ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

একজন আকরাম খান ও আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রা - লিখেছেন - আশফাক রুমন



“ম্যাচ শেষে আমাদের বেশিরভাগই চুপ করে বসে ভাবছিলাম আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমি নিশ্চিত ছিলাম যে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখানেই শেষ। আমদের বেশিরভাগ সিনিয়র প্লেয়াররাই তাদের সেরা ফর্মে ছিলো এবং ‘৯৭ এ আমরা আবার এটা করতে পারব এটা ভাবতে পারছিলাম না। আমরা ভাবছিলাম এখন ফুটবল ক্রিকেটকে খেয়ে ফেলবে আর যে মোমেন্টামটা আমরা পেয়ছি তা চিরতরে হারিয়ে যাবে। আমাদের ক্যারিয়ারের সবচাইতে কঠিন সময় ছিলো এটি”….. “


১৯৯৪ আইসিসি ট্রফিতে কেনিয়ার সাথে গ্রুপ পর্বের সেকেন্ড রাউন্ডের ম্যাচ হারার পরের চিত্রটা এভাবেই বর্ণনা করেন আকরাম খান। ৯৪ এর আইসিসি ট্রফিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। সেবারই প্রথমবার তিনটি নতুন দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে জানায় আইসিসি। ছোটদের বড়দল জিম্বাবুয়েকে টেস্ট স্ট্যাটাস দিয়ে দেয়ায় তারা আইসিসি ট্রফি খেলার যোগ্যতা হারায় আর সেই সুবাদে টুর্নামেন্ট হয়ে যায় “ওপেন ফর এভরিবডি।” ১৯৯০ এর টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সাথে সেমিফাইনাল হারায় ১৯৯৪ এ বাংলাদেশ ছিলো ফেভারিট। প্রথম রাউন্ড উতরে ভালোই শুরু করে বাংলাদেশ কিন্তু সেকেন্ড রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। কোচ মহিন্দর অমরনাথের “ধীরে খেলো” কথাকে একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ২০৬ রান চেজ করতে গিয়ে ১৪ ওভারে ১২ রান তুলে! সেই ম্যাচ আর জেতা হয়না, ৪৭ রানে হেরে বসে বাংলাদেশ। ধীরে খেলা আর ঠেলাগাড়ি চালানি কি এক কাজ? এরপর কেনিয়ার সাথে ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচে মরিস উদুম্বের সেঞ্চুরিতে কেনিয়া করে ২৯৫ রান। সেই আমলে ২৮০ প্লাস স্কোর চেজ করা ছিলো বিরাট কষ্টসাধ্য কাজ। সেখানে কি আর ২৯৫ অত সহজে করা যায়? তাও বাংলাদেশ মরণ কামড় দিয়ে মাত্র ১৩ রানে হারে। হার ত দিনশেষে হারই। আর যে হারে ঘরের আংগিনা উপমহাদেশে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ খোয়া যায় সেই জ্বালা কি মেটে বলেন?
     


প্রেক্ষাপটটা বর্ণনা না করলে শুরুতে আকরাম খানের কথাগুলো হজম করতে সমস্যা হবে অনেকের। বিশেষ করে যাদের জন্মই ৯০ এর দশকে তারা “ফুটবল কর্তৃক ক্রিকেটকে গিলে ফেলা” লাইনটিতে যারপরনাই আশ্চর্য হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট মূলত দর্শক টানা শুরু করে ১৯৯০ এ ঢাকা লীগে বিদেশী প্লেয়ারদের খেলার সুযোগ দেয়ার পর থেকে। ‘৯২ এর বিশ্বকাপ পাকিস্তান জেতার পর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ খেলতে পারার স্বপ্নটাই ক্রিকেটকে ফুটবলের সাথে পাল্লা দেয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছিলো। যখন সবাই ধরেই নিয়েছে যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলছে তখনই এই বাদ পরাটা খুবই কঠিন সময় ছিল। আকরাম খানের সেই চিন্তা তাই একদম সঠিকই ছিলো।

যাক ফুটবল একেবারে ক্রিকেট গিলে খেতে পারলোনা। ঢাকা লীগ জমজমাট হতে লাগলো ওয়াসিম আকরাম, নীল ফেয়ারব্রাদারদের মতো আন্তর্জাতিক স্টারদের সাথে দেশি প্লেয়ারদের পারফর্ম্যান্সকে সাথে করে। ১৯৯৬ এ শ্রীলংকা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আশার পালে হাওয়া আরও জোরে বইতে লাগলো। আন্ডারডগ টিম যদি বিশ্বকাপ জিতে যেতে পারে তাহলে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারবোনা কেনো?

