ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

ঘুড়ি - লিখেছেন - নাফিসুল হোসেন সতেজ



সবারই ঘুড়ি আছে,তা নিয়ে কতোই না আনন্দ করে,নানাভাবে নানা রং এ তাঁদের ঘুড়ি সাজায়,নানা ভঙ্গীতে আকাশে ওড়ায়,আরো কত কি,

একদিন  খুব ইচ্ছে হলো, আমাদের ও ঘুড়ি থাকবে।সকলের থেকে আলাদাভাবে,আলাদা করে ওড়াবো,সকলের নজড় কেড়ে আমরাও আনন্দ করবো,খুব ভালো লাকবে তখন।
এক দীর্ঘ চেস্টার পর তোমার  উদ্ভব হলো,ঘুড়ি নামে তোমারও পরিচিতি দিলাম,খুব চমৎকারভাবে তোমাকে সাজালাম,তোমাকে সবার থেকে আকর্ষনীয় করার চেষ্টা অবিরত চলতেই থাকলো, 
অবশেষে সকলের নজড় কেড়ে  তোমায় আকাশের পানে ছেড়ে  দেওয়ার পালা এলো,তোমার মুক্ত আকাশে ছুটে বেড়ানোর পালা হলো,তাই ছেড়ে দিলাম তোমায় সেই মুক্ত বিশাল আকাশে,কিন্তু একবারের জন্যও তোমার হাত ছাড়িনি,  তোমার সাথে যে এক শক্ত বাধনে বাঁধা ছিলাম,কারণ তোমাকে এ মন দৃষ্টির আড়ালে যেতে দিতে চায়না, তোমার আনন্দপুর্ণ চঞ্চলতাই তো আমাদের আনন্দ দেয়,আমরা খুশি থাক,আর সে কারণ তুমিই,
তাই তোমার আনন্দে যেনো কোনো বাঁধা না এসে পড়ে তা নিয়েই আমদের সদা- ব্যাস্ততা,,
একদিন তোমার আকাশে,তোমার কাছ ঘেষে অচিন বেশে ভিড়লো এক নতুন ঘুড়ি,তুমি চাইলে তার কাছে যেতে, তার সাথে উড়তে,তাতে তোমার আনন্দ যেনো আরো বেড়ে যাবে, কিন্তু নিচে থেকে যে আমরা তা  চাইনি,তোমাকে বাঁধা দিয়েছি,কারণ আমরা জানি সে ঘুড়ি তোমার আনন্দের  সাথী নয়,সে তোমার আকস্মিক দুঃখের জন্যে বড় দায়।কিন্তু তুমি শুনলেনা,ছটফট করতে থাকলে,আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চাইলে,কিন্তু তা যে পারিনা,তোমাকে হারালে যে সবই বৃথা,তবুও তুমি খুশি থাকবে  বলে সেই ভয়ানক সাথীর পাশে তোমায় উড়তে দিলাম।তবুও তোমার দিকে  যে আমার লক্ষ্য ছিলো,কারণ, আমি জানি সে আকাশ সম্পর্কে তোমার জ্ঞান  সল্প,তোমার আকাশে হয়তো আমি প্রত্যক্ষভাবে যেতে  পারিনি,তবুও সে আকাশ সম্পর্কে আমার  ধারণা বিশদ।আমি যে জানি তার হঠাৎ রুক্ষ-পরিবর্তন।তাইতো তোমার দিকে আমাদের ক্ষীণ লক্ষ্যদৃষ্টি বিরাজমান থাকতো,কারণ তুমি যেনো আনন্দিত থাকো,বিপদমুক্ত  থাকো,তোমার আনন্দেই তো আমারা আনন্দিত। কিন্তু তুমি সেই লক্ষ্য চাইতেনা,নিজের মতো উড়তে চাইলে,তবুওতোমার মতো তোমায় উপভোগ করতে দিলাম,  
একদিন কি যেনো হলো,হঠাৎ তোমার আমার বাঁধন সেই সাথীর কারণে কেটে গেলো,তুমি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে লাগলে, আর আমি দূর থেকে অশ্রুজলে তোমার সে হারিয়ে যাওয়া দেখতে থাকলাম,আর মনে মনে নিজেকে দোষী করছিলাম তোমাকে সেই সাথী রুপী বিপদে যেতে দেওয়ার কারণে।তুমি সেই দূর থেকে আর্তনাদ করছিলে তোমাকে আগলে নেওয়ার জন্যে,কিন্তু তখন যে দেরী হয়ে গেলো,তুমি লুটিয়ে পড়লে  অচিন এক দেশে,অচিন এক স্থান,সেখানে তোমাকে যে আর কেউ আগলে নিলোনা,সুরক্ষাও করলোনা,সবকিছু হারিয়ে যন্ত্রণায় তুমি কাতর হয়ে পড়লে, তখন হয়তো তোমার সে আকাশ সম্পর্কে সম্পুর্ণ ধারণা হলো,তুমি সব বুঝতে পারলে।আর এদিকে আমরা অশ্রুজলে তোমায় খুজে ক্লান্ত হচ্ছি,তবুও, সর্বত্র তোমায় খুঁজেই বেরিয়েছি,  
সবশেষে একদূরদেশে, ধংসাত্বক, অবস্থায় তোমাকে পড়ে থাকতে দেখেছি আর তখন যে তোমার প্রতি আমার ক্রোধ ছিলোনা বরং,সেখান থেকে তোমায় আগলে নিয়েছি,তখন তুমি যেনো সস্তির বাতাস ফিরে পেলে।
আর তা দেখে আবার আমরা আনন্দিত হয়ে পড়লাম।তখন কিন্তু তোমাকে আর আকাশে না উড়ানোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধে আবদ্ধ হয়নি,হবোনা,তোমাকে আবার নতুন রুপে সাজাবো,তুমি আবার উড়বে,তোমার জন্য সাথীও এনে দেবো,শুধু তুমি খুশি থাকবে,আর তোমার খুশিতেই আমাদের খুশি থাকবে,আর শেষ সুর্যাস্ত পর্যন্ত তোমার দিকে  আমাদের লক্ষ্যদৃষ্টি চিরকাল থাকবে,থাকবেই,,,,,,,

★"সন্তানের প্রতি বাবা-মা"
নাফিসুল হোসেন সতেজ
আমি নাফিসুল হোসেন সতেজ, ঠিকানা,চান্দিনা কুমিল্লা, লেখাপড়া;দ্বাদশ শ্রেণি, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ,তেজগাঁ, ঢাকা-১২১৫ !