ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (পর্ব ৬) - লিখেছেন - আবীর হাসাম সায়েম




রাফা বেশ ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে। তার ২ টা বই বের হয়েছে এইবারের বই মেলায়। মানুষজন কিনতে আসছে তার বই।লতিফ সাহেব গতবারের বইগুলো অনেককে দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যেই অনেকে আসছে। রাফার কবিতার বই মোট বিক্রি হয়েছে ১৫০ টা। আজকাল কেও কবিতার বই পড়ে না। কিন্তু রাফার বই বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছে। রাফা ভাবল,

'খালুকে ফোন দিয়ে একটু ধন্যবাদ দেয়া দরকার।বহুদিন ধরে দেখা হয় না। নবনীও তেমন ফোন দেয় না। হয়তো নতুন সংসারে নতুন মানুষদেরকে পেয়ে ভুলে গেছে। রাফা একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল।

রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। রাফা যেখান থেকে রিকশায় উঠেছিলো ওইখানেই গত ২০ মিনিট ধরে বসে আছে। রাফার মন্দ লাগছে না। অনেক বাতাস বইছে হয়তো বৃষ্টি হবে। এমন মৌসুমে বৃষ্টি হবার কথা না, পৃথিবীকে একই নিয়মে চালাতে চালাতে যখন সৃষ্টিকর্তার একঘেয়েমি লাগে তখন হয়তো তিনি এমনটা করেন।
রাফা ভাবল,
"আজ সে বৃষ্টিতে ভিজবে। তারপর নবনীদের বাসায় যাবে। খালুর সাথে দেখা করা দরকার।
কলিংবেল বাজছে। তিশা দরজা খুলে দেখে রাফা কাক ভেজা হয়ে গেছে। শরীর থেকে পানি পরে দরজার সামনের পুরটা ভিজে গেছে।
"রাফা ভাইয়া এই অবস্থা কেনো আপনার আসেন ভিতরে আসেন।"
রাফা প্রথমে তিশাকে চিন্তে পারেনি। মেয়েটা তার চুল কেটে ছোট করে ফেলেছে। একটুও চিনা যাচ্ছে না তিশাকে। রাফা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বলল,
"তিশা তুই চুল কেটে ফেলেছিস কেনো?"
তিশা বলল,
" অনেক খুশকি হয়েছিলো তাই কেটে ফেলেছি। "
"ওহ,আচ্ছা।"
রাফা ড্রইংরুমে ঢুকে দেখল নবনী বসে আছে। রাফাকে দেখে নবনী বলল,
"আরে তুই, বৃষ্টিতে ভিজে তোর এ কি অবস্থা হয়েছে।আমি গরম পানি করে দিচ্ছি তুই গোসল করে নে। জ্বর এসে যাবে একদম।"
নবনী গরম পানি করতে রান্নাঘরে উঠে গেলো। রাফা লক্ষ্য করল নবনীকে আগের চেয়ে বেশি ফরসা লাগছে। ঠিক ফরসা না ফ্যাকাসে লাগছে।
রুম থেকে লতিফ সাহেব বেরিয়ে এলেন।
"আরে রাফা।এতোদিন পর।"
" কেমন আছেন খালু?"
"হ্যা ভালো আছি। আমাদের কথা মনে পরল শেষমেষ।"
রাফা মুচকি হেসে বলল,
" আমার এইবার বই বের হয়েছে বইমেলাতে। বেশ সাড়া পেয়েছি। আপনি গতবারের বইটা যাদের দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এইবারও কিনেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ খালু।"
" আরে না,আমি তো কিছুই করি নাই। তোমার মধ্যেই লেখক সত্ত্বাটা ছিলো।আমি শুধু সবার কাছে তা পৌছে দিয়েছি।"
"আপনি না থাকলে সম্ভব ছিলো না।খালা কোথায় তাকে যে দেখছি না।"
" সে ঘুমায়।"
নবনী এসে বলল,
" বাথটাবে গরম পানি, তোয়ালে, লুঙ্গি দেয়া আছে। যা গোসল করে আয়।"
রাফা অনেক্ষণ লাগিয়ে গোসল করল। বাথটাবের গোসল করলে, রাফার নিজেকে রাজার মতো মনে হয়। বাথটাবটাও বিশাল বড়। একটা ছোটখাটো পুকুরের সমান।

লেখকঃ আবীর হাসাম সায়েম

ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।