ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

রাত্রির বিয়ে - লিখেছেন - আব্দুল্লাহ আল রায়হান


"I have really nothing to do." এটাই ছিল রাত্রির শেষ ভাষ্য।কতগুলো জোৎস্না পূর্ণিমা চন্দ্রময় সময়ের বিবর্তনের অবসান ঘটিয়ে আমার জীবনের এই অমাবস্য। রাত্রির ও হয়তো কষ্ট হচ্ছিল খুব।বুকে চওড়া অভিমান জমে গেছিল রাত্রির।হয়তো কিছু করার ছিলো না।

" বিয়ে করবেন আমায়? সারা জীবনের জন্যই আমি আপনার "
তাদের সম্পর্কের বৈধতা টানতে সেদিন রাত্রি এই উক্তিটি করেছিল। রবি খুবই লাজুক ছেলে। সুতরাং বাকি আট-দশজন যতটুকো লজ্জা পাবার কথা মেসেজটি দেখে রবি তার চেয়ে একটু বেশিই লজ্জা পেল।শুধু এই না রবি যতটুকু লজ্জা পেল তার বহুগুন আনন্দিত হলো।প্রিয় মানুষের প্রিয় দুটো চরন আনন্দিত না হয়ে যাবে কই??কিন্তু নিমিষেই মিশে গেল সে আনন্দ কালো রাত্রির খামে।কারন কথাটি বলা যতোটা  সহজ ছিল করা টা ততো বেশি কঠিন। তাদের সামনে সমাজ এক বিশাল প্রাচীর।রবির - রাত্রির  অবস্হাস, বয়স ইত্যাদি সমাজের চোখে উক্তিটি পুরোনে বিদ্বেষের বিস্বাদের বিষবাষ্প।এখানকার সমাজবাস্তবতা উল্টো।এমনটি রাত্রির ও ধারনা।তবে রবির জবাব ছিল
         'তোমার হাতটি ধরে 
         সূচিব এক নব দিগন্ত
  সমাজ থাকুক সমাজের দ্বোরে
      বৈধতায় আঁকবো জীবন্ত"  
কতো সুন্দর দুজন দুজনা স্বাপ্নিক  প্ল্যান আবেগাঙ্ক নিয়ে কথা বলতো ।কিন্তু কি এমন অচেনা অন্ধ্যালোক দ্যুতি রাত্রির মনে অভিমানের ফলন দিল।আবার সেই ফলন ও বারংবার বৃদ্ধি পাচ্চিল।তা রবির একেবারেই অজানা। 
এতোটুকু হয়তো মানার মতো। কিন্তু রবির সময় টা কাল হয়ে এলো রবির এডমিশন মৌসুমে। রাত্রির বিয়ে!!!রাত্রি বিয়েতে রাজি হয়ে গেল??তাও আবার রবির জীবনের টার্নিং মোমেন্টাম সময়ে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার তিন দিন আগে রবি জানতে পারে রাত্রির বিয়ে হয়ে গেছে!প্রচন্ড ভেঙে পড়ে রবি।রবির ইহকালীন পরকালীন স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাত্রি শশ্বুর বাড়ি গমন।এ বিদায় মানার মতোন না। এক কথায় রাত্রি ক্ষমার অযোগ্য! 
প্রচন্ড অভিমান মনে জড়ো করে পড়তে বসলো রবি।কেমিস্ট্রি বই খুলতেই বেরিয়ে পড়লো একটা খাম।খামের ভেতর একটা চিঠি।যেটা রবির রাত্রির জন্য লেখা শেষ চিঠি।যা আদৌ রাত্রিকে দিতে পারেনি রবি।

"প্রিয় রাত্রি! 
মোমের নিভু নিভু আলোয় বসে তোমাকে লিখছি।জানি তুমি খুব চিন্তিত।বাসা থেকে বিয়ের প্রেসার দিচ্চে।তুমি চিন্তা করো না। কিছুদিন পর আমার ভর্তি পরীক্ষা। জীবনের স্বাক্ষর  রাখতে পারবো এমন কিছু অপেক্ষা করচে।ইনশাআল্লাহ, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।২য় বর্ষে উঠেই ফ্যামিলিতে তোমার কথা জানাবো।ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডে গেলে উভয় পরিবার মানতেও পারে।মোমের নিভু নিভু আলো স্ফুলিঙ্গের মতো ছোটছোট আশা নিয়ে হলেও আমি তোমার অপেক্ষার প্রহর গুনছি । তুমি শুধু দোয়া করো; পাশে থেকো। বড্ড ভালোবাসি তোমায় "

বাকি আট-দশটা ছেলের মতো রবি-রাত্রি রিলেশনে জড়িয়েছিল বছর তিনেক আগে।ভাঙা গড়ার দুনিয়ায় রবি-রাত্রির সম্পর্ক টা তখনো টিকে ছিল।তারা তাদের রিলেশনটায় পূর্ণতা দিতে চেয়েছিল।

রাত্রি নাকি  বেশ জমিয়ে সংসারধর্ম পালন করছে।কিন্তু ঘরের এককোণে নিকোটিন দ্বারা ধর্ষিত রবি জীবনের সাথে লড়াই করে যাচ্ছিল একা একা।কীভাবে এ  ধাক্কা থেকে সরে এসে নিজেকে প্রস্তুত করবে?  স্বপ্ন  পূরণ করবে?মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবে? এলাকার বাসির আশার পাত্র হয়ে বাচবে?যখন প্রশ্ন গুলোর কোনো উত্তর পাচ্ছিল না তখন পুরো রুম ও তার স্বপ্নগুলো  নিকোটিন দ্বারা ধর্ষিত হতে লাগলো। ডজনের পর ডজন নিকোটিনের ইতি ।

এভাবেই দুদিন কেঁটে গিয়ে পরীক্ষার দিন এসে কঁড়া নাড়লো দরজায় ।শরীরের খুব বাজে অবস্হা।এক্সাম হলে প্রবেশ করলো রবি। আনসার শিটের উপর ভেঁসে উঠলো রাত্রির চাঁদমাখা নিষ্পাপ মুখখানা।চোখ টলমল করতে লাগলো রবির।অশ্রুজলে ভেসে গেলো শরীর! ভেসে উঠলো সেই কাঁশবন, সেই ভালোবাসার নিঝুম ;নিঝুম দ্বীপ, সেই সমুদ্র তীরের ঢেউ! নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। আর ভাবছিল রাত্রির একটু অনুপ্রেণায় আমিই হয়তো ফার্স্ট হতাম। এতোদিনের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন।সব মিলিয়ে  সেন্সলেস হয়ে পড়লো রবি।তারপর??



তারপর নোকিয়া ফোনের চিরপরিচিত রিংটনে ঘুম ভেঙে গেল রবির। রাত্রির ফোন! বিশটা মিসড কল।প্রতি রাতেই এক আঁধটু জগড়া হয় রবি-রাত্রির। Thanks God! এটা স্বপ্ন ছিল। তার মানে রাত্রি এখনো রবির আছে? স্বপ্ন গুলো আশা হয়ে এখনো বেঁচে আচে?  স্বপ্ন স্বপ্ন কিংবা বাস্তবতাকে স্বপ্ন করে নিক বা না নিক রাত্রি রবিকে ছেড়ে কখনোই যাবে এটা রবির দৃঢ় বিশ্বাস।আর এ বিশ্বাসের সাথে প্রার্থনা মিলাক বাস্তবতায় আর দুজন-দুজনার হোক এই কামনা।


 


আব্দুল্লাহ আল রায়হান
আমি সরকারি বিজ্ঞান কলেজের একাদশ শ্রেণীর একজন স্টুডেন্ট।রম্য কাব্যিক ভাষায় হলেও জৈবযৌগে একটু খানি স্বস্তি ফিরে আসুক। এই উদ্দেশ্য