ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

Suicide or Murder : তিন গোয়েন্দা + (প্রথম পর্ব) - লিখেছেন - ইউসুফ হাসান আদিত্য



"সাতদিন পরেই স্কুলে গ্রিষ্ম কালীন ছুটি দিবে। কি মজা,"মূসা বলল।
"এই মুহূর্তে যদি একটা কেস পেতাম।"হতাশ হওয়া কন্ঠে কিশোর বলল।
"এই ভুলে যেওনা জনের কাছ থেকে আমার নোট টা নিতে হবে।"রবিন বলল।
"জনের বাড়ি তো রকি বিচের শেষের দিকে। না হয় ফ্রেশ হয়ে পরে আসবো।"ক্লান্ত কন্ঠে মুসা বলল।
"না এখনি যেতে হবে।"রবিন বলল।
"আচ্ছা ঠিক আছে এখনি যাবো। আর কতক্ষণই বা লাগবে ২০ মিনিট। চলো মুসা"কিশোর বলল।
হেরে গিয়ে মুসা মুখ ফুলিয়ে ফেলল। এটা দেখে আমরা হেসে ফেললাম।
"চলো মুসা, গেলে কিন্তু সোডা খাওয়াবো।"লোভ দেখিয়ে রবিন বলল।
"আমি তো আগে থেকেই রাজি ছিলাম। একটু অভিনয় করলাম"বিরাট হাসি দিয়ে মুসা বলল।
"আমার মটুরামের অভিনয় তোমাকে দেওয়া উচিত ছিল।"বলে কিশোর হেসে ফেললো।
(কিশোর ছোটবেলায় মটু রামের অভিনয় করেছিল সেই থেকে বন্ধুরা থাকে মটু রাম বলে খেপায়)
"সেটা অতীতের কথা।এখন থাক।"মুসা বলল।
"এইতো আমরা এসে পড়েছি"রবিন বলল।
"টাকা দাও"মুসা বলল।
"কিসের টাকা?"রবিন একটু বোকা হয়ে বলল।
"এখন তো বোকা সাজবেই। আসার সময় কী বলেছিলে ভুলে গেছো। আসলে সোডা খাওয়াবে।"মূসা বলল।
"আচ্ছা ঠিক আছে।এই নাও।"রবিন বলল।
মুসা টাকা নিয়ে বলল"আমি এখনই আসছি।"
বলে সে সাইকেল চালিয়ে চলে গেল।
"চলো কিশোর। আমার নোটটা নিয়ে আসি।"রবিন বলল
"চলো"কিশোর বলল।
(৫ মিনিট পর)
"দাঁড়াও আমি দেখে আসছি"জন বলল।আসছি বাবা আসছি এত জোরে ধাক্কা দিতে হয় বলতে বলতে চলে গেল।
"কিশোর,রবিন।মুসা এসেছে। তোমাদের আসতে বলছে খুব জরুরী মনে হয়।"জন বলল।
"আসছি"কিশোর উঠে গেলাম।
রবিন ও তার পিছে পিছে গেল।
"তারাতাড়ি এদিকে এসো। কথা আছে"মূসা বলল।
"তাহলে আসি। আমরাতো নোট নিয়েছি। কালকে স্কুলে দেখা হবে"রবিন বলল।
"বাই"জন বলল।
মুসার কাছে আসার পরে বললাম (কিশোর)"কি হলো"।
মুসা কে দেখে খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে।
"সুইসাইড"মূসা বলল।
"কি"রবিন বলল।
"কি আমার কথা বুঝনা, আত্মহত্যা,আত্মহত্যা।"মূসা বলল।
"কোথায়? কোথায় আত্মহত্যা হয়েছে?"কিশোর বলল।
"আমার সাথে আসো"বলেই মুসা সাইকেল চালাতে থাকলো।
আমি আর রবিন তার পিছে পিছে চললাম।



