ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া এক রহস্যময় সভ্যতা : আটলান্টিস - লিখেছেন - ইউসুফ হাসান

 অনেক অনেক দিন আগের কথা। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় ৩৬০ বছর আগে প্লেটো (Plato) তাঁর টাইমাউস (Timaeus) এবং ক্রিটিয়াস (Critius) রচনা দুটিতে প্রথম ”আটলান্টিস” নামের এক শহরের কথা উল্লেখ করেন। প্লেটোর মতে শহরটির অস্তিত্ব ছিল তাঁর সময়ের থেকেও অন্তত ৯ হাজার বছর আগে। সে সময়ের এ শহরটি ছিল প্রযুক্তির দিক দিয়ে এক বিস্ময়। ৯ হাজার বছর আগের তৎকালীন গোটা পৃথিবীর সবথেকে উন্নত রাষ্ট্র, যা গড়ে উঠেছিল অসাধারণ স্থাপত্যকলা, প্রযুক্তিবিদ্যা, মূল্যবান সম্পদ ও প্রাচূর্যের সমন্বয়ে।


তবে গোটা  বিশ্বের সবচে সমৃদ্ধ ও উন্নত আটলান্টিস শহরটিই হঠাৎ দেবতাদের ক্রোধের মুখে পড়ল। তারপর একদিন দেবতা জিউস (Zeus) স্বর্গের অন্যান্য দেবতাদের সাথে বসলেন আটলান্টিসবাসীদের কঠিন শিক্ষা দেওয়া জন্য। ক্রোধান্বিত দেবতা জিউসের অভিশাপে আটলান্টিস নামের শহরটি পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেল চিরতরে।

বহুবিদ্যাজ্ঞ এথেনাসিয়াস ক্রিচার (Athanasius Kircher) এর আঁকা আটলান্টিসের ম্যাপ

কি ছিল আটলান্টিসবাসীদের অপরাধ? দেবরাজ জিউস কি অভিশাপ দিয়েছিলেন তাদের? আটলান্টিসবাসীদের অন্তিম পরিণতিই বা কেমন ছিল? আদৌ কি আটলান্টিসের কোন অস্তিত্ব আমাদের পৃথিবীতে ছিল? নাকি এটি কেবলই একটি পৌরানিক উপকথা মাত্র?এই প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে আজও গবেষক, প্রত্নতত্ত্ববিদ সহ নানা শ্রেণীর মানুষ অনুসন্ধান করে চলেছেন।

আটলান্টিসের কিংবদন্তীর শুরু যেভাবে

প্লেটো তার রচনায় সমূদ্র দেবতা পসাইডনকে (Posidon) আটলান্টিস শহরের শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেবতা পসাইডনের হাত ধরেই এ বিস্ময়কর শহরটি গড়ে ওঠে। দেবতা পসাইডন তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য একটি দ্বীপের ওপর গড়ে তোলেন আটলান্টিস শহরটি। দ্বীপটির ঠিক মাঝখানে পাহাড় চূড়ায় তিনি স্ত্রীর জন্য তৈরি করেন একটি মনোরম প্রাসাদ।

শিল্পীর কল্পনায় পসাইডনের স্ত্রীর জন্য বানানো প্রাসাদ

প্লেটোর মতে আটলান্টিসবাসীরা ছিলেন দক্ষ প্রকৌশলী এবং তাদের জ্ঞান ও প্রযুক্তি সমকালীন বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে অনেক এগিয়ে । তাঁর বর্ণনা মতে আটলান্টিসের সাধারণ বাসিন্দাগণও সম্পদের দিক থেকে সাবলম্বী ছিলেন। আটলান্টিসবাসীদের ঘরবাড়ি ছিল পাথর এবং মূল্যবান ধাতু দিয়ে তৈরি। দ্বীপটির মাঝ দিয়ে খাল খনন করা ছিল যেগুলো থেকে সমূদ্রগামী জাহাজ যাতায়াত করত। প্লেটোর বর্ণনায় উঠে আসে আটলান্টিস দ্বীপটি নৈসর্গিক দৃশ্যের বর্ণনা যেখানে পাহাড়, ঝর্ণা এবং প্রসস্থ খালে ঘেরা আটলান্টিসবাসী যেন আক্ষরিক অর্থে স্বর্গেই বসবাস করতেন। খনিজ সম্পদের দিক থেকেও তারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন। সোনা, রুপা ও তামার মত মূল্যবান আকরিকের প্রাচূর্যতার বর্ণনা পাওয়া যায় প্লেটোর বর্ণনায়।