অবশেষে আসলো ১৯৯৭ সন, কুয়ালালামপুর । ‘৯৪ এর ব্যর্থতার পর ক্রিকেট টিকে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু ‘৯৭ এও যদি আমরা ব্যর্থ হই তাহলে ক্রিকেটে ইনভেস্টমেন্ট, আগ্রহ সবই শেষ হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা নিয়েই বাংলাদেশ খেলতে গেলো আইসিসি ট্রফি। ক্রিকেট ক্লাবভিত্তিক স্পোর্টস না। ক্রিকেট আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে খেলার স্পোর্টস। এটা আমরা ভীষণভাবে টের পেলাম সে বার।

শুরুটা যথারীতি ভালোই হলো। বাংলাদেশ আরামেই সেকেন্ড রাউন্ডে গেলো। আমরাও ধরে নিলাম বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলছে। কারন? চিরশত্রু কেনিয়া যে অন্য গ্রুপে। বাংলাদেশের গ্রুপে পরেছিল আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড আর হংকং। সেকেন্ড রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটা হংকং এর সাথে ৭ উইকেটে আরামে জিতলেও এই টুর্নামেন্ট যে আমাদের স্নায়ুর সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়েই ছাড়বে তা আল্লাহ পাক বুঝায়ে দিলেন পরের ম্যাচেই। আয়ারল্যান্ড মাত্র ১২৯ রানে প্যাকেট হয়ে যাওয়ার পরেও বৃষ্টির কারনে ম্যাচ বাতিল হলো, কপালে জুটলো ১পয়েন্ট। ১৯৯৪ এ যাদের কারনে বাদ পড়েছিলো বাংলাদেশ সেই তাদের সাথে ম্যাচটা হয়ে গেলো অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচ। সীতার অগ্নিপরীক্ষার মতো করেই বাংলাদেশী প্লেয়ার আর দর্শকদের পরীক্ষা নিলেন ক্রিকেট বিধাতা।

চলুন সেই ম্যাচের কাহিনীটা বলে আজকের লেখা শেষ করি। নেদারল্যান্ডসকে প্রথমে ব্যাটিং এর আমন্ত্রণ জানায়। শান্ত, আতাহার, সাইফুলদের বোলিং তোপে মাত্র ১৭১ রানেই গুটিয়ে যায় “টোটাল ফুটবল” এর দেশের ক্রিকেট টিম।

অনেকটা নির্ভার হয়েই নামে বাংলাদেশ। আকরাম খানের বয়ানে, “লাঞ্চের টাইমে আমি ভেবেছিলাম আমাকে নামতেই হবেনা কিন্তু হঠাৎ করেই দেখি ১৫ রানে ৪ উইকেট নেই। তড়িঘড়ি করে পিচে গেলাম।” তবে এই ‘তড়িঘড়ি’ কিন্তু আসল তড়িঘড়ি না। টপাটপ উইকেট পড়ার সময়ই বাংলাদেশ খেলার স্ট্র্যাটেজি পালটিয়ে ফেলে। লক্ষ্য যেহেতু বিশ্বকাপ খেলা তাই ‘হুদাই বীরত্ব’ না দেখিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করাই ‘স্মার্ট বয়’ এর মতো কাজ হবে। আমাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য বৃষ্টিও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল। যেহেতু ১ পয়েন্ট জুটলেই আমাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হচ্ছে তাই ক্রিজে থাকা আকরাম খান আর মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর প্রাথমিক লক্ষ্য দাঁড়ালো বৃষ্টিতে ম্যাচ বাতিল করা। ডি/এল মেথডে বাংলাদেশ দরকারি রানের চেয়ে এগিয়েছিলো আর এই হিসেবকে সামনে রেখে নান্নু আর আকরাম শুরু করলেন গড়িমসি। ইংল্যান্ডের আম্পায়ারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একবার গ্লাভস পাল্টান তো আরেকবার হেলম্যাট রেখে ক্যাপ আনতে বলেন। পাশের পার্কে চলমান বৃষ্টিকে এই মাঠে আনাই হলো লক্ষ্য। মাঠে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনতে থাকা অগুনিত দর্শক তখন বৃষ্টি দেবতাকে ডাকছে। অবশেষে ১৯.২ ওভারে বৃষ্টি এলো। আকরাম খান বাতাসে হাত ছুড়লেন খুশিতে। তিনি কি জানতেন কী ভুলটাই না হলো?



