ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

সুইসাইড ৪০৪ - লিখেছেন - জুনায়েদ ইসলাম



বর্তমানে সুইসাইডের বিষয়টি খুব মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ সুইসাইড করছেই। আমরা চাইলেও পারছি না আটকাতে। তাই এই বিষয়টা নিয়েই বলার চেষ্টা। সুইসাইড বিষয়টা কি আসলে। এটা একটি প্রাণঘাতি ফলাফল হতে হবে। স্বেচ্ছায় হতে হবে। বিষয়টার আউটকাম সম্পর্কে অবগত  এবং সেই আউটকামেরই  এক্সপেকটেশন থাকতে হবে তাহলেই বিষয়টাকে সুইসাইড বলা যায়। এবার একটু স্ট্যাটিস্টিক্স বা পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেয়া যাক। প্রতিবছর ওয়ার্ল্ডে ৮ লক্ষের মতো মানুষ সুইসাইড করে। ১ টা সুইসাইডের বিপরীতে ২০ টা সুইসাইডাল এটেম্পট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুইসাইডকে দ্বিতীয় বিপজ্জনক কারণ বলা হয় মৃত্যুর। বাংলাদেশে সুইসাইডের তেমন পরিসংখ্যান পাওয়া যায় নি খুববেশি। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০০২-২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার লোক সুইসাইড করে  মৃত্যুবরণ করেছেন। আরেকটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে প্রতি লাখে প্রায় ১২৮ জন লোক সুইসাইড করে মারা যাচ্ছেন প্রতি বছর। ৩ বছর আগের পুলিশ ওয়েব মেথডে বলা হয় ওই বছরে ১১ হাজার মানুষ সুইসাইড করেছে যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল হ্যাঙ্গিং বা গলায় দড়িতে মৃত্যু। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে  প্রতিবছর ১০ হাজার লোক মারা যায় সুইসাইড করে। যার মানে গড়ে প্রতিদিন ২৭ জন আর প্রতি ঘন্টায় ১ জনের বেশি সুইসাইড করছে।


                      সুইসাইডাল বিষয়গুলো কখনো হঠাৎ এ আচমকা হয়ে যায় আবার কখনো একটা লম্বা সময়ের ক্রান্তিকাল।  একজন মানুষ সুইসাইড করার বা সুইসাইডাল হয়ে গেলে সে অনেক সাইন প্রদর্শন করে সাবকনশিয়াসলি। সর্বপ্রথম হোপলেসনেস হয়ে যায়। সে জীবনের আশা হারিয়ে ফেলে। সবসময়ই এমনসব কথা বলে যেটায় বুঝা যায় যে পৃথিবীর উপর থেকে তার হোপ বা আশা টা উঠে গেছে। কন্সটেন্টলি এনক্সিয়াস থাকে। সবসময় সে দুশ্চিন্তা করতে থাকে। এনোরেক্সিয়া বা ক্ষুধামন্দাদেখা দেয়। খাওয়াদাওয়া তে প্রচুর অনীহা চলে আসে। ঘুম অনেক বেড়ে যায় আবার ঘুম অনেক কমে যায়। অনেকে ভাবে সুইসাইডাল হয়ে গেলে মানুষের ঘুম হয় না। এটা ভুল ধারণা। মানুষের অত্যাধিক ঘুম বেড়েও যেতে পারে।  

সুইসাইডের প্রতিটা কারণের ভেতরই কোনো না কোনো ভাবে ডিপ্রেশন থাকেই। ডিপ্রেশনের সাথে সাথে কন্সটেন্ট এনক্সাইটি থাকেই এমন পরিস্থিতিসমূহতে যেটাকে বলা হয় MDD with anxious disorderMDD অর্থ  Major Depressive Disorder। ডিপ্রেশন রিলেটেড কথাগুলোতে পরবর্তীতে এই বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তর ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।    
 




এই ধরনের মানুষের ভেতর হঠাৎ করেই এভোয়ডেন্স কাজ করে। ধরুন যেই বন্ধু বা বান্ধবী আগে খুব আড্ডায় মেতে থাকতো সে হঠাৎ করেই আড্ডায় আর আসে না। সে ঘরকুনো থাকে। নিজের ঘরে সে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে সর্বদা। ব্যাপারটা এমন। এই ধরনের মানুষরা অনেক ইম্পালসিভ বা আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। সিদ্ধান্তগুলো আবেগের বশে নিয়ে ফেলে। এইযে এত সাইনগুলোর কথা বললাম এগুলো সব কিন্তু হঠাৎ করে আসে। মানে হঠাৎ তাদের আচরণে চেঞ্জ চলে আসে। ২০১৭ সালে অটোপসি করে একটা স্ট্যাডি হয়েছিল যেখানে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি মানুষ সুইসাইড করে ডিপ্রেশনের জন্য। এলকোহল এবং অন্যান্য এবিউসিভ কারণে সুইসাইড ছিল দ্বিতীয়তে আর অন্যান্য সব এনক্সাইটি তে সুইসাইড ছিল তৃতীয়তে। অনেক সুইসাইডের হিডেন কারণ থাকে মেডিকেল কিছু টার্ম বা সাইক্রিয়াটিক টার্ম।

