মানবদেহের প্রতিরক্ষা চ্যাপ্টারটি পড়ে আমরা জানতে পেরেছি যে, প্লীহা আমাদের দেহকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন থেকে রক্ষা করে। তবে ভারতীয় উপমহাদেহের ইতিহাসে প্লীহা বা spleen এর আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় আছে।
যদি আঘাতজনিত কারণে কোনো মানুষের প্লীহা ফেটে যায়, তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে না নেয়া হলে বা ভুল চিকিৎসা হলে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু অনেকটাই অনিবার্য। এখনকার প্রযুক্তি অনেক সমৃদ্ধ, ডাক্তাররা আগের চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন। কিন্তু ব্রিটিশরাজ শাসিত ভারতবর্ষের কথা কল্পনা করুন তো? কিছু বুঝলেন?

গরিব মানুষকে চাকুরিচ্যুত করার সময় বাংলা সিনেমার অভিনেতারা হাতে পায়ে ধরে বলেন,"সাহেব, দয়া করে এই গরিব মানুষের পেটে লাথি মারবেন না"। পেটে লাথি মারার এক ঐতিহাসিক সংস্কৃতির স্মৃতি আমরা এখনো আমাদের ভাষায় বহন করে চলেছি।
আশা করি ধরতে পেরেছেন। বিশালদেহী বদমেজাজি ব্রিটিশরা একটু বিরক্ত হলেই তাদের অধীনস্ত বাদামী ভারতীয়দের পেটে সজোরে লাথি মারতেন। এই অতি পরিচিত তথা কমন ব্রিটিশ আচরণের বদৌলতে প্লীহা ফেটে যাওয়া অনেক নিরীহ ভারতীয় চাকর পরলোকগমন করেছেন।
এই স্যাডিজমের সমাপ্তি এখানে হলেই হয়তো মনে শান্তি পেতেন অনেকেই, কিন্তু না। ব্রিটিশদের লাথি খেয়ে কর্মচারীর মৃত্যু সবসময়ই ছিলো একটি "দূর্ঘটনা"। তারচেয়েও দুঃখজনক বিষয় হলো প্রচন্ড যন্ত্রনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিটির আগে কখনো ম্যালেরিয়া হলে, এই সমস্ত দোষ গিয়ে পড়তো মৃত ব্যক্তির ঘাড়ে। কারণ ম্যালেরিয়া হলে রোগীর প্লীহা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়ে যায়। সুতরাং দূর্ঘটনা বশত ব্রিটিশরাজের কর্মীটি যখন পূর্বের ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিটিকে লাথি মেরেছেন, তখন বড় প্লীহা থাকা ব্যক্তিটির প্লীহা ফেটে যাওয়ায় সমস্ত কেলেঙ্কারির সূচনা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত লেখাটি শেষ করবো Notes on Striking Natives (1903) এর কুখ্যাত একটি নোট দিয়ে।

In the middle of the hot night, the fan stops, and a man in the barrack-room, roused to desperation by heat and sleeplessness rushes forth, careless of the consequences, and kicks the fan-puller in the wrong spot, his spleen. Do you blame him? Yes and No. It depends partly on whether he stopped to put his boots on.

– Capt. Stanley de Vere Julius,
Notes on Striking Natives (1903)

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।


দোহাই,


 

আশরাফুল আলম প্রান্ত
ইতিহাসনামা.কম এর তিনজন সহ-প্রতিষ্ঠাতার একজন। অতিরিক্ত স্বপ্ন দেখতে গিয়ে সময় অপচয় করা তার মুদ্রা দোষ।