জাদুঘরে সংরক্ষিত দেবতা পসাইডনের মূর্তি 

ব্যবসা বাণিজ্য ছাড়াও কৃষিতেও আটলান্টিসবাসী ছিল স্বয়ংসস্পূর্ণ্। তারা নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালন এবং মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে তারা দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দিতেন।


দেবতা পসাইডনের অধীনে আটলান্টিসের অধিবাসীরা সুখেই বসবাস করছিলেন। সময়ের সাথে পসাইডন ১০ টি সন্তানের জন্ম দেন। তার বংশধররাই পরবর্তী কয়েক প্রজন্ম শাসন করতে থাকে আটলান্টিস দ্বীপটি।


প্রাথমিকভাবে বলা যায় আটলান্টিস ছিল একটি আদর্শ রাষ্ট্র যেখানে বাসিন্দাগণ সুখে-সমৃদ্ধে এবং শান্তিতে বসবাস করছিল। কিন্তু সময়ের সাথে আটলান্টিসের অধিবাসীদের নৈতিকতা, সৌহার্দ্য এবং সুশাসন লোপ পেতে থাকে। অন্যদিকে দূর্নীতি, লোভ এবং অন্যান্য অপরাধ আটলান্টিস শহরকে অশান্ত করে তোলে। এই অনাচারে অসন্তুষ্ট হয়ে দেবরাজ জিউস অন্যান্য দেবতাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেন আটলান্টিসবাসীকে শাস্তি দিবেন।


যেভাবে হারিয়ে গেল আটলান্টিস

প্লেটোর বর্ণনা থেকে আমরা এতোটুকু জানতে পারি যে, দেবারাজ জিউসের ক্রোধের শিকার হয়েছিল আটলান্টিস শহর। তার অভিশাপেই ধ্বংস হয়ে যায় গোটা আটলান্টিস। কিন্তু দেবতা জিউস কি অভিশাপ দিয়েছিলেনা বা আটলান্টিসবাসীদের ওপরে নেমে আসা শাস্তির বর্ণনা তার রচনায় পাওয়া যায় নি। তার রচনায় যেন হঠাৎ করে আটলান্টিস অধিবাসীদের গল্প শেষ হয়ে যায় সেই সাথে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায় গোটা সভ্যতাটি ।


শিল্পীর কল্পনায় আটলন্টিস

আটলান্টিস কিভাবে ধ্বংস হয়েছিল এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতামত হিসেবে বলা যায় যে, বেশির ভাগের মতে শহরটি সাগরের পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। অনেকেই শহরটি বাইবেলে উল্লেখিত মহাপ্লাবনে হারিয়ে যেতে পারে বলে মতামত তুলে ধরেছেন। অন্য কয়েকটি ধারণা মতে আটলান্টিস শহরটি এথেন্স এর বিপক্ষে যুদ্ধ শেষে একদিনের প্রবল প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং সমূদ্রের মাঝে হারিয়ে যায় চিরদিনের মতো।

আবার কয়েক জায়গায় সমূদ্র দেবতা পসাইডন স্বয়ং নিজে তার হাতে গড়া শহরটি সমূদ্রে ডুবিয়ে দেন বলেও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কারণ হিসেবে দেবতা পসাইডনের সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতিকে দায়ী করা হয়। জানা যায় দেবতা পসাইডন তার স্ত্রীর প্রতি কোন কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে আটলান্টিসের প্রাসাদে বন্দী করে রাখেন, এক পর্যায়ে ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি গোটা দ্বীপটিকে সমূদ্রে ডুবিয়ে দেন।

শিল্পীর কল্পনায় পসাইডনের স্ত্রী আফ্রোদিতি

আটলান্টিস শহর: বাস্তবতা নাকি কল্পনা

আদর্শ রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনা পর্যালোচনায় আটলান্টিস শহরের প্রভাব সুস্পষ্ট। টমাস ম্যুর (Tomas More) ১৬শ শতাব্দীতে ”ইউটোপিয়া” (Utopia) নামের একটি বই প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি আদর্শ রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রদান করেন। তার সেই আদর্শ রাষ্ট্র প্লেটোর আটলান্টিস শহরটি থেকেই অনুপ্রাণিত বলা যায়। পরবর্তীতে স্যার ফ্রান্সিস বেকন (Sir Fransic Bacon) “The New Atlantis” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেখানেও তিনি আদর্শ রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করেন। তাঁর মতে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রটির অবস্থান ছিলো আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের কোথাও। তাদের লেখা এ গ্রন্থ সমূহ পরবর্তীতে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন বয়ে আনার পাশাপাশি ফরাসী বিপ্লবের মত উল্লেখযোগ্য ঘটনার পেছনেও গভীর ভূমিকা রেখেছিল।

