ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (পর্ব ৮) - লিখেছেন - আবীর হাসাম সায়েম



নবনীদের বাসার থেকে মুদির দোকানে যেতে বেশি হলে ১০-১৫ মিনিট লাগে কিন্তু লতিফ সাহেবের বাড়ি ফিরতে ২ ঘন্টা লেগে গেলো। বাইরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রাফা যখনই রওনা করবে তখন ঝপঝপিয়ে বৃষ্টি নামল। লতিফ সাহেব বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে গেছেন । মাথা মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকলেন। রাবেয়া খাতুন কঠিন গলায় বলল,
   " এই নীচের থেকে চিনি আনতে এতক্ষন লেগে গেলো?"

  " আরে, সুমন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। "

রাবেয়া খাতুন কৌতূহলি গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
   "কি বললেন তিনি? "

 "তিনি বললেন একজন ডোনার খুজে বের করতে হবে। যার হৃদপিন্ডকে নবনীর শরীরে ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে।"

রাবেয়া খাতুন নিরাশ গলায় বললেন,
  " এ কি আদো সম্ভব? একজনের হৃদপিন্ড কেউ কেনো দিবে?তাহলে ওই লোক বাঁঁচবে কিভাবে?"

  "যদি এমন কোনো মানুষ পাওয়া যায় যার   ব্রেন ডেড কিন্তু এখনো জীবন্ত কিংবা ক্লিনিকালি ডেড মানুষ হলেও হবে। আর বাংলাদেশে এই অপারেশনে খুব কম সাক্সেসফুল হয়।নবনীকে
 ইন্ডিয়ার চেন্নাইতে নিয়ে যেতে বললেন ডাক্তার সুমন।"
 
 "ইন্ডিয়ায় নাহয় নিয়ে যাবো কিন্তু এমন মানুষ পাবো কোথায় যার ব্রেন ডেড বা ক্লিনিকালি ডেড?"

লতিফ সাহেব চিন্তিত গোলায় বললেন,

 "সেইটাই তো কথা। সুমন ডাক্তার বললেন সে খবর নিবেন,তার হাসপাতালে এমন কেও আছে কিনা।আমাদের কেও দেখতে বললেন।"
 
"আচ্ছা রাফাকে বললে কেমন হয়? ও যদি কোনো সাহায্য করতে পারে।"

"রাফা আজকে থাকবে?"

"হ্যা, যখন বের হতে নিয়েছিল তখনই বৃষ্টিটা নামল। নবনী রাফাকে আর যেতে দিলো না। নবনী আজ নিজেই রাঁধছে।"

"তাহলে তো ওকে বলাই যায়। "

ডালে একটুও লবণ হয়নি আবার রুই মাছের দোপেয়াজায় লবণ ঢেলে দেয়া হয়েছে। এর থেকে ছালাদিয়া হোটেলের খাবারও অনেক মজা।
নবনী লতিফ সাহেবকে জিজ্ঞেস করল,
  "খাবার কেমন হয়েছে বাবা?"
"খুব ভালো মা। তোর রান্না তো এমনেতেও মজা।"
 
রাবেয়া খাতুনও লতিফ সাহেবের সাথে তালমিলিয়ে বললেন,
  "হ্যা, অনেকদিন পর রাঁধলি খেতে ভালোই লাগছে।"

নবনী রাফাকে জিজ্ঞেস করল,
 "তোর ভালো লাগে নি? "
রাফা বলল,
  "ডালে লবণ নেই। আর মাছে লবণ একদম ঢেলে দিয়েছিস। আলাদা আলাদা খেলে কুখাদ্য। কিন্তু ২টা একসাথে মিলিয়ে খেলে বেশ মজাই লাগে।"

নবনী হাসি মুখে বলল,
 " আমি ইচ্ছে করেই লবণ কম-বেশি দিয়েছি। দেখলাম তুই সত্যি বলিস নাকি তাদের মতো আমাকে খুশি করার জন্য বলিস।"
 
কেউ আর কোনো কথা বলল না। চুপচাপ খেয়ে একজন একজন করে উঠে গেলো।

রাফা শুয়ে আছে। মুখের সামনে একটা বই। বইয়ের নাম "যেভাবে দিন কাটে" এক তরুণ লেখকের বই। কবিতার বই কিন্তু মনে হচ্ছে ছোট গল্প লিখে রেখেছে। তাও রাফার পড়তে হচ্ছে কারণ ঘরে মাত্র একটাই সাহিত্যের বই আছে।বাকি সব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই। নবনীদের বাড়িতে কিছু জিনিস রাফা খুব ভালো লাগে। যেমন প্রতিটা রুমের সাথে দরজা আছে। যেকেউ যেকোনো সময় ঘরে ঢুকে বিরক্ত করতে পারবে না।

লতিফ সাহেব দরজায় টোকা দিলেন।
রাফা রুমের ভিতর থেকে বলল,
  "কে? "
  "রাফা, আমি।"
  "অহ আচ্ছা খালু।  একটু দাঁড়ান দরজা খুলে দিচ্ছি।"

রাফা দরজা খুলে দিলো। লতিফ সাহেব ভিতরে ঢুকলেন।
"কি করছো রাফা?"
"এইতো খালু বই পড়ছিলাম।"
"ওহ আচ্ছা।"
 লতিফ সাহেব খাটের সামনে পাতা চেয়ারে বসতে বসতে বললেন,
  "একটু গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো তাই বিরক্ত করলাম।"
  "না না খালু  বিরক্ত করেন নি। বলুন কি বলবেন।"
 লতিফ সাহেব পুরো ব্যাপারটা খুলে বলে। সব কিছু শুনে রাফা বলে,
  " খালু ডোনার খুজে পাবো কি না জানি না কিন্তু আমি ৩ বার ইন্ডিয়াতে গিয়েছি। আপনারা গেলে আমি সাহায্য করতে পারি। "
  "ঠিক আছে।  ডোনারের ব্যাপারটা একটু খবর নিও, যদি পাও।"
  "ঠিক আছে খালু। "
 লতিফ সাহেব উঠে গেলেন। রাফাও রুমের দরজা লাগিয়ে শুয়ে পরল।


আবীর হাসাম সায়েম
ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।