ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

ভাঙন - মোঃ খশরু

ছবিঃএনামুর রেজা




“ আব্বা , গাঙের পানি বাড়তাছে । লগিডা যেদিন ডুববো , আমাগো বাড়িও ওইদিন ডুববো । আব্বা একডা বড় লগি গারবার পারেন না , যেডা কোনোদিন ডুববোনা ? ”


     রবিউল পানিতে ঢিল ছোঁড়ে । কাল অব্দি খুঁটির তিনহাত পর্যন্ত পানি ছিলো । আজ সাত হাত । প্রতি রাতে তিন থেকে চারহাত করে পানি বাড়ে । এভাবে বাড়তে থাকলে দু - একদিনে ঘর তলিয়ে যাবে । রবিউল খুঁটিটায় ঢিল লাগাতে চায় , পারেনা । বাতাসের কারণে কিছুটা বেঁকে গিয়ে পানিতে পরে । কয়েক মূহুর্তে ইটের টুকরো পানিতে ডুবে যায় । তাহলে কি ইটের টুকরোর মতোই  রবিউলদের বাড়িও পানিতে তলিয়ে যাবে ? রবিউল মনে মনে ভাবে ।

    ছোট মনে এতো বড় ভাবনার শেষ খুঁজে পায়না বলে ভাবনার কিনারা করতে পারেনা । রবিউলের ভাবনা সে সুন্দর একটা বাড়ি বানাবে । সুন্দর সদর দরজা থাকবে । নদীর পাশে ছোট্ট একটা দু'চালা ঘর । ওর ঘরের জানালাটা হবে নদীর পাশে । দিনে রাতে সমান বাতাস লাগবে ঘরে । নদীর ঢেউ দেখা যাবে । জোয়ার ভাটা সব দেখা যাবে । চাঁদের আলো এসে জানালায় পরবে । নদীর পানি সে আলোয় ঝিলিক দেবে । রবিউল মন ভোরে সে দৃশ্য অনুভব করবে । তখন ওদের গ্রামটা দেখা যাবে শিল্পীর আঁকা ছবির মতো । ঠিক ওর বাংলা বইয়ের গ্রামের দৃশ্য যেমিন , তেমন । রবিউল এই নদীর পাশেই ঘর বানাবে । মাটি দিয়ে খুব উঁচুতে । নদীর পানিতে সে ঘর ডুববেনা । ওর পোষা পাখিটাকে বারান্দায় না রেখে রাখবে জানালার কাছে । পাখিটা ডানা ঝাপটে কিচির মিচির করে ওকে গান শোনাবে ।


    রবিউল দীর্ঘশ্বাস ফেলে । আরেকটা ঢিল হাতে তোলে । এবার নিশানা ঠিক করে নেয় । নিশানায় তাক করে ঠিক খুঁটিতে লাগায় ।


    “ আব্বা । আমাগো ঘর ভাইঙা পানিতে ভাইসা গেলে আমরা থাকুম কই ? ”


    রহমত আলী উত্তর দেয়না । উত্তর জানা থাকলে হয়তো বলা যেতো । এমন প্রশ্নের উত্তর নেই বলে বলারও উপায় নেই ।


    মসজিদে আযান হচ্ছে । মোল্লা সাহেব নিয়ম করে পাঁচবার আযান দেন । আযান শেষ হলে মোল্লা সাহেব মসজিদের বড় খোলা জানালায় এসে দাঁড়ান । দূর সীমানা পর্যন্ত নদীর স্রোত দেখা যায় । এই বয়সেও চোখের দ্রুতি বেশ পরিষ্কার । সকাল বিকেল দু'বেলা কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করলে চোখের দৃষ্টি আল্লাহর রহমতে ভালো থাকে - এ কথা মোল্লা সাহেব প্রচার করেন । গ্রামের বাচ্চা কাচ্চারা দৌঁড়ে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে যায় । মোল্লা সাহেব হাত দিয়ে ইশারা করে ওদের কাছে ডাকেন । খুব ধীর গলায় কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বাচ্চাদের ডেকে বলেন ,


    “ তোমরা নামায পড়ো ? ”