আটলান্টিস বিষয়ে অন্যতম লেখক ও গবেষক ইগ্নাতিউস ডনোলিকে (Ignatius Donnelly) একজন প্রথম সারির গবেষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তাঁর মতে আটলান্টিস সহ সকল প্রাচীন সভ্যতাগুলো প্লেটোর আটলান্টিস সভ্যতা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। ডনোলির মতে আটলান্টিস কেবল কল্পনা নয় বরং এই সভ্যাতার অস্তিত্ব আমাদের পৃথিবীতেই এক সময় ছিল। বাইবেলে বর্নিত মহাপ্লাবনে এটি ধ্বংস হয়ে যায় বলে মতবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আটলান্টিস শহরের অস্তিত্ব বাস্তবে ছিল এমন ধারণা পোষণকারী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্যতমভাবে উল্লেখযোগ্য আরেকজন হলেন রবার্ট ব্যাল্লর্ড (Robert Ballard)। সমূদ্র অভিযাত্রিক রবার্টের জীবন কেটেছে সমূদ্র গর্ভে হারিয়ে যাওয়া নানা রহস্যের সমাধান করতে। ১৯৮৫ সালে তিনি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার অভিযানে সফল হন এবং বিশ্বের দরবারে পরিচিত হয়ে ওঠেন একজন স্বনামধন্য অভিযাত্রিক হিসেবে।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকারী রবার্ট ব্যাল্লর্ড

রবার্টের মতে প্লেটো যে সভ্যতার বর্ণনা দিয়েছেন তা সত্য। আটলান্টিসের মত সভ্যতা বাস্তবে থাকা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এক্ষেত্রে তুলনা দিতে গিয়ে তিনি মায়া সভ্যতার কথা বলে থাকেন। তার মতে অনেক উন্নত সভ্যতা প্রায় রাতারাতি অগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে, বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাবার মত উধাহরণ রয়েছে আমাদের হাতে। যদিও তিনি প্রত্যক্ষভাবে আটলান্টিস শহরের অবস্থান বা সময়কালের ব্যপারে কোন স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন নি কিন্তু উল্লেখযোগ্য প্রাচীন সভ্যতাগুলোর সাথে তুলনা দেখিয়ে রবার্ট আটলান্টিসের অস্তিত্ব প্রমানের চেষ্টা করেছেন।

আটলান্টিসের অবস্থান

আটলান্টিসের অবস্থান বহু গবেষক, ঐতিহাসিক, প্রত্নতত্ববিদ এবং ভৌগলিকের জন্য গবেষণার বিষয়। অনেকেই শহরটির অস্তিত্ব এবং অবস্থান খুঁজে পেতে অকল্পনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আটলান্টিসের সম্ভাব্য অবস্থানের তালিকায় উঠে এসেছে বলিভিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, ফ্লোরিডা থেকে শুরু করে এমন কি চীনের নাম।

আটলান্টিসের অবস্থান হিসেবে যে স্থানটির কথা স্বাভাবিকভাবে সর্বপ্রথম উঠে এসেছিল সেটি হলো ভূমধ্যসাগর। প্লেটোর সময়কালে ভূমধ্যসাগরকে ভ্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বলা যেতে পারে। সে হিসেবে ভূমধ্যসাগরের কাছে বেশকিছু অঞ্চলকে আটলান্টিসের সম্ভাব্য অবস্থানের তালিকায় রাখা হয়েছিল সে সময়। তার মধ্যে ক্রীট(Crete), সার্ডিনিয়া (Sardinia), সিসিলি (Sicily), সান্তোরিনি (Santorini), সাইপ্রাস (Cyprus) এবং মাল্টা (Malta) উল্লেখযোগ্য। অনেকে ভূমধ্যসাগরের কাছে ট্রয় (Troy) নগরীকেও আটলান্টিসের সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন।

