ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

রম্য কবিতা: নায়েব আলী আখ্যান - লিখেছেন - বিনিয়ামীন পিয়াস



নায়েব আলী পোদ্দার
বাড়ি সাটুরিয়া

ইলিশে এলার্জি তার
খায় তেলাপিয়া!
বাড়ি ভরা বউ তার
ঘর ভরা ছেলে
দুই ছেলে চুরি করে
বাস করে জেলে।
বড় বউ করিমন
মেজবউ লতা
বাকিগুলো ঠিকমতো 
কয় নাতো কথা।
নায়েব আলী দুঃখে
যায় বনবাসে
দুই বউ কাঁদে তার
বাকিগুলো হাসে।
বনবাসে গিয়ে তাঁর 
মনে লাগে সুখ
একা একা থাকে ভালো
কিসের অসুখ।
করিমন, লতা মিলে
কাঁদে গলা ধরে
স্বামীর পিরিতি বুঝি
গেল চিরতরে।
বহু ভেবে অবশেষে
তারা দিলো পাড়ি
বনবাসে যাবে তারা
চেনা গৃহ ছাড়ি।
নসিবে থাকলে পাবে
দেখা নায়েবের
বনবাসে তবে হবে
সংসার ফের।
কপালে তাদের লেখা
ছিলো ভিন্নকিছু
খানিক বাদেই এক
বাঘ নিলো পিছু!
এইবার যাবে কোথা
লতা-করিমন
গুহায় আশ্র‍য় নিলো
বাঁচাতে জীবন।
সে গুহায় ধ্যান করে
এক সাধুবাবা
জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব তার
আসলে সে হাবা।
শুনে দুঃখের কথা
হাসলেন সাধু
এইবার মা জননী
দেখো মোর জাদু।
ভুংচুং মন্ত্র জপে
দিলেন এক ফুঁ 
চুল তার গেলো উড়ে
মাথা শুন্য ধু ধু!
হায় হায় করে হাক 
দিলো করিমন,
ওরে লতা, পেয়ে গেছি
পরম রতন।
সাধুবাবা নয় এতো
নায়েব পোদ্দার,
বেশভূষা সেজে আছে
কি চমৎকার! 
সাধুবাবা ফেঁসে গেলো
নিজ জাদু জোরে
দুই দিকে দুই নারী
টানে বাহু ধরে।
এইদিকে নায়েবের
এ কেমন হাল!
শরীরে রুক্ষ বসন 
শুন্য চোয়াল!
কোথায় কি পাল্টালো
বুঝলো না কেউ,
নায়েব আলী সাধু হলো,
সাধু পেলো বউ!

 

বিনিয়ামীন পিয়াস
বিনিয়ামীন পিয়াস। পড়াশোনা করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। ফিজিক্সের খটমটে সূত্রগুলোকে কাব্যিক ছন্দে লেখার স্বপ্ন দেখি। একদিন হয়ত আপেক্ষিকতার সূত্রকে বিদ্রোহী কবিতার মত লিখে ফেলবো।