যেমনঃ
Major Depressive Disorder(MDD),
Generalized Anxiety Disorder(GAD),
Obsessive Compulsive Disorder(OCD) সহ আরো অনেক কারণ।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরবর্তীতে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। আমরা সবাই একটা জিনিস ভেবে রাখি আগে থেকেই যে যখন কেউ রিলেশনশিপ ব্রেক, ফেইলিওর বা কোনো লস বা কোনো কিছু অপরিহার্য জিনিস হারিয়ে ফেলে তখন সে সুইসাইডাল হয়ে যায়। এ ব্যাপারটি সবসময় সবক্ষেত্রে সঠিক নয়।
মানুষের অভ্যন্তরীন মেন্টাল রোগ গুলো থেকেও মানুষ সুইসাইডাল হয়ে যায়। সুইসাইডের কারণ অনেক থাকে। অনেক সময় দেখা যায় জেনেটিক্যালি ডিজিসে মানুষ সুইসাইড করে যার পেছনে সম্পূর্ণ অর্থেই তার জেনেটিক্স বিষয়টা দায়ী থাকে। আবার বেকারত্ব একটা কারণ সুইসাইডের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে। সুইসাইডাল হওয়ার পেছনে মিডিয়ার ভূমিকা টা রিসেন্টলি খুব দেখা যাচ্ছে। মিডিয়াতে খুব হইচই ফেলিয়ে বিষয়গুলো দেখানো হচ্ছে। রিসেন্টলি সেলিব্রিটি  সুশান্তের সুইসাইডের নিউজ ভাইরাল হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ জন সুইসাইড করেছে। সেলিব্রিটি ফলোয়ারদের ভেতর এই ধরনের প্রবণতা থাকে।তারা মেনে নিতে পারে না তাদের আইডলের এমন পরিণতি। লিনকিন পার্কের ভোকাল চেস্টার বেনিংটনের সর্বশেষ স্টেজ শো তে দর্শক হিসেবে ছিলো, সে সময়েরই আমাদের দেশের ব্যান্ডের একজন গিটারিস্ট। সেও চেস্টারের পরেরদিনই সুইসাইডের বিষয় মেনে নিতে পারে না এবং সেও সুইসাইড করে বসে। ব্যাপারটা অনেক ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের মতো। ছোঁয়াচে। আবার বর্তমানে হ্যারি পর্টার এর লেখক জে কে রলিংসের রিসেন্ট কিছু ইস্যু সামনে এসেছে।


সুইসাইডের রিজনগুলোকে তিনভাগে মোটামুটি মেডিকেল টার্মে ভাগ করা হয়।
প্রথমে থাকে মেডিকেল রিজন যার মধ্যে থাকে ডিপ্রেশন, ওসিডি বা ড্রাগস রিলেটেড ইস্যু (মদ, ক্যানাবিস ইত্যাদি)। এরপর থাকে সাইকোলজিক্যাল ইস্যু যেখানে মূলত সে হোপলেসনেসে থাকে। তারপর থাকে সোস্যাল রিজন যার মধ্যে থাকে সোস্যাল আইসোলেশন এবং প্রোভার্টি বিষয়টা। সোস্যাল আইসোলেশন বিষয়টা মূলত বর্তমান প্যানাডোমিক অবস্থাটার মতো অবস্থা যেখানে একাকীত্ব তুমুলভাবে গ্রাস করে। নিজেকে বোঝা মনে হওয়া ও ট্রাপ ফিল করে মানুষ। তখন গিয়ে মানুষ প্যারা সুইসাইডাল কাজ করা শুরু করে, যেমনঃ ডেলিবারেটলি সেলফ হার্ম, হাত পা কাটাকাটি, ওভারডোজ ড্রাগ নেয়া ইত্যাদি। আমেরিকার একটা গবেষণায় দেখা গেছে চল্লিশোর্ধ নিঃসঙ্গ মহিলাদের মধ্যে ৪০-৪৫% মহিলা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে ভোগে এবং সুইসাইডাল হয়ে যায়।
   




