ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

অজানা এক ভালোবাসা - লিখেছেন - মোহাম্মদ নাসিম


রাস্তার ফুটপাতে আপোন মনে সিগারেট টানছে সুভ্র।ল্যাম্প পোষ্টের নিভু নিভু আলো তার মনের অন্ধকার যেনো আরো বারিয়ে তুলেছে।অন্ধকার ভেদ করে মুখের সামনে একটি হাত উপস্থিত,ভাইয়া একটু সাহায্য করেন।সুভ্র তাকিয়ে দেখলো ৭-৮ বছরের  এক মেয়ে তার জীর্ণ হাত তার দিকে বারিয়ে আর্তনাদের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।সিগারেটে টান দিতে দিতেই হাতের ইশারায় চলে যেতে বললো।দেন না ভাইয়া,অসুধ কিনবো।আধ টান অবস্থায় মুখ ঘুরিয়ে তাকালো সুভ্র।মেয়েটা সেই একই ভংগিমায় তার দিয়ে চেয়ে আছে।আধ খাওয়া সিগারেটটা মাটিতে ফেলে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"অসুধ?"ছোড বইনডার মেলা জ্বর, ৩ দিন ধইরা,অসুধ কিনমু টাহা নাই।সারা দিন ভিক্ষা কইরা কিছু টাহা পাইছি হেইয়া দিয়া অসুধ কিনলে....

অসুধ কিনলে কি?অসুধ কিনলে চাইল কিনতে পারমু না।আম্মায় সকালেই কইয়া দিছে চাইল নাই।তোর নাম কিরে? একগাল হেশে উত্তর এলো সুমনা।অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুভ্র।তোমার ছোটবোন আম্মু কোথায়?একটু থেমে থেকে উত্তর এলো বাড়িতে। বাড়ি কই তোমাদের?আমাগো বাড়ি নাই,রাস্তায় রাস্তায় থাকি ফুটপাতে। অহন আছি শহীদ মিনারে।চলো...উঠে দাড়ালো সুভ্র,হাটতে শুরু করলো মেয়েটাকে নিয়ে।রাস্তায় যেয়ে যেতে টুকি টাকি দুই একটা প্রশ্ন আর মেয়েটার মুখ ভরা সব উত্তর। মেয়েটার কথা বলার ভংগিমায় একটা মায়া আছে,এই মায়াই বোধয় টেনে নিয়ে যাচ্ছে সুভ্রকে।শহীদ মিনারে যেয়ে দেখলো প্লাস্টিকের উপরে শুয়ে আছে ছোট একটি শিশু।সাথে সাথেই বয়স ৩০-৩২ এর এক মহিলা ছুটে আসলো।সুমনাকে উদ্দেশ্য করে বললো কিরে মা কিছু আনছিস?হাত বারিয়ে মোড়ানো টাকা গুলো মায়ের দিকে একিয়ে দিতে দিতে বললো ১৩৭ টাহা।সুভ্রর দৃষ্টি মাটিতে থাকা শিশুর দিকে।গায়ে হাত দিতেই বুঝতে পারলো হ্যা বেশ ভালো পরিমাণেই জ্বর আছে।৩ দিনের জ্বর যেনো সব শক্তি শুষে নিয়েছে ওর শরীর থেকে।মা মেয়ের কথার ভিতরেই বলে উঠলো একে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।তাচ্ছিল্যের এক হাশি হেশে উত্তর আসলো টাহা কই পামু সাহেব।মায়ের দিকে তাকালো সুভ্র,সুমনার দেওয়া টাকা গোনায় ব্যাস্ত।খুচরা টাকা গুলো হাতে দিয়ে সুমনাকে বললো এক কেজি চাল নিয়ায় দেহি।

সুমনাও যাবার জন্য ঘুরে দারাতেই সুভ্র সুমনার হাত ধরে বসলো।বললো আগে তোমার বোনকে হাসপাতালে নেই চলো।পরে খাওয়া দাওয়া দেখা যাবে।বলতে বলতে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিয়েছে সুভ্র।ঢাকা মেডিকেলে যেয়ে পা ফেলার যায়গা টুকু পাচ্ছিলো না তারা।এর ভিতর থেকেই কোন ভাবে রক্ত পরিক্ষা করালো সুভ্র।এবং প্রাথমিক পরিক্ষাতেই ধরা পরেছে সুমনার বোন ডেংগুতে আক্রান্ত। আরো কিছু পরিক্ষা নীরিক্ষা করার পর ডাক্তার বললো একে ইমারজেন্সি icu তে ভর্তি করেন।রোগী খুবই দুর্বল,জ্বরে এতোটাই কাহিল হয়েছে যে শ্বাসটুকু পর্যন্ত টেনে নিতে পারছে না।ঢাকা মেডিকেলে জায়গা নেই।সুভ্র বর্তমান পরিস্থিতি জানে।ডেংগুর মহামারীতে সব হাসপাতাল পরিপূর্ণ। কথা না বারিয়ে চলে গেলো এক প্রাইভেট হাসপাতালে।ভর্তি হলো সুমনার বোন।চিকিৎসা চলছে,রক্ত অসুধ সব জোগাড় করে শান্ত ভাবে দাড়াতে দাড়াতে সুভ্র দেখলো রাত ২ টা বাজে।রুমের বাইরেই দরজার পাশে হেলান দিয়ে দারিয়ে আছে সে।বেঞ্চে বসে আছে সুমনা আর তার মা।এতো সব কাজের ফাকে সুভ্র ভুলেই গেছে যে তার প্রিয় মানুষটি তাকে ভুল বুঝে বসে আছে।ফোন বের করলো,ডায়েল প্যাডের উপরেই নাম্বার ভাসছে। এক মুহুর্ত তাকিয়ে থেকে ফিরে তাকালো সুমনার দিকে,অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুমনা।ফোন পকেটে রেখে খাবারের জন্য ছুটলো সে.........


 

মোহাম্মদ নাসিম
যান্ত্রিক শহরকে ভবঘুরে চোখে দেখা আমি,খুজে বেড়াই সকলের সামনে থাকা অবহেলিত দৃশ্যের বর্ণন।