ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

সকাল হতে কত দেরি? - লিখেছেন - কুশিও নবাব প্রিন্স




বিছানায় পা দুলিয়ে দুলিয়ে টিভির স্ক্রিনে খুব মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে খবর দেখছিলাম । হঠাৎ নাকে এলো খাবার পোড়া গন্ধ। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম রান্নাঘরে আমি কিছুক্ষণ আগে খাবার গরম করতে দিয়ে এসেছিলাম চুলোয়। এত তাড়াতাড়ি খাবার জ্বলছে, পুড়ে যাবে তা ভাবতে পারিনি ।


এই শহরে আমার আর কেউ নেই। আমি একাই থাকি এই শহরের একটি ছোট্ট বাসায়। ছোট এক চৌকাঠে! একটি বালিশ আর একটি কাঁথা। বাসায় তেমন আর কোনো আসবাবপত্র নেই। রান্নাঘরে দুই তিনটে হাড়িপাতিল বাসন কোসন ছাড়া।
চৌকাঠের বা পাশে একটি পড়ার টেবিল। এই টেবিলেই বসে যেন পৃথিবীর সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করি আমি । এই টেবিলেই পড়ালেখা, তিন বেলা এখানে বসেই খাবার খাওয়া। ঝিমুনি এলে ঝিম ধরে বসে থাকা আর ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে মশা তাড়ানো।

সারাদিন ভার্সিটির ক্লাস শেষ করারপর টিউশনি করে বাসায় ফিরেছি প্রায় রাত ১০টায়। তারপর আধানষ্ট টিভির স্ক্রীনে তাকিয়েই আজ রাতের খাবার নষ্ট হলো। এখন আর কি করবার আছে না খেয়েই রাত পার করতে হবে । আমি আবার বেশিক্ষন না খেয়ে থাকতে পারি না। খিদে লাগলে আর সহ্য হয় না। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা মাঝে মাঝে যা করেন আমাদের জন্য তা আসলেই ভালোর জন্যই করেন । আমাকে আজকেও আর হোটেলের বাসি খাবার গরম করে খেতে হলো না।

রাত গভীর হতে চলেছে । পুরো বাসা অন্ধকার। জানালা দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো আসছে এই ছোট ঘরটিতে। চৌকাঠে শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছি তবুও ঘুম কিছুতেই আসছে না।
পাশের বাসার ছেলেটি মনে হয় এখনো পড়াশোনা করছে । তার সামনে চাকরির পরিক্ষা। বেচারা ছোট কাল থেকেই ভালো স্টুডেন্ট, এমনকি তার ভালো রেজাল্টও! কিন্তু সহজে কোনো চাকরি সে জুটাতে পারছে না ।তবুও চেষ্টার কমতি নেই। পড়তে বসলে চোখের পাপড়ি এক হয় না, আমি দেখেছি। আমি তার কাধে হাত দিয়ে তার আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে তুলি। এতে সে ভীষণ খুশি হয়।

হঠাৎ রাস্তায় চেচামেচি শুনতে পেলাম। জানালা খুলতেই দেখলাম বাসার গলিতে একটি রিকশা। তাতে এক মেয়ে বসে খুব জোরে কান্না করছে। পিছন দিক থেকে কিছু ছেলেদের দৌড়ে পালাতে দেখে সন্দেহটা পরিষ্কার হলো। নিশ্চয়ই ছিনতাইকারী। আজকার আমাদের সোসাইটিতে ছিনতাইকারী, খুনি আর মিথ্যবাদী লোকজনদের ঢল নেমেছে ।শহরে এদের সংখ্যাই বেশি বলে আমার মনে হয়।

রাত আরো গভীর হতে চলেছে। শেষবারের মতো ঘুমানোর পরিকল্পনা করছি। কিন্তু সারাদিন মা'কে ফোন দিয়ে খোজখবর নেয়া হয় নি। এত রাতে ফোন দেয়াটা কি ঠিক হবে? নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে।
"হ্যালো মা। কেমন আছো? "
" হ্যা ভালো আছি বাবা। তুই কেমন আছিস? "
" মা আমি ভালো আছি। তোমার কথা মনে পড়ছিলো খুব। রাতের খাবার খেয়েছ? আর ওষুধ ঠিক মতো খেয়েছো তো? "
লেখকঃ কুশিও নবাব প্রিন্স
ঢাকার এক সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। দর্শন এবং টুকরো টুকরো গল্প উপন্যাসের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছি।