ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

বুক রিভিউ: আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব





বইয়ের নাম: আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব
লেখক: মোহাম্মাদ জিশান
প্রকাশক: প্রান্ত প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্য: ২০০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০


সবাই জানেন আইনস্টাইন বিষ্ময়কর কিছু একটা বলেছিলেন। যদি প্রশ্ন করা হয় সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী কে? তাহলে যদি দুইটা উত্তর আসে তাহলে সম্ভবত তার একটা উত্তর আইনস্টাইন হবে। সে উত্তর যেই দিন না কেন।
কিন্তু আইনস্টাইন কি বলেছিলেন? যে বলা হয় তিনি নাকি নতুন পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা করেছেন। আইনস্টাইনের কাজের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত আর পরিচিত হলো আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব আর সাধারন তত্ত্ব। মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা মোটামুটি এইটুকু জানে। আইনস্টাইনের অসাধারন চিন্তা শক্তি আমাদেরকে প্রথম ১৯০৫ এ আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব উপহার দিয়েছিল। বেশ সহজ ও বিষ্ময়কর একটা তত্ত্ব। এই বিশেষ তত্ত্ব সম্পর্কে যেন সাধারন মানুষ জানতে পারে এজন্য অনেক বিজ্ঞানী লিখেছিলেন। উদ্দেশ্য, আমাদেরকে বুঝাতে কি আছে এই তত্ত্বে, কি বলা হচ্ছে এই তত্ত্বে।


আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব বইটিতে প্রথমে শুরু করা হয়েছে আইনস্টাইনের জীবন কাহিনী নিয়ে, যেন এটি সকলের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা ও গবেষণার বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্ব আছে সমগ্র বইটিতে। যেন আমাদের উদ্দেশ্য বিশেষ আপেক্ষিকতা রি-ইনভেন্ট করা।
 
এবার বেশ কিছু মৌলিক ধারণা নিয়ে কিছু অংশ ব্যয় করা হয়েছে। যেন সবাই গোড়া থেকে বুঝতে পারে। গোড়া বলতে মাত্রা, পরিমাপ এমন কিছু বিষয়। কো-অর্ডিনেট জ্যামিতি এসব জটিল জিনিস ঢুকানো হয় নি (লেখক নিজেই ব্যপারগুলোকে সহজভাবে দেখেন, তাই পাঠকদের জন্য কোন অংশই জটিল করেননি)।  

তারপর আসে গতি-স্থিতি এসব নিয়ে আলোচনা। কিছু সংগ্রহীত ছবি সংযোজন করা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে।

আপেক্ষিক গতিহীন একটা বেগ নিয়ে আলোচনাঃ
আলোর বেগ। শুরুতে আমরা গ্যালিলিয়ান রুপান্তর থেকে যা জানি সেটাই মেনে সব গাণিতিক হিসেব করা হয়েছে। মানে বিরোধিতা করা যে আলোরও আপেক্ষিক বেগ আছে। শেষে মাইকেলসন-মর্লি পরীক্ষা দিয়ে দেখানোই হলো যে আলোর আপেক্ষিক বেগ নেই।
 
এবার তড়িৎ-চৌম্বক তত্ত্বকে ঠিক রাখতে রেফারেন্স ফ্রেমের রুপান্তর গুলো নিয়ে লরেঞ্জের খাটা-খাটুনি। সেটা নিয়ে কয়েক পেজ ।
এবার মৌলিক নীতি হয়ে গেল যে, সব ক্ষেত্রেই শূন্য স্থানে আলোর বেগ হয়ে গেল ধ্রুবক।  

এই দুই কথাই বলা হয়েছে বই জুড়ে। তাতে একবার সময়কে ধীরে চলতে হলো, আবার দৈর্ঘ্য সংকুচিত হতে হলো, একবার ভর বাড়লো, আবার বেড়ে যাওয়া ভরের হদিস মিললো গতি শক্তি থেকে। প্রতিটা অংশে আছে কিছু অংক। দু’একটার সমাধান করা আছে, (বাকিগুলো তৈরি করা হয়েছে পাঠকের জন্য) ।