                এবার সোস্যাল মিডিয়া সম্পর্কে কিছু বলি। সোস্যাল মিডিয়া হচ্ছে ওয়ার্ল্ডের হিউজ একটা ক্রাউডেড প্লেস। যেখানে আপনাকে দেখানো হবে অনেক বড় করে। আসলেই কি তাই?? রিসেন্টলি রুলস বার্গের সাথে ফেসবুক এবং টুইটারের একটা কনফ্লিক্ট হয় যেখানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যাপার ছিলো। কারণ তারা ফেসবুক এবং টুইটারে আর এড দিতে চাচ্ছিল না। এটা হলে ফেসবুকের আয়ের পথ বন্ধ হবার জোগাড় হতো। তখনই বিষয়গুলো সামনে আসে। আমরা দিনের একটা সিংহভাগ সময়ই এই পেনডোমিকে কাটিয়ে দেই ফেসবুক ব্রাউজিং করে। ফেসবুক জায়গাটা হচ্ছে ইথিকস বেচাকেনার সবচেয়ে বড় জায়গা। যেখানে কন্টিনিউয়াসলি মার্কেটিং চলছেই । আইডিওলজির বেচাকেনা চলছেই। মূলত আমাদেরকে কিভাবে বেটার কনজিউমার বানানো যাবে এই কাজগুলো করে তারা। আমাদেরকে তাদের কনজিউমার হিসেবে বানিয়ে নিয়েছে। হঠাৎ ই যখন কোনো ট্রেন্ড শুরু হয় আপনার তখনই সেটা ফলো করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এভাবে আমাদেরকে তারা ব্যবহার করে আসছে।

সক্রেটিসের সময় থেকে একটা ফিলোসফি এখন পর্যন্ত চলে আসছে সেটা হচ্ছে “know thyself"। এই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। আমাদের বাংলাদেশে একটা জিনিস খেয়াল করবেন আমাদের জীবনটা একটা চক্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ পড়াশোনা-বিয়ে-বাচ্চা-মৃত্যু। আমাদের এন্টায়ার ডিসকাশনটা কোথাও আছে কি?? আর তখনই মানুষ নিজেকে রুটলেস ভাবে। অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। এবার আসি একটু অন্যদিকে। আমাদের সমাজে এগনস্টিক মানুষ অনেক আছে। এরা মূলত cognitive disorder বা দ্বন্দ্ব নিয়ে থাকে। আর কিছু মানুষ থাকে যারা সংশয়বাদী। এরা মূলত রুটলেস কিন্তু এরা কম্ফরটেবলের ভান করে। ইথিকস নিয়ে এদের প্রশ্ন বেশি থাকে। এদের সেন্স অফ পারপাস টা থাকে না। সেন্স অফ পারপাস বিষয়টা হচ্ছে ধরতে পারা, ছুইতে পারা, বুঝতে ও অনুভব করতে পারা। কনফিউশন রেখে চলে।  

আগে ফিলোসফি, রিলিজিওন, সাইকোলজি কে একই বিষয়াভুক্ত করা হতো কিন্তু ৫০ দশকের পর থেকে এটা আলাদা করে পথ দেয়া হয়। এগনস্টিকের শুরুটা হয় নিহিলিজমে বিশ্বাসের পর থেকে। নিহিলিজম আসছে মূলত ইভোলুশন মার্চ করার সময়টা যার পর থেকে এক শ্রেণির মানুষ মনে করে ধর্মের আর এখন প্রয়োজন নাই। স্রষ্টা যেহেতু নাই সেহেতু মোরাল প্রিন্সিপালই হচ্ছে সাইন্স। ইথিকস বিষয়টা আসছে মূলত রিলিজিওন থেকেই। সাইন্স কিন্তু স্রষ্টাকে প্রমাণ করে না আবার ডিসপ্রুভ ও করে না। একজন মানুষের লাইফের পারপাস টা কি সেটা থেকেই এই নিহিলিজমের উৎপত্তি। সাইন্স থেকে এটার কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায় নি। এই শ্রেণির মানুষ মনে করে ধর্ম মানুষকে ওপিয়াম করার আইডোলজি । আসলে তাদের মতে ধর্ম মিথ্যা একটা গল্প বানিয়ে সিভিলাইজেশন বানানোর চেষ্টা করেছে।
অর্থাৎ কেউ চাইলে বাঁচবে নাইলে নাই। ইউরোপে এটা অনেক বেশি। বাংলাদেশে এদের এথিস্ট বা এগনস্টিক বলি আমরা। এদের কোনো পারপাস নাই লাইফের। সবাই হেলদি স্পিরিচুয়ালিটি ফলো করে না।  