বৃষ্টির মাঝে ম্যাচ রেফারি সাফ জানিয়ে দিলেন ডি/এল অনুযায়ী যদি খেলা না হয় তাহলে নেদারল্যান্ডস জয়ী হবে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে আগে নান্নু আউট হয়ে যাওয়াতে ডি/এল মেথডে বাংলাদেশ উলটো পিছিয়ে পরে। অতএব, আমাদের ১ পয়েন্টের স্বপ্ন তখন পানিতে। ম্যাচ যদি মাঠে না গড়ায় তাহলে আমাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ! আধাঘণ্টা আগেই বৃষ্টিদেবতাকে তুষ্ট করায় ব্যস্ত বাঙালিরা এখন উলটো বৃষ্টি দেবতাকে বিদেয় করতে উঠেপড়ে লাগলো। কোটি মানুষের আর্তনাদে অবশেষে বৃষ্টি পালালো কিন্তু মাঠের তো ১২টা বেজে গেলো! এই সময়ের এত আধুনিক সুযোগ সুবিধা তখন ছিলোনা, ছিলোনা পর্যাপ্ত জনবল। সেই অপর্যাপ্ততা ঘুচিয়ে দিলো ভালোবাসা। যারা ‘ক্রিকেট পাগল’ জাতি বলতে শুধু গ্যালারিতে বসে চিৎকার আর ফেসবুক, চায়ের স্টলে জ্ঞান বিলানো বাংলাদেশী বুঝে তাদের জন্য সেদিনের উদাহরণটা বারবার দেয়া দরকার। সেদিন পুরো বিশ্ব জেনেছিল বাঙালি আসলে কতটা ক্রিকেট পাগল! প্লেয়ার, সাংবাদিক, টিম ম্যানেজমেন্ট এমনকি মাঠের দর্শকরা পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল মাঠের পানি পরিষ্কার করতে। গায়ে দেয়ার তোয়ালে, স্পঞ্জ, কাপড় যে যা পাচ্ছিল তা নিয়েই নেমে গেলো মাঠের পানি পরিষ্কার করতে। দূর থেকে সেই দৃশ্যের বর্ণনা রেডিওতে শুনে সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত তুলে কাঁদছিল ১০ কোটি বাঙালি। একটি খেলা, একটু বৃষ্টি বাংলাদেশের সকল মানুষকে নিয়ে এলো এক লাইনে। কায়মনোবাক্যে একটাই প্রার্থনা, “খেলা যেনো হয়, বৈশ্বিক মন্ডলে সেরাদের মাঝে যেনো একটিবার বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরা যায়।” এই প্রার্থনাতে তো পাথরেরও মন গলে যাবে আর সৃষ্টিকর্তা চুপ থাকবেন? বৃষ্টি আর এলো না। মাঠের পানি শুকিয়ে গেলো। নতুন লক্ষ্য দাঁড়ালো ৩৩ ওভারে ১৪১। গেম ইজ অন।