আটলান্টিসের সম্ভাব্য অবস্থানসমূহ

দ্বিতীয়ত যে স্থানটিতে আটলান্টিস শহরটি ছিল বলে অনুমান করা হয়ে থাকে সেটি হলো আটলান্টিক মহাসাগর। ২০১১ সালে প্রফেসর রিচার্ড ফ্রিউন্ড (Professor Richard Freund) দাবি করেন, তার কাছে পর্যাপ্ত প্রমান আছে যে, আটলান্টিস এর অবস্থান ছিলে আটলান্টিক মহাসাগরের আন্দালুসিয়ায় (Andalucia)। তার মতে আটলান্টিস ধ্বংস হয়েছিল একটি প্রলয়ঙ্করি সুনামিতে। তবে স্প্যানিশ বিজ্ঞানীগণ রিচার্ডের গবেষণাকে অসম্পূর্ণ বলে মতামত দেন।

অন্যদিকে জার্মান গবেষক রেইনার কুন (Rainer khune) স্পেনের ক্যাদিজ (Cadiz) নামের একটি স্থানকে আটলান্টিসের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের ধারণা আটলান্টিকের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আছে আটলান্টিসের প্রকৃত অবস্থান। সেক্ষেত্রে অনেক গবেষক ও অনুসন্ধানকারী আমেরিকার ক্যানরি (Canary) দ্বীপ এর আশেপাশে অঞ্চলে সম্ভাব্য আটলান্টিসের অবস্থান ছিল বলে মতামত তুলে ধরেছেন। অনেকে আবার আটলান্টিক থেকেই আটলান্টিস নামটি এসেছে বলে দাবী করে থাকেন।

দক্ষিণ আমেরিকার অনুন্ধানকারী ও বিজ্ঞানীদের মতে আটলান্টিস এর অবস্থান ছিল ক্যারিবিয়ানে (Caribbean)। তাদের মতে ক্যারিবিয়ানের কিউবান সানকেন (Cuban Sunken) শহরটিই হলো আটলান্টিস শহর। অনেক বিজ্ঞানীই দক্ষিণ আমেরিকার এসব অঞ্চলের সাথে প্লেটোর আটলান্টিস শহরের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন।


সমুদ্রগর্ভে কিউবান সানকেন শহর

যার লেখা থেকে আটলান্টিস শহরটি উঠে এসেছে তিনি কি ভাবতেন আটলান্টিসের অবস্থান নিয়ে। এক্ষেত্রে যদি আমরা প্লেটোর ধারণা অনুযায়ী তার দেখানো স্থান গুলোতে হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিসকে খুঁজে পেতে যায় সেক্ষেত্রে হতাশ হতে হবে। প্লেটোর দেখানো বর্ণনা মতে আটলান্টিসের অবস্থান ছিল বর্তমান সময়ের জিব্রালটার প্রণালীতে (Strait of Gibralter)। গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান চালানো হয়েছে প্লেটোর দেখানো অবস্থানগুলোতে। তবে দু:খের বিষয় হলো তার নির্দেশিত স্থানে আটলান্টিস সভ্যতার কোন চিহ্ন প্রমান পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে প্লেটো যে ধরনের স্থাপত্য ও নির্মাণের বর্ণনা তার রচনায় তুলে ধরেছেন তার নির্দেশিত স্থানে এধরণের নির্মাণ কার্যক্রম এক কথায় অসম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা তুলে ধরেছেন। কাজেই এটুকু আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে, আটলান্টিস শহরের অবস্থান আর যেখানেই হোক জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছে নয়।

মানচিত্রে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল-এর অবস্থান

একইভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (Bermuda Triangle) এর মাঝে আটলান্টিস শহরটি অবস্থিত। এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের সাথে আটলান্টিস শহরের কোন সম্পর্ক নেই।

তবে কি আটলান্টিস কেবলই কল্পনা?

আটলান্টিস কল্পনা না বাস্তব এ নিয়ে বিতর্ক আজও চলমান। আমরা নিশ্চিতভাবে এখনো পর্যন্ত আটলান্টিস শহরের অবস্থান খুঁজে বের করতে পারি নি। সেক্ষেত্রে অনেকেরই মতে আটলান্টিস কেবলই কল্পনা। প্লেটো তার দর্শন এবং শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ কাল্পনিক শহরের আশ্রয় নিয়েছেন। জ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নতির শিখরে থাকা

ইউসুফ হাসান আদিত্য
অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ইউসুফ হাসান আদিত্য ঝামেলা পাকাতে উস্তাদ। আবিষ্কার আর বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলোতে তার রয়েছে অসীম আগ্রহ।