    বাচ্চাদের কেউ কেউ জোড় গলায় একসাথে লম্বা সুরে ' হ্যাঁ ' বলে । তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাথা নাড়ায় । ওরা শব্দ করে ' না ' বলেনা । শুধু মাথা নাড়ায় । কয়েকজন আবার একজনের পিছে একজন দাঁড়িয়ে মুখ লুকিয়ে মুখে হাত চেপে হাসে । মোল্লা সাহেব দশ টাকার বাদাম কিনে দুটো করে করে বাচ্চাদের হাতে দেন । ওরা বাদাম পেয়ে খুশি হয় । মোল্লা সাহেব হাত উঠিয়ে বলেন ,


    “ আসরের আযান হইলে সবাই মসজিদে এসো । আসলে আরো অনেক কিছু কিনে দিবো । ”


    ছোট ছোট বাচ্চাগুলো একে অপরের দিকে তাকায় । প্রত্যেকে একদৌঁড়ে হাসতে হাসতে যার যার মতো করে চলে যায় । ফিরে তাকায় না । মোল্লা সাহেব মুচকি হাসেন । আরো দশটাকার বাদাম কিনে পকেটে রাখেন । ওরা আসবে মোল্লা সাহেব জানেন । একে অপরের মুখ চেয়ে দেখবে । অথচ বাদাম খেতে চাইছে বলবেনা ।


    মোল্লা সাহেব আসরের আযান দেন । বাচ্চাগুলো দৌঁড়ে এসে মসজিদের সামনে গাদাগাদি করে দাঁড়ায় । একজনের পেছনে আরেকজন । লাইন ধরে । স্কুলে ওদেরকে এভাবে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন আনোয়ারা আপা । আনোয়ারা আপা আরো শিখিয়েছেন , বড়দেরকে দেখলে সালাম দিতে হয় । ওরা অবশ্য প্রায়ই এই কথা ভুলে যায় ।

    মোল্লা সাহেব আযান শেষে ওদের সবাইকে বাদাম দেয় । দু'টো করে । মসজিদের নদীর পাশটার বড় খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে নিরশ চোখে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন ঐ দূরের স্রোতে । জামাতের সময় হবার আগ অব্দি চেয়ে থাকেন । জামাতের সময় হলে জোড়ে করে বলেন , আল্লাহ মালিক । তিনি যা করেন ভালোর জন্যই করেন ।


    আসরের আযান হয় । রবিউল উদাস চোখে বসে থাকে নদীর ধারে । ওর দৃষ্টি থাকে খুঁটিটার দিকে । দুপুর থেকে বিকেল অব্দি নদীর পানি আরো আধ হাত বেড়েছে । রহমত মোল্লা ছেলেকে বলেন ,


    “  বাজান । লও । নামাযখান পইরা লই । নামায কাজা করবার নাই । ”


    রহমত আলী নদীর পানিতে অযু করেন । ছেলেকে নিয়ে মসজিদের দিকে হাঁটতে শুরু করেন । বাচ্চাগুলো রাস্তা ধরে দৌঁড়ায় । ঝাপটা বাতাসে ঘুড়ি ওড়ানোর চেষ্টা করে । রাস্তার এ মাথা থেকে ওমাথা দৌঁড়ায় । রাস্তার অনেকটা ভেঙে গিয়েছে বলে বেশিদূর যেতে পারেনা । আবার ফিরে আসে ।


    দুপুর গড়িয়ে বিকেল । বিকেল শেষে সন্ধ্যে হয় । রবিউল নদীর পাশে বসে থাকে । আর কয়েক হাত পানি বাড়লে খুঁটিটা ডুবে যাবে । সেদিন থেকে ওদের রাস্তায় থাকতে হবে । ফসলি জমি আর নেই । নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে । কয়েক মন সিদ্ধ ধান তোলা ছিলো বলে এখনো হাত পাততে হচ্ছেনা । রবিউল ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারে । খুঁটিটায় লাগে কয়েকটা । কয়েকটা বাতাসের বেগে বেঁকে গিয়ে সরাসরি পানিতে পরে ডুবে যায় । রবিউল অদ্ভুত চাহনীতে ইটের টুকরোর ডুবে যাওয়া দেখে ।

