ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

পুরস্কার বিজয়ী গল্প: আমার রজনীগন্ধা


সাহিত্য সন্দর্শন আয়োজিত- ২য় সাহিত্য উৎসব ''ধ্রুপদ''- এর কবিতা প্রতিযোগিতায় সিনিয়র ক্যাটেগরীতে ২য় পুরস্কার বিজয়ী গল্প ,"আমার রজনীগন্ধা" লিখেছেন- মোঃ রাজিত চৌধুরী
আমার রজনীগন্ধা 


রজনীগন্ধা আমার খুবই পছন্দ। কাউকে একদিন রজনীগন্ধা দিব; রজনীগন্ধা দিয়ে বলব 'আমার হাতটা কি তুমি ধরবে'? কল্পনায় এই গল্পটা ভেবে রেখেছিলাম।
ঠিক মনে নেই; যতটুকু সম্ভব মে মাসের ৬ তারিখে হঠাৎ আমার বাইকের উপরে খুব সুন্দর ধবধবে সাদা পাঁচটি রজনীগন্ধা পেয়েছিলাম। কেয়ারটেকার মামাকে জিজ্ঞাসা করলে মামা বলল ফজরের নামাজের অজু করে আসার পরে সে ফুলগুলো লক্ষ্য করে। আমার রজনীগন্ধা খুবই পছন্দ, আর যেহেতু আমার বাইকের উপরে ছিল তাই সেগুলো নিয়ে আমার টেবিলের উপরে ফুলদানিতে রেখে দিলাম।
তারপরের টানা পাঁচ দিন ঠিক একই ঘটনা।
যেহেতু আমি রজনীগন্ধা পছন্দ করি তাই বিরক্ত হইনি। বিরক্ত না হলেও ব্যাপারটার একটা সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন ছিল। তাই টানা ছয় দিন রজনীগন্ধা পাওয়ার পর সপ্তম দিন ফজরের আযানের সাথে সাথে গরমের ভিতর চাদর মুড়ি দিয়ে গ্যারেজের এক কোণে লুকিয়ে পড়লাম। একটু পরেই দেখলাম রজনীগন্ধার মতই মিষ্টি; না‌ না রজনীগন্ধার চেয়েও মিষ্টি এক মেয়ে; মেয়ে বলবো? না না শুধু মেয়ে বলবো না। এক রূপসী রমণী এক মায়াবী হাসি দিয়ে আমার বাইকের উপরে পাঁচটি রজনীগন্ধা রেখে গেল।সেদিন এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলাম। আমার বাইকের যে জায়গাটায় মেয়েটার হাতের স্পর্শ লেগে ছিল সেখান থেকে আমি এমন এক মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছিলাম যা এর আগে কখনই পাইনি।
মেয়েটাকে আমি চিনি। আমাদের নিচের ফ্ল্যাটেই থাকে। মেয়েটার মাঝে যে এত মুগ্ধতা আছে এর আগে কখনও খেয়াল করিনি। সেদিন ফুলগুলো রাখতে দেখার সময় রজনীগন্ধার মতই কিভাবে জানি মেয়েটাকে ভালো লেগে গিয়েছিল। হয়তো রজনীগন্ধার থেকে অনেক বেশি।
ঔদিন বিকেলে নীল পাঞ্জাবী পড়ে সাতটি রজনীগন্ধা মেয়েটার পাশে রেখে বললাম কেউ হয়তো আমার মতই রজনীগন্ধা পছন্দ করে।
সে এক মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল -। কি বলেছিল তা আমার মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। কারণ তার হাসিটার দিকে তাকানোর সাথে সাথে পৃথিবী হঠাৎ করে যেন আমার কাছে শব্দহীন হয়ে গিয়েছিল।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম 'আপনি কি রজনীগন্ধা?'। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে লাজুক হাসি না মিষ্টি হাসি আমি জানিনা শুধু জানি অপরূপ এক হাসি দিয়ে সাতটি রজনীগন্ধা নিয়ে চলে গেল।
সেদিন রাতে আমার ঘুম আসেনি। 'রজনীগন্ধার' কথা ভেবে ভেবে সারাটা রাত কখন জানি কেটে গিয়েছিল।
পরদিন সকালে আমার বাইকের উপরে রজনীগন্ধা না পেয়ে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ভাবলাম বিকালে ছাদে গিয়ে 'রজনীগন্ধা' কে জিজ্ঞাসা করব আমার রজনীগন্ধা কোথায়?
বাসায় ঠিক তিনটার দিকে ফিরে এসেছিল। ফিরে এসে দেখি বাসার সামনে লাশবাহী একটি গাড়ি। আমি বাইক থেকে নেমে উঁকি দিয়ে ভিতরে দেখার সাথে সাথে পুরো পৃথিবী যেন গন্ধহীন হয়ে গেল,পুরো পৃথিবী যেন শব্দহীন হয়ে গেল পুরো পৃথিবী যেন রংহীন হয়ে গেল। রজনীগন্ধার মত ধবধবে সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছিল আমার 'রজনীগন্ধা'। 'রজনীগন্ধা' কে আমার আর জিজ্ঞাসা করা হলো না-'আমার রজনীগন্ধা কোথায়?'