“যখন হেলদি স্পিরিচুয়ালিটির কথা আসল তখন একটা সত্য ঘটনাকেই আপনাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে আনছি। সঙ্গত কারণেই আমি তার নাম পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। আমি মেয়েটির ছদ্মনাম টুম্পা ধরছি। ও আমার মতোই কলেজ স্টুডেন্ট। ওর বয়স ১৭ কি ১৮ এমন। ওদের বাসায় যৌথ ফেমিলি মানে সবাই চাচারা একসাথে থাকে। ছোটবেলা থেকে ও ওর ফেমিলির মানুষ জনের থেকেই এখন পর্যন্ত মোট ১৪২ বার রেপড বা ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। ভাবছেন একুরেট নাম্বার কিভাবে বলছি কারণ ও ওর পার্সোনাল ডায়েরিতে প্রতিবার রেপড হওয়ার পর টালি চিহ্ন দিয়ে গুণে রাখত। কিন্তু এত কিছুর পরও ও কিন্তু সুইসাইডাল হয় নি। ও এক আল্লাহ কে বিশ্বাস করে এবং এও বিশ্বাস করে একদিন সব ঠিক করে দিবেন আল্লাহ। ও একটা হোপ নিয়ে বেঁচে আছে এখনো। আমি পুরো গল্পটাও সঙ্গত কারণে বলব না শুধু বিষয়টা রিলেট করার জন্য বলা। গল্পটা থেকে ঠিক গল্প নয় সত্য ঘটনা থেকে আপনি কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন হেলদি স্পিরিচুয়ালিটি বিষয়টা কেমন।“   

তারপর যা বলছিলাম যে ধর্মকে আমরা এভাবে যাতে না দেখি যে ধার্মিক মানেই ভালো। ধার্মিক মানেই কিন্তু ভালো নয় ব্যাপারটা। বর্তমানে ধর্মকে দোহাই দিয়েই সব মূলত হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ আনহেলদি স্পিরিচুয়ালিটির অংশ
বিষয়টাকে উদাহরণ দিয়ে বললে বুঝতে সুবিধা হবে। ধরুন আলিফ নামের একটা ছেলে যার বয়স ১৯ বছর। তার ইদানিং নিজের ভেতরে সুইসাইডাল ট্রেন্ডেন্সি কাজ করছে। সে তার বাবাকে গিয়ে বলল ব্যাপারটা। তার বাবা তাকে ডিরেক্টলি বলল ইসলামে সুইসাইড করা হারাম। এটার মানে কিন্তু  ধর্মকে ব্যবহার করছেন তার বাবা। কিন্তু তার বাবার এখানে উচিত ছিল আলিফকে লাইফের একটা পারপাস খুজে দেয়া। সে যদি সুইসাইড করত তাহলে সমাজ শুরু করত সে জাহান্নামে যাবে হাবিজাবি যা বর্তমান সোস্যাল মিডিয়ার হিট টপিকস। এগুলো টক্সিক স্পিরিচুয়ালিটি ।আর এটাকেই বলে আনহেলদি স্পিরিচুয়ালিটি। সাধারণভাবে আমি নিজেও মানি যে সুইসাইড করা হারাম কিন্তু এটাকে হাতিয়ার হিসেবে প্লিজ ব্যবহার করবেন না। একজন মুসলিম হিসেবে আমি কোরআন শরীফ মোটামুটি তাফসির করে পড়ার চেষ্টা করি। শাব্দিক অর্থ না করে ভাবার্থ করে আমাদের পড়া উচিত যে আসলেই কি বুঝিয়েছে খুটিয়ে পড়া উচিত।      



আপনি যদি সূরা আদ দোহার প্রথম ১১ আয়াত পড়েন অর্থসহ আপনি বুঝতে পারবেন বিষয়টা নিজেই। যেখানে আমাদের রব বলেছেন- “তোমাদের জীবনে আশার আলো আসবেই” । আমাদেরকে কিন্তু রব ইন্সট্রাকশন দেন নি আমাদেরকে হোপ বা আশা দিয়েছেন। আবার রব আরেক জায়গায় বলেছেন – “তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্ট হন নি” কিন্তু আমরা বিষয়টাকে নিজেরাই চেঞ্জ করে ফেলেছি। আল্লাহ যেখানে আমাদেরকে ডিফেন্সিভ মুডে থাকার শিক্ষা দিচ্ছেন আমাদেরকে বাঁচার হোপ দিচ্ছেন সেখানে আমরা এট্যাকিং হয়ে যাই। সেই মানুষগুলোর জন্য সময় সহজ হয়ে যায় যারা ভাবে বেঁচে থাকার জন্য অন্য মানুষকে সাহায্য করবে। এখানেই মূলত লাইফের পারপাস পেয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বে ফিলোনথ্রোফিস্ট রা কিন্তু খুব কম পরিমাণে সুইসাইড করে। আমাদের সকল প্রোফেটদের কিন্তু একটাই মেসেজ ছিল টাকা পয়সার জন্য বেঁচে থাকা নয় বরং মানুষকে সাহায্যের জন্য বেঁচে থাকা।