    এই সময়ে খাঁচায় থাকা ওর পাখিটা বড্ড ঝাপটা ঝাপটি করে । রবিউল উঠে গিয়ে ঘর থেকে দুটো চাল এনে পাখিকে দেয় । রবিউল ধাক্কা দিয়ে পাখিকে দোল খাওয়ায় কিছুক্ষন । রবিউল খেয়াল করে পাখিটা সময়ে অসময়ে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে । আকাশে মেঘ জমলে পাখিটা ডানা ঝাপটায় । রবিউল ঘরের বারান্দা থেকে খাঁচার সুতোটা খুলে নিয়ে নদীর ধারে গিয়ে বসে ।


    রাত হলে জোয়ারের পানির তীব্রতা বেড়ে যায় । গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েগুলোকে কোলে নিয়ে বৌ - ঝিরা মুখে কাপড় চেপে , মাথায় কাপড় দিয়ে নদী দেখতে আসে । ' আল্লাহ রহম করো , রহম করো ' বলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে । আবার চলে যায় । রবিউলদের ঘরের সামনে নদীর পানি । ঢেউয়েরা ঢেউ খেলে । ঢেউ এসে ওদের ঘরের মাটিতে আঘাত করে । একটু একটু করে ভেঙে যায় । রবিউল ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ঘরের মাটি ভেঙে যাওয়া দেখে । রবিউলের লড়াই করার প্রবল ইচ্ছে জাগে । সে রাস্তা থেকে দুই হাতে মুঠো ভর্তি করে মাটি এনে ঘরের ভেঙে যাওয়া অংশে জোড়া লাগায় । ও আবার মাটি আনতে রাস্তায় যায় । ফিরে আসতে আসতে রবিউল আবার ভেঙে যাওয়া দেখে । প্রকৃতির সাথে লড়াইয়ে টিকতে পারা হয়ে ওঠেনা - সে জ্ঞান রবিউলের নেই ।

    রবিউল মাটিতে বসে পরে । নদীতে পা নামিয়ে আনমনে কি একটা চিন্তা করে ! স্রোতগুলো এসে ওর পায়ে ধাক্কা খায় । ছোট ছোট আঙুল উঁচু করে ঢেউ গুনতে থাকে । যতদূর চোখ যায় সেখানে গিয়ে থামে । ঢেউগুলো মিলিয়ে যায় কোথাও ! রবিউল বুঝতে পারেনা । ও সরল মনে আবার ঢেউ গুনতে শুরু করে । এক , দুই , পাঁচ , নয় - আবার মিলিয়ে যায় । ছোট ক্লাসে পড়ে বলে ঢেউ গুনে উঠতে পারেনা , এমন না । আকাশের তারা যেমন গুনে শেষ হয়না , ঢেউয়েরাও তেমন । অসংখ্য । তবুও ও চেষ্টা করে । রবিউল খুঁটিটার দিকে একবার তাকায় । আরো অনেকখানি ডুবেছে এই সময়ে ।


    রাত বাড়তে থাকে । গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে ঘরে চলে যায় । অজানা আতঙ্কে ঘুম আসেনা । তবুও তারা চোখ বন্ধ করে থাকে । মাঝ রাত্রে দুঃস্বপ্নে লাফিয়ে ওঠে । জোয়ান যুবকেরা দৌঁড়ে নদীর ধারে যায় । মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে সেখানেই । শরীর অবশ হয়ে আসে । কথা বলতে পারেনা ওরা । গ্রাম ভেঙে একাকার । স্কুল ঘরটা ভেঙে গিয়েছে । এক পাশটা উঁচু ঢিপলে হয়ে আছে বোঝা যাচ্ছে । বৌ - ঝিরা কাঁদতে কাঁদতে এসে ওদের স্বামীকে বাতাস করে । তীব্র বাতাসের ঝাপটা এসে লাগে ভেঙে যাওয়া অংশের মাটিতে । মাটির বিশাল অংশ পানির নিচে কিভাবে একটা তলিয়ে যায় ! এই সব কিছুই হয়ে যায় কারো কিছু বুঝে ওঠার আগে । ওরা কেউ-ই বুঝে উঠতে পারেনা ।


