ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

হারিয়ে যাওয়া এক শুক্রবার - লিখেছেন - আমিনুল ইসলাম মৃদুল



আগের শুক্রবারের আলাদা একটা মজা ছিল। খুব বেশি সময় না, আজ থেকে ৪-৫ বছর আগের শুক্রবার গুলো তো একই ছিল, এখনকার মতোই, গোলার্ধ ঘুরে সেই শুক্রবার আসতো, এখনও আসে, তবে এর মাঝে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু, বয়স বেড়েছে, সবচেয়ে বড় কথা বড় হয়েছি। সেই শুক্রবার শুরু হত বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর থেকেই, তারপর দীর্ঘ একটা রাত মানে কত সময়, টালবাহানাটা পড়ার টেবিল পর্যন্ত গড়াতো। বৃহস্পতিবার মানে পড়ার টেবিলে মন না বসা, তখন বাহিরে আড্ডা দেওয়ার বয়স ছিল না, মনে এক ধরনের রোমাঞ্চ কাজ করত, অন্য দিনের তুলনায় সেদিন রাত একটু বেশি জাগলেই কেমন যেন "বড় হয়ে গেছি" একটা অনুভুতি আসতো। তারপর সকালে একটু বেশি ঘুমানোর পায়তারা তো ছিলোই। কারন, স্কুল বন্ধ। কিন্ত বিশ্বাস করেন, সেদিনই ঘুম তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে যেত। এ যেন নিজের উপর নিজেরই এক অভিমান। আজই কেন দ্রুত ঘুম ভাঙলো! নাস্তা করে এলাকার বা বাসার সমবয়সীদের সাথে খেলা করা- এটা প্রথম ধাপ ছিল, তারপর গোসল, জুম্মার নামায। জুম্মার নামায শেষ করে, শুরু হত আসল শুক্রবার এর মজা। পাশের এলাকা কিংবা এলাকারই আরেক দল এর সাথে ক্রিকেট/ফুটবল ম্যাচ। বেশির ভাগ ম্যাচগুলোই হত এক/দুই লিটার কোক এর। যে দল জিতবে সেই দল এক সপ্তাহ বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় দেখলেই বিজয়ী বিজয়ী ভাব। সারা দুপুর বিকেল এই খেলাতে শেষ করে চলে আসতাম বাসায়, তবে সেটা অবশ্যই মাগরিবের আগে; মাগরিব এর আজান হলে ফলাফল খারাপ। উত্তম মাধ্যম কপালে থাকতোই। দিন শেষ হল, ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় সন্ধ্যার নাস্তা শেষ করে আবার শুক্রবারের অপেক্ষা। আজকাল বড় হয়েছি, গোলার্ধ ঘুরতে ঘুরতে এখনো শুক্রবার আসে, তবে কেন জানি মনে হয় ওই শুক্রবার আর এই শুক্রবারের তফাত এতই বেশি যে বর্তমানের শুক্রবার কিছুই না, জুম্মার নামায বাদে। আমার হারিয়ে যাওয়া সকাল আমার ক্লান্ত বিকাল, রেখে যাওয়া এক স্মৃতির ঘোর; সেটা ভেবে আমার নির্ঘুম রাত কাটে, তা দেখে হাসে  আমার বর্তমান ভোর।



আমিনুল ইসলাম মৃদুল
এইচএসসি পরিক্ষার্থী। সমাজ কি বলবে ভেবে দেখার আগে, ভেবে যাই আল্লাহ কে কি উত্তর দিব পরে?