ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

ভাবনার কাষ্ঠে যৌবন - লিখেছেন - মোবারক ইবনে মনির



 ১.

আজকের চাঁদটার মত জীবনটাকেও উজ্বল আলোকিত করতে চাই। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।  সত্যিকারের একজন মানুষ হিসেবে। জীবনের হাসি খেলার রং একসময় মিইয়ে যাবে। আমি থাকবোনা ভাবতেই শিহরিত হই। আহা! কত সংক্ষিপ্ত এ জীবনকাল। তার উপর কত গৌরব!
কত জনের মুখে হাসি ফুটাতে হয়। আহার,বস্ত্র, বাসস্থান থাকতে হয়।
পুরুষ হয়েছি।
এই পুরুষ  শব্দটাই তো বলে দেয় তার জীবন, সংসার, আহার, মৈথুন, ধন,গৌরব ও ভবিষ্যৎ।  
এই আমি একলা এক চাঁদের নিচে ছোট এক সিঙ্গেল বেঞ্চিতে বসে আছি। মৃদু বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ভাবছি।  শুধু আমি একা না। আমার মত শত লক্ষ যুবক ভাবছে। তারাও কিছু করতে চায়। পেরে উঠে পারে না। বাস্তবতার শিকার।  সে খুব নিষ্ঠুর বাস্তবতা। সে কাওকে ভালোবাসে না। সে কোন নারী না। যাকে পটিয়ে জীবনসঙ্গী বানিয়ে রাখা যাবে।
সে করো আপন না। ওর কোন আত্মীয় নাই।
ও তাকেই চিনে যার জ্ঞান-গরিমা,টাকা,ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ী,জমি-জমা আছে।
আমার ও আমাদের কি আছে? যা আছে তা থাকতেও নেই। সিনেমার মত জীবন নেই। নেই জীবনের সুন্দর পরিসমাপ্তি। কিংবা শুরু।
এই বাস্তবতার সন্ধানে নিজেকে হারিয়ে ভুলে গেছি পরিচয়। কেউ জিঙ্গেস করলে বলি, গরীব,দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত। এই তো কত চমৎকার পরিচয় পত্র!
বাবা, দাদা, আত্মীয় স্বজনদের পরিচয়ে পরিচিত হতে লজ্বায় নি:শেষ হয়ে যাই। কারন মানুষ বলবে, তোমার বাবা, দাদা তো ভালো ব্যাক্তি ছিলেন।  তো তুমি এমন অকাম্য কেন...?? বেকার ঘুরে বেড়াও...।
আহা! কি মধুর বাণী!
হ্যা, এটাও আমাদের কপাল??
দোষ কাকে দিবে বলো??
পুঁজিবাদকে??... হাসি।
সে তো বলবে, তুমি তো হিংসুক। নিজে ধনী হতে না পেরে অন্যের ভালো দেখে হিংসায় জ্বলছো..!


২.

নিজের জীবনটাকে অভিশাপ মনে করে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। চির মুক্তির জন্য।
আসলেই কি সে মুক্তি পেয়ে যায়! না আরো এক অভিশাপ ইহকাল ও পরকালকে কলুষিত করে!
হয়ত সে বিদায় নেয়! কিন্তু তার রেখে যাওয়া সংসার সহস্র অভিমান নিয়ে আগামীর পথে পা বাড়ায়। তখন জগতের কোন মায় তাদেরকে মোহাবিষ্ট করে না। চরম হিংস্রতার রূপ ধারণ করে ঘুরে বেড়ায়। সমাজে অনিয়ম, উশৃঙ্খলা দেখা দেয়া। মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে একদল নরপশু। যার নিজেদের আয়েশের জন্য পাপমুক্তি চায়। বিতাড়িত করতে উদ্যত হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী। পাহাড়সম বোঝা ঘাড়ে চাপিয়ে দমিয়ে রাখতে চায় তাদেরকে।
কখনো পেরে ওঠে। কখনো বিদ্রোহে অনলে দগ্ধ হয় সামাজিক ও পারিবারিক জীবন। কখনো ব্যর্থ মনোরথে কপাল চাপড়ায়!
গড়ে ওঠে নতুন জীবন। ক্ষণকালের জন্য। জাতি আবারো দেখতে পায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।


৩.

আর কি বলবো??
আর কি বা করবো??
চাঁদ দেখবো, জোছনা মাখবো, বাতাস খাবো, জলে ভাসবো, রাস্তা দিয়ে হাটবো, এটাই তো আমাদের স্বাধীনতা, এটাই আমাদের মুক্ত ও স্থায়ী পেশা।
দিন শেষে একদিক মৃত্যুর সম্মুখীন হবো। মরে যাবো। রেখে যাবো কিছু মিথ্যে কথা,মিথ্যে আশা, মিথ্যে স্বপ্ন, আর নষ্ট ও পোড়া স্মৃতি ।

৪.

সহস্র বাধায় বাধাগ্রস্থ, শত সমস্যায় জর্জরিত, আমাদের জীবনকাল। আমাদের হাসতে মানা,কাঁদতে মানা, মরতে মানা, ভালোবাসতে মানা,বেকার/কর্মহীন থাকতে মানা।
কতো নিষেধাজ্ঞা আমাদের!
তবু আমরা হতাশগ্রস্থ নই। ক্লান্ত নই। ব্যর্থ নই। আমরা বরাবরই আশাবাদী। কারণ আমরা তরুন, আমরা পুরুষ, আমরা ভবিষ্যৎ, আমরা চেতনাবাদী, আমরা আগামীর প্রজন্ম, আমরা বিপ্লবী, আমরা বিদ্রোহী, আমরা বিজয়ী। আমরাই অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ।

লেখকঃ মোবারক ইবনে মনির
বাস্তবতার সন্ধানে বই পড়া। সময়ে-অসময়ে একাকী পথ হাঁটা। গান শুনতে ভালোবাসা। আর একজন আপাদমস্তক ইসলাম প্রেমিক।