    খুব সকালে উঠে রবিউল একবার স্কুলের দিকে যায় । ওর একটা গোলাকার আকৃতির গাড়ি আছে । গড়িয়ে চলে । সেটা নিয়ে ও একবার স্কুলের দিকে যায় । অদ্ভুত চোখে রবিউল চেয়ে দেখে স্কুলটা নেই । কয়েকটা জং ধরা রডের মাথা দেখা যায় । রঙ উঠে যাওয়া স্কুলের দেয়ালের হালকা রঙগুলো ভেসে আছে নদীতে । স্রোতে ওগুলো ভেসে চলে যায় অন্য কোনো যায়গায় । হয়তো আরো একটা ভেঙে যাওয়া স্কুলের দেয়ালের উঠে যাওয়া রঙের সাথে মিলে যাবে কোনো রাতে । জোয়ারের পানিতে আবার ভেসে যাবে অন্য কোথাও । রবিউল ফিরে আসে ।


    খুঁটিটা ধীরে ধীরে নড়বরে হয়ে আসছে । ঢেউয়ের আঘাতে বেঁকেও গিয়েছে কিছুটা । রবিউল দূর থেকে হাতের ইশারায় খুঁটির মাপ নেয় । আর তিন হাত পানিতেই খুঁটিটা ডুবে যাবে । রবিউল ঘরের দিকে তাকায় । মাটির দেয়ালের ভাঙা অংশটুকু বেঁচে আছে । রবিউল সেখানে দু'মুঠোয় মাটি আনতে সাহস করেনা । আকাশটা মেঘলা । রাতে ঝড় হতে পারে । আকাশ গম্ভীর হয়ে আছে । ঝড়ে জোয়ারের পানি ফুলে উঠবে । বাতাসের ঝটকা এসে লাগে ওর গায়ে । রবিউল উঠে ঘরের মধ্যে যায় । জানালা দিয়ে তাকায় নদীর দিকে ।

    নদীকে আজকাল রবিউল ভয় পেতে শুরু করেছে । কি ভয়ানক মনে হয় নদীটাকে ! ঢেউয়ের আঘাতে ওর গা শিউরে ওঠে । গ্রামে রাত নেমে আসে । উজানে হাওয়া বইতে শুরু করে । বাতাসের শব্দ বেড়ে যায় । একটা গাছের মগডাল ভেঙে ওদের ঘরের চালে পরে । রবিউল চমকে ওঠে । ও মায়ের কাছে চেপে বসে । প্রকান্ড শব্দে বজ্রপাত হয় । রবিউল এই প্রথম ভয় পাচ্ছে । মনে কেমন একটা মনে হচ্ছে ওর !


    মধ্যরাতে বাবার চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় রবিউলের । ও বিছানায় উঠে বসে । ঘুমে ঢলে পরে । আবার উঠে বসে । ড্যাব ড্যাব করে লাল চোখে রবিউল তাকানোর চেষ্টা করে । ঘরের চকির নিচে পানি উঠেছে । রবিউল সন্ধ্যায় দেখেছিলো ঢেউগুলো কিনারায় ধাক্কা খাচ্ছে । এখন ঢেউ ঘরে । ছোট ছোট পায়ে রবিউল জানালা খুলে দেয় । ঝড়ে আশপাশের বাড়ির ঘর ভেঙে গিয়েছে । খুঁটিটা আর দেখা যাচ্ছেনা । এদিক সেদিক তাকিয়েও রবিউল খুঁটিটা খুঁজে পায়না । রবিউল ওর বাবার দিকে তাকায় ।


    “ আব্বা , ওইহানকার লগিডা কোনে গেলো ? ” দুইহাতে চোখ মুছতে মুছতে রবিউল বলে ।


    “ লগিডা ডুইবা গেছে বাজান । সব শ্যাষ । ” রহমত আলী উত্তর দেয় ।


    রবিউল দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে । চকির নীচে আসা ঢেউয়ের খেলা দেখে এক দৃষ্টিতে । রবিউল ঢেউ গুনতে শুরু করে । এক , দুই , পাঁচ , নয় । ও তুলতুলে মুখে আবছা আবছা বলে । ঢেউ গননা শেষ হবার আগেই ঢেউগুলো মিলে যায় । যতবার গুনতে শুরু করে , শেষ হবার আগেই মিলে যায় অদ্ভুতভাবে । রবিউল আশ্চর্য চাহনীতে চেয়ে থাকে । নদীর পার ঘেষে ছোট্ট একটি ঘর । তবে অনেক উঁচু । বড় খুঁটিটাও আছে । সেটা আর জোয়ারের পানিতে ডুবে হারিয়ে যায়না । জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে বহুদূর । ও স্বপ্ন দেখে । রবিউল ঢেউ গুনছে । এক , দুই , তিন , চার - এভাবে শত অব্দি হবে । সেগুলো মিলে যাবে । রবিউল আবার গুনতে শুরু করবে ।