           আপনি যদি নেলসন মেন্ডেলার জীবনী পড়েন তাহলে দেখবেন সে যখন জেলে ছিল সে কিন্তু পুরোপুরি অন্ধকারে নির্বাসিত ছিল। সেখানে সে বাকীসব কয়েদীদের নিয়ে একটা কাজ শুরু করেন যেটাকে তিনি তার বইতে লিখেছেন- “Each one teach one” অর্থাৎ তিনি তার লাইফের পারপাস টা কিন্তু এখান থেকেই পেয়েছেন।
            আপনি যদি সূরা ইউসুফ পড়ে থাকেন দেখবেন যে ইউসুফ (আঃ) যখন জেলে ছিল তখন কয়েদীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতি করার চেষ্টা করেন,এনকারেজ করেন।প্রত্যেকেই এভাবে লাইফের পারপাস খুজে নিয়েছেন।
            আবার সূরা ইব্রাহিম পড়লে কিন্তু জানতে পারবেন আমাদের নবী ইব্রাহিম (আঃ) কিন্তু সব ধর্মে শ্রদ্ধা করত ও নতুন নতুন ফিলোসফি এক্সপ্লোর করত যেটা এখন দেখা যায় না। যার জন্য অল্পবিদ্যায় নিজেদের জাহাজ ভেবে বসা মানুষ বর্তমানে বিশেষ করে মুসলিম কিছু ধর্মের বিরুদ্ধে বললেই গ্যাঞ্জাম হাবিজাবি।এমন তো জীবন বিধান নয়। কেন উন্মুক্ত মাইন্ড নিয়ে হেলদি স্পিরিচুয়ালিটি প্রাকটিস করছি না।
            ভিক্টর ফ্রাঙ্কল লেখা বই “ Man search for meaning” বইটা যদি পড়ে থাকেন তাহলে বিষয়গুলো আরো ক্লিয়ার হবে। ফ্রাঙ্কল ৪ টা আলাদা আলাদা নাৎসী কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার ভয়াবহ এক্সপেরিয়েন্সের বর্ণনা দিয়েছেন যেটা ৩ বছর দীর্ঘস্থায়ী ছিল। ফ্রাংকল তার বইতে লাইফের মিনিং খুজতে ৩ টা ওয়ের কথা বলেছেন। যথাঃ কাজ, ভালোবাসা, কষ্ট । তিনি আরেকটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন বইয়ের দ্বিতীয় অংশে সেটা হচ্ছে লোগোথেরাপি ।তার মতে লোগোথেরাপি বিষয়টা হচ্ছে যে কারোরই এবস্ট্রাক্ট মিনিংস অফ লাইফ খোঁজার দরকার নেই। প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট পেশা/ ভকেশন/ মিশন থাকে লাইফে যা ফুলফিল করাটাই উদ্দেশ্য। সে পারে না এটা থেকে রিপ্লেস হতে বা নতুন করে লাইফ রিপিট করতে। প্রত্যেকের টাস্কই কিন্তু ইউনিক ।তার একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে তা বাস্তবায়ন করার। অর্থাৎ লাইফের পারপাসের একটা ওয়ে তিনি দিয়েছেন।  


                আবার ব্রিনি ব্রাউনের লেখা “The power of vulnerability” বই টা যদি আপনি পড়েন সেখানেও কিন্তু আপনি লাইফের পারপাস পাবেন। বইয়ের একটা জায়গায় তিনি বলেন “If you can’t measure it, it doesn’t exist” . তার সময়কার আশেপাশের মানুষরা একটা ধারণাতে বদ্ধমূল ছিল সেটা হচ্ছে “life’s messy,love it” কিন্তু তার মতে “life’s messy, clean it, organize it”. Shame and Fear কে এক্সক্রুশিয়াটিং ভালনারেবিলিটি বলে। তিনি বইতে courage and bravery শব্দ দুটিকে আলাদা করেছেন। courage শব্দটা এসেছে প্রথম ল্যাটিন শব্দ “cor” থেকে যার অর্থ “heart”.আর ডেফিনিশন দিয়েছেন “to tell the story of who you are with the whole heart” . কারেজ, কম্পেশন, কানেকশন, ভালনারেবিলিটি এসব বিষয়ে কথা বলতে না পারাটার পেছনে কারণ শেইমনেস বলে তিনি মনে করেন।তার মতে এই অবস্থায় ব্রেকডাউনে না গিয়ে স্পিরিচুয়াল এওয়াকেনিং ঘটানোর কথা বলেছেন। তার মতে, ”Vulnerability is a core of shame and fear.”

