ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

যেভাবে নামটি হলো - নাটোর (১ম পর্ব) - লিখেছেন - সাদিয়া তাহসিন মিম


বিস্তৃত রাজশাহী জমিদারির রাজধানী স্থাপিত হয় নাটোরে। এখন যেখানে নাটোর রাজবাড়ী, সুদূর অতীতে সেখানে গভীর জলাভূমি ছিলো।তখন ঐ স্থানটির নাম "ছাইভাংগার বিল" হিসাবে খ্যাত ছিল। কেউ কেউ বিল "চন্দ্রাবতী" কিংবা "ভাতঝাড়া বিল" নামেও চিহ্নিত করেছেন।

"ভাতঝাড়া বিল" পুঠিয়ারাজ দর্পনারায়ণের সম্পত্তি ছিল। যার বার্ষিক রাজস্ব ছিল ২৭ টাকা ৫ আনা মাত্র। রাজা দর্পনারায়ণ নব প্রতিষ্ঠিত রাজাকে অধিকতর কৃতজ্ঞতা পার্শ্বে আবদ্ধ রাখার জন্য উক্ত বিল রাজা রামজীবনকে "ব্রহ্মোত্তর" দান করেন।

এতে রামজীবন খুশি হয়ে উপঢৌকন স্বরূপ ১০০টি স্বর্ণমু্দ্রা রাজা দর্পনারায়ণের নিকট পাঠান বলে জানা যায়। নাটোরে রাজবাড়ী তৈরি করে রাজধানী প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অনেকে কিংবদন্তী, উপকথা, প্রচলিত রয়েছে।


 

এ প্রসঙ্গে প্রথম জনশ্রুতি এ রকম- মায়ের আদেশে রাজা রামজীবন ও রঘুনন্দন নিজ জন্মভূমিতে রাজধানী স্থাপনের উপযুক্ত স্থান সন্ধান করতে থাকেন। বর্ষাকালে রামজীবন, রঘুনন্দন ও পন্ডিতবর্গ নৌকারোহণে সুলক্ষণযুক্ত স্থান নির্বাচনে, এক সময় ভাতঝাড়া বিলের মধ্যে উপস্থিত হন। বিলের মধ্যে একটি নিদিষ্ট স্থানে তাঁরা দেখতে পেলেন যে দু'টি নকুল (বেজি) সাঁতার দিয়ে বিল পার হচ্ছে এবং একটি বড় ব্যাঙ ছোট একটি সাপকে ভক্ষণ করছে।                


এসব দেখে দুটি বালিকা হাত তালি দিয়ে নাচতে থাকে। পন্ডিতবর্গ উক্ত স্থানকেই রাজধানী নির্মাণের জন্য উপযুক্ত বলে মত প্রকাশ করেন। রামজীবন দীঘি, পুকুর ও চৌকি খনন করে মাটি ফেলে বিলটি সমতল করেন। যে স্থানে ব্যাঙ সাপ খাচ্ছিল এবং বালিকাদ্বয় নৃত্য করছিল, সেখানেই নির্মাণ করেন রাজবাড়ী। রাজবাড়ী নির্মাণের  পরে পরে রাজআমলা, কর্মচারী এবং বহুবিধ লোকের সমাগমে ভাতঝাড়া বিলটি পরিণত হয় একটি শহরে।







● দুটি বালিকার নৃত্য করাকে কেন্দ্র করে  স্থানটির নাম হয় 'নাট্যপুর বা নাটপুর'।      

 

● পরবর্তী লোক মুখে নাট্যপুর শব্দটি বিবর্তনের মাধ্যমে নাট্যপুর> নাটপুর>  নাট্টুর> নাটুর> নাটোর নামে পরিণত হয়।      

                           

নাটোর নামকরণের পেছনে অন্যতম উপকথনও শোনা যায়-



জলমগ্ন যে স্থানে রাজবাড়ীটি নির্মিত হয়, সে জায়গাটির জলের গভীরতা ছিল খুব বেশি। গভীরতা অধিক হওয়ার কারণে নিচের স্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। তাই তাকে বলা হলো-"গহীন নাতর"।                        


● এই 'নাতর' থেকে 'নাটর' বা 'নাটোর' শব্দটি উৎপত্তি হয়।


● ইংরেজরা তখন 'নাটোর' বানান ইংরেজিতে লেখেন  'Nattur' বা 'Nattor'।        


● এছাড়া 'নাতোর' বা "না-ঠারো" শব্দ দুটি হতেও নাটোর শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।        







 

নাটোরের ইতিহাস বহুকাল আগের। সুসাহিত্যিক প্রমথনাথ বিশী বলে, উওরবঙ্গের যাবতীয় শহরের মধ্যে  গৌড় বাদে নাটোর-ই বোধ হয়  সবচেয়ে প্রাচীন শহর।কিন্তু  যখন রাজশাহী নামটি  অজ্ঞাত ছিল, অার বোয়ালিয়া একটি ক্ষুদ্র গ্রাম ছিল মাএ,তখন নাটোর শহর গৌরবের শীর্ষে অবস্থিত।                  


● নাটোর কবিতার অংশ বিশেষ উদ্ধৃত হলো- 

   


বিল চলন গ্রাম গলন কাঁচাগোল্লার খ্যাতি

অর্ধ বঙ্গেশ্বরী রাণী ভবাণীর স্মৃতি

উওরা গণভবন রাজ-রাজন্যের ধাম

কাব্যে ইতিহাসে আছে নাটোরের নাম








+লেখিকা: সাদিয়া তাহসিন মিম।


ইতিহাস সম্পর্কে জানতে  পছন্দ করি। মাঝে মধ্যে কবিতাও লিখি। দেশের ইতিহাস সম্পর্কে মানুষ যত বেশি বেশি জানবে তার এর প্রতি আগ্রহ আরও প্রবল হতে থাকবে।

ফেসবুক আইডি: আইডি লিংক