বৃষ্টির আগে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মিনহাজুল আবেদিন নান্নু রান আউট হওয়ায় ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। বৃষ্টিভেজা টার্ফ আর মাঠে ৫ উইকেটে হাতে ৬৪ রান তোলাও যেনো ছিলো এভারেস্টে উঠার মতো কাজ। এই ৫টি উইকেটের নাম শুনুন, তাহলে আপনারও ভয় লাগতে পারে। আকরাম খানের সাথে ক্রিজে আছেন বাঁহাতি অফ স্পিনার ও ‘একটু ব্যাট করতে পারা’ এনামুল হক মনি। ব্যাট করতে বাকি উইকেট রক্ষক খালেদ মাসুদ পাইলট, বাঁহাতি স্পিনার রফিক আর দুই পেসার সাইফুল আর শান্ত। এদের উপর ভরসা করে বৃষ্টি ভেজা মাঠ আর ভয়াবহ চাপ নিয়ে ঐ রান করা সম্ভব? আকরাম খানের ভাষায়, “আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত ছিলাম। ১৯৯৪ এর পর এবারও যদি আমরা হেরে যাই তাহলে হয়ত আর ইন্টারন্যাশানাল ক্রিকেটই খেলা হবেনা আমাদের ।” তবে মাঠে নামার পর এই শংকা শক্তিতে রূপ নিলো। ” আমি জানতাম শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকলে আমরা এই ম্যাচ জিততে পারব।” তবে শুধু সাহসেই তো ম্যাচ জেতা যায়না, খেলাও লাগে। সেই খেলাটাই যে খেলতে পারছিলো না কেউ। দলীয় ৮৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলো। আউট হয়ে গেলেন এনামুল হক মনি। ব্যাট করতে নামলেন পেসার সাইফুল ইসলাম। অপরপাশে ক্যাপ্টেনকে একা যুদ্ধ করতে দেখে তার ব্যাটও কথা শুনতে শুরু করলো যেনো। পরাজয়ের ভয়ে কাঁপতে থাকা তটস্থ বাঙালিরা হালে পানি পেলো। কেউ তো দাঁড়ালো ক্যাপ্টেনের সাথে। আর ক্যাপ্টেন? ঠান্ডা মাথায় দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের তীরে। ১৩৬ রানে সাইফুল ইসলাম আউট হওয়ার পর নামলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। আর কোনো সুযোগ নিলেন না আকরাম খান। পাইলটকে একটি বলও খেলতে না দিয়ে করে ফেললেন দরকারি ৫টি রান। ১ ওভার ২ বল হাতে রেখেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছিয়ে দিলেন। বুনো উল্লাসে মেতে উঠল ড্রেসিং রুম। আতাহার আলীর ভাষায়, “বাংলাদেশের পতাকা আমার সারা গায়ে জড়ানো ছিলো এবং ম্যাচ শেষেও অনেকক্ষণ আমরা মাঠে ছিলাম।” আকরাম খানের ভাষ্যমতে সেদিন সবাই কেঁদেছিল। প্লেয়ার, মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক, বন্ধু বান্ধব, দর্শক সবাই কেঁদেছিল সেদিন। তবে সবচাইতে বেশি কেঁদেছিল দলের কোচ গর্ডন গ্রিনিজ। পুরো পৃথিবীতে শাসন করে বেড়ানো সর্বজয়ী দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান যখন কাঁদেন তখন বুঝে নিতে কারোরই সমস্যা হওয়ার কথা না যে এই জয়টা কত গুরুত্বপূর্ণ আর কতটা অসহায় জায়গা থেকে এই জয়টা এসেছে!

কেমন ছিলো আকরাম খানের সেই ইনিংস। ওয়েল, আমাদের হাতে কোনো ভিডিও এভিডেন্স নেই। তাই আমাদের ভরসা করতে হচ্ছে জার্নালিস্ট আর মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উপর। তাদের সাক্ষ্যমতে এটি ছিল ‘চান্সলেস ও কনফিডেন্ট’ ইনিংস। আমরা যারা রেডিওতে ধারাভাষ্য শুনেছি তারা কেউ মনে করতে পারবে না যে আকরাম খান লাইফ পেয়েছে বা প্যানিক করেছে। এটি ছিলো নিশ্ছিদ্র একটি ইনিংস।

 




ঐ ম্যাচটি ওয়ানডে ইন্টারন্যাশানাল ছিলোনা, ছিলোনা কোনো টেস্ট ক্রিকেটের শেষ ইনিংসের থ্রিলার। ক্রিকেটের কূলীন সমাজে এই ইনিংস তাই আলাদা মর্যাদা পাওয়ার কোনো কারন নেই। ‘লাইফটাইম ইনিংস’ বলতে আমরা লারা, মেন্ডিস, স্টোকস, স্টিভ ওয়াহ, শচীন টেন্ডুলকারের ইনিংসগুলাকেই এগিয়ে রাখি, চায়ের কাপে ঝড় তুলি, ঝগড়া করি। লারার ১৫৭, স্টোকসের ১৩৫ না হলে ক্রিকেটের ক্ষতি হতো কিন্তু আকরাম খানের ৬৮ না হলে ক্রিকেট মানচিত্রটাই অন্যরকম হতো। বাংলাদেশ নামক দেশটি সেখানে থাকতোনা যে!
আশফাক রুমন
সিনেমা দেখতে পছন্দ করি আর ভালোবাসি অলস শুয়ে শুয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেট দেখতে।।