    আকাশের তারা গুনে শেষ করা যায়না । অথচ আকাশের দিকে তাকিয়ে সন্ধ্যাতারা থেকে শুরু করে তারা গুনতে গুনতে এক ধরনের নেশা জাগে । নদীর ঢেউ গুনতেও একদিন রবিউলের নেশা হবে । জোসনা রাতে পানির ঢেউ যেমন চিক চিক করে - তার প্রখর নেশা জাগবে । ঢেউগুলো পানিতে মিলে গেলে রবিউল আবার নতুন করে শুরু করবে । আকাশের তারার মতো ঢেউয়ের সংখ্যা হিসাব করা অসম্ভব , রবিউল তখন বুঝবে ।


    রহমত আলী বসে আছেন । রবিউলও আছে । এদিক সেদিক থেকে ও ইটের টুকরো কুঁড়িয়ে এনে রবিউল ছুঁড়ে মারে খুঁটি সোজা । টুকরোগুলো তলিয়ে যায় ।

    পাখিটা আজ ঘুমায়নি । রাত থেকে কিচির মিচির শব্দ করছে । খাঁচার এপাশ থেকে ওপাশে ডানা ঝাপটে মুক্ত হতে চাইছে । রবিউল স্থির করে আজ গ্রাম ছেড়ে চলে যাবার পথে পাখিটার খাঁচা খুলে দেবে সে । খুলেও দেয় । অদ্ভুতভাবে পাখিটা চুপচাপ বসে থাকে । কেমন মায়ার দৃষ্টিতে তাকায় । রবিউল পাখির চোখের ভাষা বুঝতে পারে ।

    তলিয়ে যাওয়া আসবাবের কিছু অংশ যেটুকু নেওয়া যায় নিয়ে ওরা ভাঙা বাঁধের উপর এসে দাঁড়ায় । রবিউল একবার পেছনে ফিরে তাকায় । খুঁটিটা নেই । রবিউলের ভাবনা সে একদিন ফিরে এসে সুন্দর একটা বাড়ি বানাবে ।

    সুন্দর সদর দরজা থাকবে । নদীর পাশে ছোট্ট একটা দু'চালা ঘর । ওর ঘরের জানালাটা হবে নদীর পাশে । দিনে রাতে সমান বাতাস লাগবে ঘরে । নদীর ঢেউ দেখা যাবে । জোয়ার ভাটা সব দেখা যাবে । চাঁদ রাতে চাঁদের আলো এসে জানালায় পরবে । নদীর পানি সে আলোয় ঝিলিক দেবে । রবিউল মন ভোরে সে দৃশ্য অনুভব করবে । তখন ওদের গ্রামটা দেখা যাবে শিল্পীর আঁকা ছবির মতো ।


    রবিউল এই নদীর পাশেই ঘর বানাবে । মাটি দিয়ে খুব উঁচুতে । নদীর পানিতে সে ঘর ডুববে না । ওর পোষা পাখিটাকে বারান্দায় না রেখে রাখবে জানালার কাছে । পাখিটা ডানা ঝাপটে কিচির মিচির করে ওকে গান শোনাবে ।



+লেখক: মোঃ খশরু


পৃথিবীতে প্রতি মূহুর্তে নিত্য নতুন সব রহস্যের জন্ম হয় । চোখ সেই রহস্যের অন্যতম ক্ষেত্র । চোখের ভাষা বুঝতে পারাটা পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি । মনের ভাষা সহজ । মন থাকলেই বোঝা যায় । অথচ চোখ থাকলেই চোখের ভাষা বোঝা যায়না ।


দ্বিতীয় বর্ষ, মানবিক বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

ফেসবুক আইডি: আইডি লিংক