আমাদের জীবনটা হেডোনিক ট্রেডমিল এ সীমাবদ্ধ। ট্রেডমিল শব্দটা শুনলে মাথায় চক্রের কথা ঘুরে। মূলত আমরা যখন কোনো একটা কিছু খুব করে চাই এবং পরে সেটা পাই তারপর সেটায় সন্তুষ্ট থাকি না। আবার আরেক জিনিসের মোহতে পড়ে যাই এবং আবার সেটা পাওয়ার বাসনা করি এবং পাওয়ার পর আবার আরেক জিনিসের মোহতে জড়িয়ে পড়ি। পুরো জীবনটা আমাদের এভাবে চলে যায় এই যে চক্রাকার বিষয়টা এটাই হেডোনিক ট্রেডমিল
   



যখন আপনার কাছে একজন সুইসাইডাল মানুষ তার সমস্যা নিয়ে আসবে তখন আপনার কি করা উচিত বা করতে হবে সেটা সম্পর্কে এবার চলুন জানি। প্রথমে আপনি চেষ্টা করবেন তার ইমোশন টা বোঝার।এটা দিয়ে শুরু করবেন এবং একইসাথে আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষটির সবচেয়ে কাছের মানুষকে তার ব্যাপারে ইনফর্ম করা। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাইভেসি বিষয়টা নিয়ে। ইমারজেন্সি সময়ে প্রাইভেসি মেজর ফ্যাক্টর না। আর কাছের মানুষ বলতে তার বাবা বা মা কে অবহিত করার চেষ্টা করবেন। একটা বিষয় যদি খেয়াল করে থাকেন তাহলে দেখবেন মানুষ বেশিরভাগ কিন্তু সুইসাইড করতে চায় না । তারা বলতে চায়। তারা তাদের কষ্ট টা থেকে মুক্তি পেতে চায়। যখন তা পারে না তখন সে সুইসাইডকে একটা ওয়ে ভেবে নেয়। তাই আপনাকে হতে হবে একজন নন জাজমেন্টালি লিসেনার
আপনার গুড লিসেনিং স্কিল থাকাটাই এখানে আবশ্যক। পেশেন্সলি এ কাজটি করবেন। কথা শোনার সময় অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেয়া যাবে না। তাহলে এটা তাদের মনে খুব আঘাত করে। যেমনঃ ধরুন আপনার সামনে একজন তার কথা বলছেন আপনি মোবাইল টিপতেছেন। আপনি ফিজিক্যালি এখানে আছেন কিন্তু মেন্ট্যালি অন্য জায়গায় ঘুরতেছেন। এই কাজটা করা যাবে না। তারপর আপনাকে যেটা করতে হবে কথা বলার সময় আপনি রিয়েক্ট করবেন তার ফিলিংসের প্রতি কারণ সবার রেসিলিয়েন্স তো এক নয়। তাই তার প্রতিটা কথার সাথে রিয়েক্ট করুন এবং সম্ভব হলে কথার মাঝে মাঝে তার প্রতি সহানুভূতি দেখান। তারপর আস্তে আস্তে তার বিষয়গুলো আইডেন্টিফাই করুন এবং সেভাবে তাকে লাইফের একটা পারপাস দেখিয়ে দিন। তাকে বিলিভ করান যে ওভারকাম করতে হবে তিনিও ওভারকাম করতে পারেন এই বিষয়টা তাকে বুঝাবেন। তার লাইফের আনহেলদি সেলফ এটাচমেন্ট গুলো আইডেন্টিফাই করুন। এর মধ্যে মূলত লাভ, ক্যারিয়ার বিষয়গুলো থাকে অর্থাৎ দেখুন তার লাইফ কি একটা বিন্দুতে পড়ে আছে কিনা। দেখুন কোনো ফিলোসফিক্যাল ইস্যু এর মধ্যে আছে কিনা। তাকে বুঝান যে আপনি দেখতে পাচ্ছেন সে যেই ফিলোসফিতে বিশ্বাস করে তা অনেকটা উইয়ার্ড। তাই তাকে বুঝান যে দরকার নাই ওই ফিলোসফি নিয়ে পড়ে থাকার। ফিলোসফি চেঞ্জ করতে এঙ্কারেজ করুন। যেই ফিলোসফি হেল্প করে না বের হয়ে আসতে হবে সেখান থেকে। তাকে কখনো বলবেন না যে লাইফে হ্যাপিনেস খুঁজো ,পজিটিভ খুঁজো এমন ধরনের মোটিভেশন সম্পূর্ণ উলটো কাজ করে। সে যদি ইন্ট্রোভার্ট হয় তাহলে তো সলিটারেড তাই বুঝান তাকে যে আসলে ইন্ট্রোভার্টদের গুণ অনেক।

যেমনঃ তারা সাধারণের থেকে যেকোনো কিছুতে ফোকাস বেশি দেয়, বই লিখতে পারে এরা। ইন্ট্রোভার্ট বিষয় নিয়ে শেম বা লজ্জা করা যাবে না। বন্ধু নির্বাচন বিষয়টা সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। বন্ধু কম থাকা ভালো কিন্তু সত্যিকার বন্ধু রাখতে চেষ্টা করুন। আপনি তার মেইন প্রবলেম সলভিং এর চেষ্টা করুন আর না পারলে আস্তে আস্তে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তাকে যা বলবেন ওয়াইজডমের সাথে বলবেন অর্থাৎ সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলার চেষ্টা করবেন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন লাইফ ইজ এ প্রসেস এবং এটা ফুল অফ সাফারিংস
সূরা জিলজাল যদি পড়েন দেখবেন সেখানে একটি আয়াতে বলা আছে বান্দা যাই করবে তাই পাবে অর্থাৎ “What goes down, comes down” । শুধু আমার সাথেই কেন এই বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে শিখতে হবে। কষ্ট আসবেই নিতে হবেই মেনে।একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মানুষ যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এতে কৃতজ্ঞতাবোধ চলে যায়। ভিক্টিমাইজেশন এই বিষয়টার ক্ষেত্রে  তাকে সাপোর্ট দিতে হবে তবে তাকে ভিক্টিমহুড থেকে বের করে আনতে হবে।

আরেকটা বিষয় গুরুত্বের সাথে করতে হবে সেটা হচ্ছে তার ছোটবেলার গল্পটা শুনতে হবে মনোযোগ দিয়ে। অনেক সময় ছোটবেলার ট্রোমাও মানুষকে সুইসাইডাল করে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। ভিকটিমের ফেজে এগিয়ে যাবেন।ধরুন কারো ব্রেকাপ হইলে ডিরেক্ট বলা যাবে না যে ভুলে যাও তাকে নতুন করে শুরু কর। এটা আমি আপনি দুইজনই জানি এটা ইম্পসিবল সেই মূহুর্তে তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্তে যাবেন। আরেকটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিছু জিনিস আমাদের কন্ট্রোলে থাকে না সেগুলো কন্ট্রোলে আনতে হবে। যেমনঃ ইগো, সেলফ ডাউট, কমফোর্ট জোন ইত্যাদি।
নিজের ইগোকে কন্ট্রোলে রাখতে হবে। ১ বছর আগে একটা ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল হয়তো আপনাদের মনেও আছে আকাশ মিতুর ঘটনা।মিতু নামক মেয়েটা আকাশের সাথে চিট করে এবং আকাশ সুইসাইড করে। আমার যতটুকু মনে হয় মিতু যদি এক্সিডেন্টে মারা যেত তাহলে হয়তো আকাশ সুইসাইড করত না। মূলত আকাশ সুইসাইড করে তার ইগোর কাছে হারতে না পারার জন্য। কেনো মিতু চিট করল এটা সে মানতে পারে নি। হেরে যাওয়ার মানসিকতা তার ছিল না।এখানেই মূলত আসে ইগোর কথা। হারতে শিখতে হবে । আমাদেরকে ছোট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে ভালো নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের অনেক ইগোয়িস্টিক করে তোলে। আমার থেকে আরেকজন ভালো পারে এটা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আমরা হারতে শিখি নাই এজন্য এখানেই আমাদের সমস্যা। আমাদের হারতে শিখতে হবে। এজন্য সাইক্রিয়াটিস্টরা প্যারেন্টসদের বলেন যেনো তাদের সন্তানকে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত রাখেন সবসময়ই। তাহলে সন্তান ছোট থেকে খেলায় হারতে হারতে জীবনে মাঝে মাঝে হারতে হয় এই মানসিকতা নিয়ে বড় হবে। আমরা হচ্ছি সেই জীব যাদের মৃত্যুর পর পোকামাকড় খাবে সেখানে এতো ইগো আমরা কোথা থেকে পাই । জীবন নিয়ে ভাবতে হবে।