দেখলাম এক জায়গায় অনেক ভির। কাছে যাওয়ার পর এক পুলিশ আমাদের আটকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু একটু দূরে ক্যাপ্টেন ইয়াং ফ্লেচার কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তিনি আমাদের দেখতে পেলেন। তিনি পুলিশকে আমাদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েদিলেন। নতুন পুলিশ মেনটা কে একটু অসন্তুষ্ট হতে দেখলাম।
ভেতরে যাওয়ার পর ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বললেন"বুঝলে কিশোর আজকাল আত্মহত্যা মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়েছে।"
"কি হয়েছে স্যার।"কিশোর বলল।
"কি আর হবে।৮ তলা উঁচু বিল্ডিং থেকে লাফ মেরেছে।"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
"কি হল কিশোর এত মনোযোগ দিয়ে কি ভাবছো।"রবিন বলল।
"না ভাবছি এটা মার্ডার না কি সুইসাইড।"ঠোঁটে চিমটি কাটতে কাটতে গম্ভীর হয়ে কিশোর বলল।
রবিন চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল"তুমি কি ভাবছো এটা মার্ডার।"
"আমি যদি মতদেই স্যার তবে এটা মার্ডার।"কিশোর বলল।
"তোমার কাছে কী প্রমাণ আছে?"ক্যাপ্টেন ইয়াং ফ্লেচার বলল।
"স্যার, আপনি যদি ভাল করে পায়ের দিকে খেয়াল করেন। দেখবেন পায়ের প্রত্যেকটা নখের মধ্যে নেলপালিশ আছে। কিন্তু একটার মধ্যে  নেলপালিশ করার নেই। সে যদি সুসাইড করেই থাকে তাহলে নেলপালিশ কেন দেবে।"কিশোর বলল।
ক্যাপ্টেন ফ্লেচার আবার সাদা কাপড়ে ঢাকা লাশটার দিকে তাকালেন এবং একটুখানি বের হয়ে থাকা পাটা দেখলেন।
তিনি বললেন"তার মনের অবস্থা হয়তো খারাপ ছিল তাই শেষ নখে রং লাগাইনি।"
"তাহলে স্যার আমার এই কথার উত্তর দিন তো কোনদিন দেখেছেন নেলপালিশ দিয়ে কেউ সুইসাইড করে?"কিশোর বলল।
ক্যাপ্টেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। এবং ভেবে বলল"না এরকম কখনো দেখিনি?"
"আমি কি একটু মুখটা দেখতে পারি"কিশোর বলল।
"এরকম তো আমাদের কোনো নিয়ম নেই তাও তুমি যখন বলছ একটুখানি দেখাবো।"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
মুখটা দেখার সাথে সাথে রবিন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। রবিন বলল"কিশোর তুমি এটা দেখছো কিভাবে?"
"কেস এর খাতিরে দেখতেই তো হবে। সেটা যতই খারাপ হোক না কেন।"কিশোর বলল।
"হয়েছে আর দেখাতে পারব না, দুঃখিত"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
"এটাই যথেষ্ট স্যার, আপনি নিশ্চয়ই মুখটা দেখেছেন মুখের এক পাশের মেকআপ করা আছে। আরেক পাশে তো বোঝাই যাচ্ছে না।"কিশোর বলল।
"এমনও হতে পারে বাইরে ছিল এবং বাইরে থেকে ঘরে এসে সুইসাইড করেছে?"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
"স্যার এই ভদ্রমহিলা যদি বাইরে থেকে এসে সুইসাইড করেন তাহলে এক পায়ে নেলপিলিশ কেন দিল না?"কিশোর বলল।
