ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (পর্ব ৭) - লিখেছেন - আবীর হাসাম সায়েম


চৈতি হাওয়া,ছোটোগল্প,সাহিত্য,বিজ্ঞান,রম্য,উপন্যাস,কবিতা


রাবেয়া খাতুন ঘুম থেকে উঠেছেন। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। তিশা এসে বলে গেছে যে রাফা এসেছে। রাবেয়া খাতুন মনে মনে খুশিই হয়েছেন। রাফার সাথে তার গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। রাবেয়া বেগম ড্রয়িংরুমে গেলেন। রাফা সোফায় বসে লতিফ সাহেবের সাথে কথা বলছিলো। রাবেয়া খাতুনকে দেখে রাফা বলল,
"কেমন আছেন খালা?"
"ভালো। অনেকদিন পর তোমার সাথে দেখা হলো।কেমন আছো তুমি?"
"জ্বি ভালো।"
রাবেয়া খাতুন রান্নাঘরে চলে গেলেন। তার মাথার ঝিমঝিমানি মোটেই কমছে না।
নবনীর ফ্যাকাশে ভাবটা বারবার চোখে পরছে। মনে হচ্ছে শরীরে রক্তের ঘটতি। রাফা ভাবল নবনীকে জিজ্ঞেস করবে কি হয়েছে ওর। কিন্তু লতিফ সাহেবের কথার বাধ ভেজ্ঞে গেছে। অনরগলভাবে কথা বলেই যাচ্ছেন।
রাবেয়া খাতুন লতিফ সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"এই ঘরে চিনি নেই। ২ কেজি চিনি নিয়ে আসোতো।"

লতিফ সাহেবের কথা তখনো শেষ হয় নি কিন্তু রাবেয়া বেগমের কথা অমান্য করার সাহস লতিফ সাহেবের নেই। লতিফ সাহেব উঠে গেলেন। নবনীও তার রুমে চলে গেলো।লতিফ সাহেবের জায়গায় রাবেয়া বেগম বসলেন।
রাবেয়া খাতুন মলিন গলায় বললেন,

"রাফা, নবনীর সাথে তোমার কথা হয়েছে? ও অনেক অসুস্থ।"

"না তেমন কোনো কথা হয় নি। কিন্তু ওর মুখটা ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিলো। "

" নবনীর বিয়ের পর ও প্রায়ই অসুস্থ থাকত। কিন্তু ওর বর কিংবা ওর ফেমিলি কেওই তেমন প্রাধান্য দেয় নি। একবার খুব অসুস্থ হয়ে পরল। অনেকগুলো পরিক্ষা করার পর ডাক্তার বলল যে নবনীর হার্টে ফুটো দেখা দিয়েছে। "
এইটা বলেই রাবেয়া খাতুন আচল দিয়ে মুখ চোখ মুছলেন। রাফা বলল,
"ডাক্তার কি বলেছে? "
রাবেয়া খাতুন কাদতে কাদতে বললেন,
"ডাক্তার বলেছেন খুব তাড়াতাড়ি অপারেশন করাতে হবে।কোনো একজন থেকে হৃদপিন্ড ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে।কিন্তু এমন ডোনার পাওয়া খুব শক্ত।"

রাফা বিষন্ন গলায় বলল,
"নবনীর বর আর তার পরিবার কি বলেছে?"

"গত সপ্তাহে তারা নবনীকে এই বাসায় দিয়ে যায়। এরপর আর ফোন ধরছিলো না তাদের পরিবারের কেও। গত পরশু তোমার খালু ওদের বাড়ি গিয়েছিলো। ওরা বলেছে আমার মেয়েকে তারা আর বাড়িতে তুলবে না। তালাকের কাগজ পাঠিয়ে দিবে বাসায়।"
রাবেয়া খাতুন কাদতে কাদতে আচল ভিজিয়ে ফেলেছেন।

রাফার মাথায় ২টি লাইন ঘুরতে লাগল।
(লাইনটি পাঠক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বানিয়ে নেবেন।)

লেখকঃ আবীর হাসাম সায়েম

ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।