“A smart man learns from his mistakes but a wise man learns from other mistakes”. সুইসাইড প্রিভেন্ট করতে চাইলে ইগোর কাছে হারতে শেখাটা একটা মেজর লার্নিং। আমি যা চাবো পৃথিবীতে তাই হতে হবে আবার আপনি যা চাবেন না সেটা হলে আবার আপনার খারাপ লাগে এটা কগনিটিভ ইম্ম্যাচিউরিটি । আমাদের রব যেখানে বলে দিয়েছেন তোমার মধ্যে সরিষাদানা পরিমাণ অহংকার থাকলে তোমাকে দিয়ে আশা নেই সেখানে এতো ইগো কিভাবে আসে?? আপনি এরোগেন্ট হয়ে যান। এটা ব্যক্তিত্বের ত্রুটিক্রিটিসিজম নিতে শিখতে হবে। অন্যকে ছোট ভাবা যাবে না। নিজের লাইফকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে বেঁচে থাকার একটা কারণ দিন।

“The corner stone of a good mental health is to have a perpous of life” পারপাস নাই যাদের তারা ডিপ্রেসিং, ডিমোরালাইজিং এবং ফ্রাসট্রেটিং থাকে। এজন্য সুইসাইড করে। নিজেকে নিয়ে চিন্তা থেকে সরে আসুন। আমি চিন্তা থেকে সরে আসুন।সবার দিকে তাকান এমনি লাইফের পারপাস পেয়ে যাবেন। আমি=ইগো তাই এই আমিত্ব ব্যাপারটা থেকে সরে আসার চেষ্টা করুন। ডু সামথিং এমেজিং, ডু সামথিং স্মারটলি উইথ এ লট অফ প্লানস[/sb]। অন্যদের নিয়ে ভাবতে হবে। সবসময় হেলদি রিলিওজিনাল স্পিরিচুয়ালিটিটা প্রাকটিস করুন। আরেকটা বিষয় হচ্ছে ধরুন আপনি তাকে সাইক্রিয়াটিস্ট পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন এখন সে নিয়মিত এন্টি ডিপ্রেসেন্ট নিচ্ছে । যখন দেখলেন সে ভালো হচ্ছে বা ঠিক হচ্ছে তখন তার খোঁজ খবর রাখব। যখন একজন মানুষ ইম্প্রুভ করে তখনো কিন্তু মানুষ সুইসাইড করে। অনেকটা প্যারাডক্সের মত। তাই তার খবর নিবো, ছেড়ে যাবো না। কারণ একটা এন্টি ডিপ্রেসেন্ট দুইটা কাজ করে। মন খারাপ এবং এনার্জি লসের উপর। এন্টি ডিপ্রেসেন্টের কাজ নিয়ে পরে ডিটেইলস জানানোর চেষ্টা করব। এন্টি ডিপ্রেসেন্ট প্রথমে এনার্জি লস বাড়ায় সেটা হতে হতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগে কিন্তু মন খারাপ ঠিক হয় আরো অনেক পরে। আগে যেখানে একজন মানুষ এনার্জি লসের জন্য কোনো কিছু খেয়ে সুইসাইড করতে আলসেমি কাজ করত এখন কিন্তু আর সেটা করবে না। আমাদের লাইফের পারপাস থাকলে নেগেটিভ চিন্তা কম আসে, অবসেসিভ রিউমেশন কম আসে,অনেক সমালোচনা নিতে পারি আমরা,নেগেটিভ সমালোচনাও নিতে পারি আমরা।      




বাংলাদেশের ডেইলি স্টার এর এক প্রতিবেদনে ছিল যে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ কোটি মানুষ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমায়। WHO এর এক প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছিল পৃথিবীতে প্রতিদিন না খেয়ে ২০ হাজার মানুষ মরে হাঙ্গার বা হাঙ্গার রিলেটেড কারণে। এসব থেকে শেখার চেষ্টা করুন। ভলান্টিয়ারি ওয়ার্কে যুক্ত হন। হয়তো কারো মুখে হাসি ফুটবে আপনার দ্বারা। সবসময় নিজেকে নিজে পারপাস দিন। হয়তো আপনার একটু সহানুভূতি ও সচেতনতা পারবে কোনো না কোনো জীবনকে অকাল মৃত্যুর থেকে ফিরিয়ে আনতে

জুনায়েদ ইসলাম
দ্বাদশ শ্রেণী, এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ কলেজে পড়ার পাশাপাশি, বই পড়তে ও মুভি দেখতে ভালোবাসেন। তবে ডিটেকটিভ সবকিছু খুব বেশি প্রিয়, নতুন কিছু জানতে এবং জানাতে তিনি সর্বদাই আগ্রহী।