ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

ইসলাম ও বিজ্ঞান - লিখেছেন - এস এস রাকিবুল হাসান



ইসলাম এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্হার নাম।আরবী সিলমুন(শান্তি) নামক উপধাতু হতে ইসলাম শব্দটির উৎপত্তি। আল্লাহ তায়ালার প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্হাপন করে তার যাবতীয় বিধিনিষেধ মেনে চলার নামই ইসলাম।ইসলাম সত্যকে লালিত করে,সত্য ও বাস্তবতা কে প্রচার করে।সত্য ও বাস্তবতার এমনই এক সমন্বয়ক হলো বিজ্ঞান। যা মানুষের কাছে কাল্পনিক সত্যকেও বাস্তবতায় রুপ দিয়েছে। বিজ্ঞানের মূলমন্ত্র ও কিন্তু একই।বিজ্ঞান বলে আমাকে জানো,জ্ঞান আহরন করো,গবেষনা করো এবং প্রাপ্ত জ্ঞান কে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাও।এমনি এক অভিন্ন বানী দিয়ে আসছে বিশ্ব মানবতার ধর্ম ইসলাম।আমরা সবাই কিন্তু শান্তির পূজারী,তবে কঠিন বাস্তবতা বা সত্যকে পেরিয়ে এই শান্তি পেতে হলে আমরা পিছু হাটি।এই হলো আমাদের ইমান,এই হলো আমাদের ব্যক্তিত্ব।বিজ্ঞানের কথা শুরু করতে গেলে যে বিজ্ঞানগ্রন্থের কথা না বললে নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে হয় সেটি হলো মহাগ্রন্থ আল কোরআন। যেটিতে রয়েছে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতে উদ্ভূত পৃথিবীর সকল সমস্যার স্হায়ী সমাধান।বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের সাথে মহাগ্রন্থ আল কোরআন এর সামন্জস্যতা।আজকের এই আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু রাতারাতি একদিনে আসে নি।হাজারো বিজ্ঞানীর দিনরাত নির্ঘুম গবেষণার ফল।কিন্তু আমরা তো বিজ্ঞানের গুণাবলী অনুসরণ না করে এর দোষ গুলো আত্মসাৎ করেছি। আমাদের এতো সহজ দৈনন্দিন জীবনের সব কর্মকান্ড সম্পর্কে ভেবে দেখলে হয়তো খুঁজে পেতে কষ্ট হবে কীভাবে এতো পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্হানে এলো বিজ্ঞান!কীভাবে এতো সহজ হলো আমাদের চাওয়া পাওয়া!কিন্তু আমরা তো আজ সত্য প্রচারে ব্যর্থ! ইতিহাসকে তো আমরা আমাদের ক্ষমতা প্রয়োগের শাখা হিসেবে পরিনত করে ফেলেছি!নতুন প্রজন্মকে তো আমরা আত্মকেন্দ্রিক গল্প শোনাতে ব্যস্ত।এভাবে চলতে থাকলে তো সত্যের সাথে নতুন প্রজন্মের কখনো সাক্ষাৎ হবে না!কিন্তু এভাবে তো এই পৃথিবী চলে না।কোথায় আমাদের নৈতিকতা?  কোথায় আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো?স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ইতিহাসে মুসলিম বিজ্ঞানীদের যথাযথ স্হান দিতে পশ্চিমারা সবসময় নারাজ।ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাদের অবদানের যতসব ইতিহাস। বিজ্ঞানের আজকের এই অবস্থানে থাকার কর্তৃত্ব কিন্তু আইনস্টাইন,গ্যালিলিও,নিউটন,এডিসন কিংবা রাদারফোর্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।তুলে ধরছি ঐ ধরনের কিছু অবহেলিত বিজ্ঞানীর কথা যারা হাজার বছর আগেও বিজ্ঞানকে মানুষের নিকট সহজ ও আপন করে তুলেছিলেন।প্রাচীন যুগের 'আল-কেমী' নামক রসায়ন চর্চার হাতেখড়ি কিন্তু আরব-মিসরীয়দের হাতেই।যা পরে রসায়ন শিল্পে রুপ নেয়।এরপরে মুসলমানদের পদচারনা চিকিৎসা, গনিত,ভুগোলসহ বিজ্ঞানের সকল শাখাপ্রশাখায় ছড়িয়ে পড়ে। তন্মধ্যে এমন 'ক' জন ব্যক্তি

জাবির ইবনে হাইয়ানঃরসায়ন শাস্ত্রের জনক।পরিস্রাবন,দ্রবণ,ভস্মীকরণ, বাষ্পীকরণ,গলন তাঁরই আবিষ্কার। লেখার কালিও তাঁর আবিষ্কার।

মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারেজমীঃগনিত শাস্ত্রের জনক বলা হয় তাঁকে,বিশেষ করে বীজগণিতের জনক।সমীকরণ সমাধানের ৬ টি নিয়ম তারঁই উদ্ভাবন। বীজগনিতের ওপর তাঁর রচিত গ্রন্থকে বৃটিশরা  'আল-জেবরা' নাম দেয়।

হাসান ইবনে হায়সামঃম্যাগনিফাইং গ্লাসের জনক।কেপলার ও রজার বেকন ওনার গ্রন্থাদি অনুসরণ করে গবেষণা করতেন।

ইবনে সিনাঃআধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র,চিকিৎসা প্রনালী এবং শল্য চিকিৎসার পথ প্রদর্শক ধরা হয়।চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর অমর গ্রন্থ 'আল-কানুন ফিত তিব্ব'।তাঁর গ্রন্থ বিশ্বের বড় বড় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অনুসরণ করে।

আল বিরুনীঃপৃথিবীর অক্ষরেখা ও গোলাকার মানচিত্র তাঁর রচিত।অবশ্য তাঁরও আগে আল-মাসুদী পৃথিবীর মানচিত্র(সমতল) প্রথম আঁকেন।

মোহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া আল রাযিঃ প্রাচীন শল্য চিকিৎসার অভিভাবক। তাঁর অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ছিলো গ্রীকদের থেকেও উন্নত। তিনি তাঁর গ্রন্থাদিতে পৃথিবীর সকল রোগের বর্ণনা দেন।
#-এভাবে আরো বহু বিজ্ঞানীর নাম উল্লেখ করা যাবে যাদের অবদান আমরা কখনো এড়িয়ে চলতে পারি না।আমাদের বিজ্ঞানকে অবশ্যই জানতে হবে,সাথে সত্যকেও।

        '' সত্যের জয় হোক
                 বিজ্ঞানের জয় হোক''
                         -- আমিন
এস এম রাকিবুল হাসান
আমি এস এম রাকিবুল হাসান , ঢাকা সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। সর্বদা দেশ ও বিশ্বকে নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। চিন্তার অনন্ত সাগরে বাস্তবতা খুঁজি