কিছু বিকল্প প্রমাণ করা আছে ছোটদের জন্য। আপেক্ষিকবেগের সঠিক সূত্রটাও প্রমাণ করা আছে। আর আছে ভাবনা উদ্রেগকারী কিছু জটিল গণিত।  

আকর্ষনীয় বিষয় যে, লেখক ভর শক্তি যোগজ ব্যবহার করে বেশ শক্তিশালী ভাবে প্রমাণ করেছেন। হিসাবটা একটু বড়োই করেছেন বোঝার সুবিধার্থে। ভর-শক্তি থেকে আলোচনা গড়িয়েছে পরমাণুর ভেতরের দুনিয়ায়।  

বদলে যাওয়া নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে আপেক্ষিক তত্ত্বের ফলিত প্রয়োগ, তরঙ্গের ডপলার ক্রিয়া এবং ডপলার ক্রিয়ার আপেক্ষিক রূপ কি নেই এই বইটিতে? ছোট্ট করে বলা আছে কিভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে পারমানবিক বোমা।
বিজ্ঞান লেখক মোহাম্মাদ জিশান তার প্রথম বইটি শেষ করলেন বিভ্রান্তি দিয়ে। টুইন প্যারাডক্স আর খামার বাড়ি রহস্য মাথায় নিয়ে বইটি শেষ করতে কারোই মন্দ লাগবে না।

সবশেষে এটাই বলা যায়, এমন সুলিখিত বই পড়ে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বকে বেশ সহজ সাধারণ ভাবেই পড়ে ফেলা সম্ভব।


সূচিপত্রঃ
০১. আইনস্টাইনঃ বিজ্ঞান জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র
০২. কিছু মৌলিক ধারনাঃ প্রসঙ্গ কাঠামো, পরিমাপ, একক, মাত্রা ও সময়
০৩. গতি ও স্থিতি
০৪. গ্যালিলিও রূপান্তরঃস্থানাংকের রূপান্তর,বেগের রূপান্তর
০৫. আপেক্ষিকতার শুরু
০৬. গ্যালিলিও রূপান্তর আলোর বেগ
০৭. তড়িৎ-চৌম্বকত্ব ও ইথার
০৮. মাইকেলসন-মোরলে পরীক্ষা
০৯. আলোর বেগ
১০. লরেঞ্জ রূপান্তর
১১. আপেক্ষিক তত্ত্বে প্রবেশ
১২. সময় প্রসারন
১৩. কালের দীর্ঘায়ন নিয়ে আরো আলোচনা
১৪. মিউওনের জীবন রহস্য
১৫. দৈর্ঘ্য সংকোচন
১৬. আপেক্ষিক বেগের রূপান্তর
১৭. আপেক্ষিক ভর
১৮. প্রতিজ্ঞাঃআলোর বেগই সর্বোচ্চ বেগ
১৯. নিউটনের সূত্রের আপেক্ষিক তত্ত্বীয় রূপ
২০. আপেক্ষিক ভর-বেগ
২১. গতিশক্তি ও আপেক্ষিক গতিশক্তি
২২. ভর-শক্তি
২৩. নতুন একক ও ভরের নতুন পরিমাপ
২৪. শক্তি ও ভরবেগ
২৫. শক্তি ও তরঙ্গ
২৬. ভরকে যেভাবে শক্তিতে পরিনত করা হল
২৭. ভর থেকে শক্তির রূপান্তর বা পরমানু শক্তি
২৮. ডপলার ইফেক্ট
২৯. আপেক্ষিক ড্রপলার ইফেক্ট
৩০. চেরেনকভ রেডিয়েশন
৩১. টুইন প্যারাডক্স
৩২. দ্যা ফার্মার এন্ড দ্যা বার্ন প্যারাডক্স  


মোহাম্মাদ জিশান
মোহাম্মাদ জিশান পড়ছেন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে। পছন্দের বিষয় গণিত পদার্থবিজ্ঞান। প্রকৃতি প্রেমী আর রোমাঞ্চ সন্ধানী। সময় পেলেই বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে বসে যান। লক্ষ্য পদার্থবিজ্ঞানের বড় বড় রহস্য সমাধান করা।