ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

নুপুর- লিখেছেন - মোবারক ইবনে মনির




 ফোনের ফ্লাসের আলো কুয়াশা ভেদ করতে পারছে না। নিজের পা-দুটোই কেবল দেখা যাচ্ছে, হটাৎ এমন ঘন-কুয়াশা দেখে ঘাবড়ে যায় ফয়সাল। 
শহরের শেষ প্রান্তে বাসা। দ্রুত বাসায় পৌঁছতে হবে। স্ত্রী অপেক্ষায়। যে না পৌছানো পর্যন্ত যার সব কাজ বন্ধ থাকে। তাকে দেখা মাত্রই জল জল হয়ে উঠে ডাগর চক্ষুদয়।
পূর্ণ আবেগে পৌঁছলে দরজা খুলেই জড়িয়ে ধরে। ফয়সাল নিজেকে খুব অবাক লাগে। 
মানুষের সাথে মানুষ এভাবে মিশে যেতে পারে।  ভাবতেই অদ্ভূত লাগে!
জীবন -যৌবন স্বার্থক মনে হয়।

       দোকানে কাস্টমারের ভিড় থাকায় সবাইকে বিদায় দিতে দেরি হয়ে যায়। শীতের রাত একটু গভীর হলেই চরাচর জুড়ে সুনাসান নিরবতা নেমে আসে।
পা মেপে মেপে হাঁটতে হচ্ছে। জানে না কোন বিপদ অপেক্ষা করছে কি না। ফয়সলের খুব ভয় হচ্ছে। বার বার মনে পড়ছে ওর দেখা হরোর মুভিগুলো।আসলে বিপদের দিনটি অন্যদিন থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময় থেকে অস্বাভাবিক রূপে পৌঁছে। নিজের অজান্তেই বিভিন্ন দোয়া দুরুদ পাঠ করতে থাকলো। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো। বিপদ থেকে মুক্তি দানের ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই আছে। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। 
স্ত্রী মালিহার জন্য একটা রুপার নুপুর কিনেছে। ওর নগ্ন পায়ে বেশ নন্দনীয় দেখাবে। টিপটিপ করে ছোট ছোট কদমে যখন ওর সামনে দিয়ে ঝনঝন শব্দ করে হাঁটবে তখন ওর মনের কুঠিরে আনন্দের অনুরনন সৃষ্টি হবে। পুলকিত   রিদয়ে এক নাগাড়ে তাঁকিয়ে থাকবে। আর মালিহা যখন ঘাড় ফিরিয়ে চোখ বাকিয়ে তাঁকাবে তখন মনে হয় ফয়সাল নিজেকে উৎসর্গ করে দিবে। 
ফয়সাল জানেনা কখন ও ঘরের দরজায় এসে পৌঁছে। মোটা জামা সত্বেও কাঁপছে। 
ভয় ও ঠান্ডার বন্ধুত্বে।




      মালিহার সেই সন্ধ্যার পর থেকে অপেক্ষা। এর মধ্যে মনের ভুলে দুইবার দরজাও  খুলেছে। এবার পায়ের শব্দ শুনেই দৌড়ে দরজা খুলে ফয়সালের দিকে তাকিয়ে রইলো। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। অস্থির হয়ে উঠছে।
     ঘরে ঢুকেই শীতে আক্রান্ত ফয়সাল কম্বলের নিচে ডুব দিলো। মালিহা দরজা লাগিয়ে ওর মাথার কাছে বসলো। ফয়সালের শরীরে হাত রাখতেই কম্পন অনুভব করলো। ফয়সালের কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। মালিহার একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে।     
              কিছু হয়েছে?
              কিছু দেখেছো??
              কেউ কিছু বলেছে??? 
এই নানা প্রশ্ন!
ফয়সাল বললো - ‌না কিছুই হয়নি। এমনি ভয় পেয়েছি। উভয় শান্ত হলে খাবার খেতে বসে। মধ্যে রাত হয়ে গেছে। ফয়সাল ভাবছে ওকে নুপুরটা এখন দিব না আগামীকাল। 
‌আজকে দিলে যদি ওর রাতে ঘুম না হয়! কারণ মালিহা অন্যা মেয়েদের তুলনায় একটু দেশি আবেগী।
‌আবার কালকে দিলে যদি রাগ করে।
তাই ফয়সাল খাবার খাওয়া শেষে মালিহাকে চেয়ারে বসিয়ে ওর বাম পায়ে নুপুর পরিয়ে দিলো। মালিহা অবাক হয়ে ফয়সালের দু-চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। কি বলে ওকে অনুপ্রাণিত করবে তার শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। মালিহা স্কুলে বেশিদিন পড়তে পারেনি,তারপরও শব্দের জন্যে ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।।। 
কি কথা বলবে?
অপলক তাকিয়ে রইলো।
কথা হারিয়ে কয়েক ফোঁটা চোখের জল উপহার দিলো। 
আর কিছু বলার নাই।


মোবারক ইবনে মনির
বাস্তবতার সন্ধানে বই পড়া। সময়ে-অসময়ে একাকী পথ হাঁটা। গান শুনতে ভালোবাসা। আর একজন আপাদমস্তক ইসলাম প্রেমিক।