আমি অনার্য বাঙালি, 
আমি বাংলা ভাষায়
মিশে আছি ওতপ্রোত্;
আমি গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্রের 
অবিরাম জলস্রোত।
এই বাংলায় আমি নই
কোন স্বপ্নোত্থিত আগন্তুক
এখানে আমার পূর্বপুরুষেরা 
ছিল যুগ যুগ।
আমার সুজলা-সুফলা দেহেতে
শত দুঃখ-ক্লেষ-হর্ষ;
আমি এই একবিংশ শতকে এসেছি
পেরিয়ে হাজার হাজার বর্ষ!
আমি বঙ্গ, পুণ্ড্র, রাঢ়,
হরিকেল আর সমতটের
উর্বর পলিমাটি।
আমি সভ্যতার হাজার
মাইল এসেছি হাটি।
এ মাটির পরতে পরতে
মিশে আছে,
মানব নবীর মানবতার বাণী।
এখানে ভোরের আলো ফুটে
পবিত্র আযানের ধ্বনি শুনি।
এ মাটি সর্বধর্মের মহাপূণ্যভূমি!
এ মাটি সিক্ত শত আউলিয়া-
ঋষি-সন্ন্যাসীর পদচুমি!
বুদ্ধের অহিংস বাণী
এখানে আজও প্রচারিত হয়
শত বিহার-মঠে।
এখানে আজও শঙ্খ-ঘন্টাধ্বনি
বাজে ষষ্ঠ শক্তিপীঠে!
আমি ব্রাহ্মী থেকে বাংলালিপি,
কামরূপ থেকে বাংলা;
আমি মহামতি অশোক,
শশাঙ্ক, সেন, পাল রাজা
থেকে সিরাজউদদ্দৌলা!
আমি রবীঠাকুরের 'গীতাঞ্জলী',
'শেষের কবিতা'।
আমি নজরুলের 'বিষের বাশিঁ'
আর 'বিদ্রোহী' কবিতা।
আমি দ্বিজ কানাই
এর 'মহুয়ার পালা',
কাহ্নপা এর চর্যাপদ,
আমি আরববাসী ইবনে 
বতুতার'দোজখ-ই-পুর নিয়ামত'। 
আমার তাড়িতালোকিত প্রান!
আমি লালন শাহের সুরে সুরে
গাই মনুষ্যত্বের জয়গান!
হিমগলা জলের মতোই
মম স্নিগ্ধ-কোমল প্রান!
তবুও স্বজাতির লাগি
বারেবার দিয়েছি আত্মবলিদান!
আমি বট-অশ্বত্থের ছায়াঘেরা
ক্লান্ত-শ্রান্ত দুপুর,
আবার শত্রু সম্মুখে
সেই আমিই রুদ্রকঠোর!
আমি দিগন্ত বিস্তৃত হলুদ
সরষে, সোনালী ধানের হাসি।
আমি শরতের খন্ড-বিখন্ড মেঘ
হয়ে বাংলার আকাশে ভাসি।
আমি গাজীর পটের পটচিত্র
আর বেহুলার উপাখ্যান!
আমি মঙ্গলকাব্যের অন্তরালে
মানবের জয়গান।
আমি ষাটগম্বুজের খিলানচূড়া,
ম্যানগ্রোভে জাগা শ্বাসমূল।
আমি শিতলপাটির নিপুণ বুননি,
আমি বর্ষায় ফোটা শাপলা ফুল!
আমি বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউ,
মাঘের কুজ্ঝটিকা!
বৈশাখে আমি কালবৈশাখী,
চৈত্রে বহ্নিশিখা!
আমি অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা,
আমি প্রথমা চন্দ্রাবতী!
সন্তান সম্মুখে অভয়া, আমি
মমতাময়ী, মহাসতী!
আমি শঙ্কাশূন্য সূর্যসেন,
আমি স্বাধীনচেতা তিতুমীর,
আমি ভাষার জন্যে প্রানদেয়া
ছেলে,আমি শহীদ সাত শ্রেষ্ঠবীর!
অন্যায় দেখলেই রুষে উঠি
আমি বিদ্রোহী জনগন!
আমি নীল বিদ্রোহ, ফরায়েজি
আর খিলাফত আন্দোলন!
আমি ইংরেজ-ডাচ-মারাঠা
দস্যুর লুণ্ঠনের ইতিহাস,
সভত্যার ভগ্নস্তূপের সামনে
আমি জীবন্ত এক লাশ!
আমি রক্তে লিখা ইতিহাস,
আমি একুশে ফেব্রুয়ারি।
আমি ছিনিয়ে এনেছি মুক্ত
ভেঙ্গে পরাধীনতার বেড়ি।
আমি রাখাল রাজা দিলাল,
আমি মজলুম জননেতা ভাসানী,
আমি ৭ই মার্চে জাতির
পিতার অগ্নিঝরা বাণী!
আমি ৫৭ থেকে ৭১-এ
শত বছরের লাঞ্ছনার ইতিহাস!
আমি ১৯৭১-এ মুক্তির সুবাতাস!
আমি ৫৬'হাজার বর্গমাইলে
লাল-সবুজের হাতছানি!
আমি প্রলয় নৃত্যে নেচে
উঠি যবে 'জয় বাংলা'
ধ্বনি শুনি!
বাংলায় কাঁদি, বাংলায় হাসি,
বাংলায় ভালোবাসি!
আমি অনার্য, আমি বাঙালি,
আমি বাংলাদেশী!


 

শাহরিয়ার রিফাত সরকার
আমি শাহরিয়ার রিফাত সরকার। ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অতি ক্ষুদ্র এক পাঠক। লিখতে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশমাতাকে!