ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

প্রতিক্ষিয়মান বাসনা - লিখেছেন - মোঃ আরমান তালুকদার



বাসনা কি ? 

বাসনা হইলো ফুলের সুবাসের মতো যাহা পাইলে মানুষের মন প্রশান্ত হইয়া যায় । মানুষের উক্ত বাসনা যখন মন্দ হয় তখন সে  জন্য এক ক্ষুদাথ হিংস্র সিংহ হইয়া উঠে যাহাকে দমাইতে না পারিলে আমাদের জন্য অনিবার্য এক লোকসান । যখন বাসনা মন্দ হয় তখন তাহা আর পুষ্পের সৌরভ রহে ,তবে  তাহা তখন টইটান আরুমের মত ফুলের বিশ্রী গন্ধে রুপ নেয় । অথচ তাহারা তাকেই পুষ্পের সৌরভ মনে করিয়া এই বিশ্রী  গন্ধকে পাইবার জন্য কি ভয়ানক আকুতি ও প্রচেষ্টা । আর অবস্থান করে এক মন্দ ভাবনায়  । আজকে যত সব পাপ এই ধরণীতে সংগঠিত হয় তার মুলে রয়েছে মন্দ বাসনা। উদ্ভিদ ফুল ফল সূচনা করিয়া  উপনীত হয় তাহার পরে ইহা সুপ্ত অবস্থা ধারন করিয়া থাকে উক্ত অবস্থায় ইহা স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত রহে । তাহার পরেও সুপ্তুাবস্থা ভঙ্গ করিয়া ফুল ফলের সূচনা করে । মানবজীবন টা অনেকটা উদ্ভিদের মতন । সাধারনত মানুষ যখন কোন অসুস্থতায়  ভুগিতে থাকে  তখন তাহার সেই কুৎসিত বাসনা কারপুরের মতো উড়িয়া যায় । তাহার মধ্যে সকল ভাল গুন ভূমিকম্পের মতন হঠাৎই জাগিয়া উঠে । 

মোদের এই মুমুষ লুপ্তপ্রায় ধরণীর আজও অস্তিত্ব রহিয়াছে । কিছু কিছু অপ্রতুল মানুষকে লইয়া বর্তমান অবস্থার উন্নতি আনা কঠিন হইতে কঠিন তর । তবে সকলে প্রচেষ্টা করিলে কোন কিছু অসম্ভব নয়। তবে সেই অপ্রতুল লোকদের করিতে হইবে কঠোর সাধনা । অদ্য ভোরবেলা ঘর থেকে হাঁটিতে বাহির হইয়া রাস্তার পার্শে ওইসব ছিন্নমূল লোকদের দিকে তাকাইলে ভারি কষ্ট লাগে । এমন মুহুত্তখনে কাঁদিবার এক আওয়াজ শ্রবন করিতে পাহিলাম । চারিপাশে পরখ করিয়া এক নিষ্পাপ শিশুকে কাদিতে দেখিলাম, তাহার পাশে তাহারই বড় বোন কাঁদা থামাইবার জন্য কতই না আকুল হইয়া উঠিয়াছে, আর কতইনা প্রচেষ্টা । জিজ্ঞাসা করিয়া অবগত হইলাম  ,এই বাচ্চাটি ক্ষুধায়  কাদিতেছে । ইহাতো প্রতিদিনের জীবনের চিরচেনা ঘটনা । তথাপি আমার বুকের  কোথাও বেদনা অনুভব করিলাম । ইহা যেন এক যন্ত্রণা যাহা বক্ষের এক কোনে থেকে পুরো বক্ষ গ্রাস করিয়া ফেলিতেছে ।

 আহা কতো বীর তাহার প্রান অঞ্জলি দিয়া দিলো স্বাধীনতার জন্য । এই অশ্রুঝরা স্বাধীনতা তাহারা কিসের জন্য চাহিয়াছে ? এই বাংলাকে সোনার বাংলা হিসাবে দেখিবার আকাঙ্ক্ষায় যেখানে রহিবে না কোন অশ্রু, তবে কি ইহাই সোনার বাংলা ? যেখানে ভবিষ্যতের কর্ণধার কাঁদিতেছে সামান্য খাদ্যের অভাবে । তাহা হইলেতো সেসব আত্মত্যাগী যোদ্ধাদের সাথে মোরা করিতেছি প্রতারনা । ইহা শুধু পাপই নয় মহাপাপ!! 

যেখানে একদিকে শিশু খাদ্যের অভাবে কাঁদিতেছে অপর দিকে এক স্বার্থপর ধনবান ব্যাক্তি তাহার পোষা কুকুরকে খাওয়ানোর জন্য ব্যাস্ত ।  তাহাদের এই আচরনের কারন জানিতে চাহিলে তাহারা "জীবে দয়া"  নামক ত্রুটিপুণ্য যুক্তি দেখাইয়া থাকে ।  অথচ যখন এক ক্ষুধাত তাহার কাছে সামান্য আহারের আশায় হাত পাতিয়া থাকে তখন তাহাকে মুখ ভেংচানি দিয়া, গলা ধাক্কা দিয়া বাহির করিয়া দেয় ।  ইহাই হয়তো তাহার সত্যিকারের জীবপ্রেম । আজই এই ধরণী থেকে হারাইয়া যাইতেছে বিশ্বাস , ভালোবাসা , সহানুভূতি । আমায় এইসব ভাবনা তাড়া করিয়া বেড়ায় । সামান্য শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারি না ,নয়নের পাতা মিলাইতে পারি না । এই বাংলার জন্য কিছু করিতে ইচ্ছা করে , জানিনে কতোদিন থাকিতে হবে আর অতন্দ্র । এই যন্ত্রণা মৃত্যু থেকেও কঠিন । তাইতো প্রভুর কাছে বলি  , "হে প্রভু!! কেন  মোরে পাঠাইয়াছো  রিক্ত করে ? 

 কিছু করিবার জন্য বুকে দিও বল, নাহিলে উঠাইয়া লও মোরে ।" 

আমি জানিনা সময়ের বাকে কখন ধরা দিবে সেই রঙিন সময় । অতন্দ্র চোখ তাকাইয়া আছে সেই সময় দেখিবার জন্য । হয়তোবা সেই দিন আমি আকাশের কোন কোনে থেকে দেখিব ঝলমলে তারা হয়ে । হয়তোবা আমি হইব সেই রঙিন সময়ের অংশীদার । রঙিন সময়ের সেই সকল অংশীদার হয়তো অচিনপুরের সেই খেয়াঘাঁটের মাঝি । যাহারা মোদের লইয়া যাইবে সেই স্বপ্নের রাজ্যে । সেই রাজ্যে রহিবে না কোন দুঃখ দুর্দশা , ইহাই মোর বাসনা। 

 

মোঃ আরমান তালুকদার
শ্রেণিঃ ৮ম
মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় , মতিঝিল, ঢাকা -১০০০
পড়াশুনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লেখা-লেখি করার প্রয়াস।
E-Mail :armantalukder.cc@gmail.com