"তার হয়তো মনে ছিল না?"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
"আপনি নিশ্চয়ই জানেন অনেক মেয়েরা মেকআপের দিকে খুব খেয়াল রাখে। ভদ্রমহিলা যদি মেকআপ করেই বাইরে যায় তাহলে নিশ্চয়ই সব আঙ্গুলেই নেলপালিশ দিয়ে যাবে। আর বড় কথা হলো সে যদি সুইসাইড করার প্লেন করেই থাকে তাহলে মেকআপ করে কেন বাইরে বের হতে গেল? তার কাছে তো আরো অনেক অপশন ছিলো কিন্তু সে কেন লাফই দিলো....."কিশোর কথা শেষ করতে যাবে ওই সময় সেই অফিসার যে তাদেরকে আটকে ছিল সে এসে বলল অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছে। পোস্টমর্টেম করাতে নিয়ে যাওয়া হবে। অফিসার কিশোরের দিকে এমনভাবে তাকাল যেন পারলে এখনই এখান থেকে তাড়িয়ে দিত।
"ঠিক আছে কালকে তোমরা একবার থানায় এসো। সেখানেই কথা হবে না হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখি আজকে পাওয়ার চেষ্টা করব।পরে তোমাকে সব জানাবো"ক্যাপ্টেন ফ্লেচার বলল।
বলে তিনি অন্য অফিসারদের আদেশ দিতে লাগলেন। ‌ খুব তাড়াতাড়ি ভীড় কমে গেল। লাশটাকে নিয়ে চলে গেল। সবার শেষে আমরাই গেলাম।
সাইকেল চালাতে চালাতে কিশোর বলল"নতুন অফিসার কে দেখলে কেমন ভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।"
কিশোর বলল।
"দেখেছি। কেরকম শীতল চোখে তাকিয়ে ছিল।"হালকা শিউরে উঠল মুসা।
রবিন হেসে বলল"তুমি আবার নতুন অফিসার কে ভূত ভেবে বোসো না।"বলেই হাসতে লাগল।
"এ জন্যই ভালো লাগেনা। ভূতে ভয় পাই রেখে সবকিছুকে কি ভূত ভাববো।"বলেই মুসা অন্য দিকে তাকিয়ে গেল।
"আচ্ছা বাবা আচ্ছা এত রাগ করতে হবে না।"বলে রবিন আবার হাসতে থাকলো।
"কি হল কিশোর এত চুপচাপ কেন?"মুসা বলল।
"না ভাবছি,নতুন একটা কেস পেয়ে গেলাম গ্রীস্মের বন্ধের আগেই।"কিশোর বলল।
"ভেবেছিলাম এই বন্ধে ছুটি কাটাব তা না শার্লক হোমসের মত খালি কেস খুঁজে বেড়ায়।"একটু রেগে গিয়ে মুসা বলল।
"এমনও হতে পারে এই কেসের জন্য এই দেশ ছাড়তে হতে পারে।"কিশোর বলল।
"ও,তুমি ঠিক করে ফেলেছ এই কেস নিবে।"রবিন বলল।
"কিশোর পাশের কাছে রহস্য আসবে আর সেই রহস্য সমাধান করবে না অসম্ভব।"কিশোর বলল।
"আমি বাপু এবার ছুটি কাটাব তোমরা যা ইচ্ছা তা করো"মুসা বলল।
"আমি কিন্তু কিশোরের সাথে।"রবিন বলল।
"হ্যাঁ এখন তো সবাই চলে যাবে কিশোরের সাথে। পরে আমায় একা একা মজা করতে হবে। কি আর করব তোমার সাথে যেতে হবে।"মুসা বলল।
"এই না হলে আমাদের সাহসী মুসা আমান।"কিশোর বলল।
"হয়েছে হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।"মূসা বলল।
"হেডকোয়ার্টারে দেখা হবে।"বলেই তিনজনের তিন দিকে চলে গেল।


 

ইউসুফ হাসান আদিত্য
অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ইউসুফ হাসান আদিত্য ঝামেলা পাকাতে উস্তাদ। আবিষ্কার আর বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলোতে তার রয়েছে অসীম আগ্রহ।