেসন ছিল।বার বার কাতর স্বরে বলছিল,
"আলো!! পানি! পানি! পানি খাব!!!
কিন্তু হেডফোন ভেদ করে কোনো শব্দই সেদিন আলোর কানে পৌঁছায়নি। কিছুক্ষণ পর সে টেবিল থেকে উঠে তার মায়ের কাছে যায় ।ডাকতে থাকে--
""আম্মু ক্ষুধা লেগেছে তো!!! খাইয়ে দাও!!""

অনেক ডাকাডাকির পরও তার মা উঠলো না। মুহূর্তেই সে অনুভব করলো তার মায়ের শরীর একদম শীতল হয়ে গেছে। নাক দিয়ে নিঃশ্বাস পড়ছে না। আলো শিহরিত হয়ে যায়। বুক তার ধরফর করতে থাকে। হৃদপিণ্ডের স্পন্দনশক্তি বেড়ে যায়। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখতে হবে তা সে ভাবেনি কখনো। ভয়ে আর কষ্টে তার চোখ দিয়ে পানিও পড়ছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মাকে শেষ দেখা দেখতে চলে আসে সবাই। আলো দূর থেকে দেখছে। তার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। তার বাবা লণ্ডন থেকে কিছুদিনের জন্য আসে। যাবার সময় আলোর জন্য নানা ধরনের দেখাশোনার মানুষ রেখে যান। সব থাকা সক্তেও তার "মা" আজ নেই। বাবাও কাছে নেই। নিঃসঙ্গতা তাকে বেশ আপন করে নিয়েছে। বুকের ভেতর একটা হাহাকার নিয়ে বড় হয় সে ।

যে গেমসে মাতাল হয়ে সে তার মাকে হারালো, সেই গেমসের দিকে আর ফিরেও তাকায় নি সে। মানুষ না হতে পারলে তার মায়ের আত্মা যে শান্তি পাবে না!
মনুষ্যত্ব কে অনুভব করতে পারে আজ সে। অনেক পরিশ্রমের পর  দেশের সবাই আজ তাকে এক নামেই চেনে। সাহিত্যের আকাশে নতুন এক ""সুরভিত আলো""।

কিছু কথা:- এমনই হয়তো আরও অনেক অজানা অচেনা  আলো লুকিয়ে আছে কোনো এক প্রান্তে, কোনো এক ভিনদেশে। যারা দুর্ভাগ্যবশত নিজের প্রিয়জনদের হারিয়ে নিঃসঙ্গতায় বেড়ে ওঠে। অনেক লড়াইকে পরাজিত করে যারা সাফল্যকে ছিনিয়ে আনে এবং তার আলোয় পৃথিবীকে আলোকিত করে।
আজকের এই প্রযুক্তির যুগে খুব কম সংখ্যক মানুষই তাদের আপনজনদের প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারে। আগে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে সবাই মিলে বেশ আড্ডা বা খেলাধুলা করা যেত। আর এখন ওয়াই ফাইয়ের অভাবে মেগাবাইট কেনা শুরু হয়ে যায়। যে করেই হোক আজ তাকে স্ট্রিম,মুভি,সিরিজ ইত্যাদি ইত্যাদি দেখতেই হবে।