ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

পোড়া বারুদ (১ম পর্ব) - লিখেছেন - মাহিম পারভেজ




ক্রিং ক্রিং!
.
এই স্মার্টফোনের যুগেও আমার আব্বাজান ঘরে এখনো ল্যান্ডফোন রেখেছেন। ল্যান্ডফোনে টাকা বেশি কাটায় আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব ভুলেও ফোন দেয় না। কোন বড়লোক কল দিলো ?
.
হ্যালো স্লামালাইকুম !
.
স্লামালাইকুম আবার কি জিনিস ? বল আসসালামু আলাইকুম !
.
বুঝলাম রাব্বী ভাইর কন্ঠ। সেই কবে বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার পাওয়ার পর এখনো ট্রিট দেওয়ার নাম নাই, ল্যান্ডফোনে কল দিয়ে বড়লোকি মারাচ্ছে। ধরা গলায় বললাম, আসসালামু আলাইকুম।
.
ওয়ালাইকুম সালাম। শুন তোদের এলাকায় এসেছি একটা কেসে। থ্রিলার পড়ে তোর নাকি গোয়েন্দাগিরির এত শখ। আয় কেস টায় আমার সাথে থাকবি, সলভ করা দেখবি।
.
আমি তো পুরাই খুশীতে আটখানা। ব্যাপক আগ্রহে প্রশ্ন করলাম, কি কেস ?
.
এক বড়লোকের দুলালী সুইসাইড করেছে। তার ই তদন্ত, কে দায়ী কিভাবে কি হলো এসব আরকি।
.
সুইসাইড ! এর আবার কেস তার আবার তদন্ত !
.
তোর জন্য এইটুকুই ঠিক আছে। টিটকারির সুরে বললো রাব্বী ভাই।
.
এক্সকিউজ মি, আমার অনলাইনে ডিটেক্টিভগিরির ওপর কোর্স করা আছে। সার্টিফিকেট ও আছে,খালি প্রিন্ট করা লাগবে আরকি।
.
আচ্ছা ভালো মি. মাহিম হোমস। এবার গোয়ালবাড়ী মোড়ে চলে আসেন।
.
আমি মোটামুটি ভারিক্কি গেটাপ নিয়ে চলে গেলাম স্পটে। জন্মের পর থেকে এ এলাকায়, কিন্তু এখানে এরকম আলীশান বাড়ি আছে তাতো জানতাম ই না। ভিতরে গিয়ে দেখি লাশ এখনো যেরকম টা সেরকম টাই রাখা আছে। রাব্বী ভাই যা বললো, সুইসাইডকারীনির নাম অদিতি। প্রয়াত শিল্পপতি পলাশ হাওলাদারের বিশাল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারিণী। মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি করে সুইসাইড করেছে।
.
ভিতরে ঢুকতেই এগিয়ে এলেন এক ক্লিনশেভড শক্তপোক্ত গঠনের মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমি প্রফেসর মিজানুর রহমান রিশিদ। অদিতির চাচা। আমি এই পাশের বাড়িতেই থাকি।
.
রাব্বী ভাই আমাকে বললো,তুই ওনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ টা কর,আমি বরং লাশের অবস্থা দেখে আসি।
.
আমি ব্যাপক স্টাইল নিয়ে শুরু করলাম তদন্ত। তো মি: রিশিদ,সর্বপ্রথম লাশ দেখে কে ?
.
সর্বপ্রথম লাশ দেখে কাজের বুয়া। সেই আমাদের সবাইকে খবর দিয়ে আনায়।
.
শেষ কখন তার সাথে দেখা হয়েছে ?
.
কাল রাতে এসেছিলাম। ও তখন একটা দুঃখের বই পড়ছিলো।
.
দুঃখের বই তা আপনি বুঝলেন কিভাবে ?
.
জ্বি স্পষ্ট মনে আছে। বইটার নাম "চির অধরা", এর পনের ষোল পৃষ্ঠা খোলা ছিল।
.
তাতো ছ্যাকা খাওয়া মেয়েরা পড়ে। ওর সুইসাইডের কারন ও কি....
.
জ্বি ওর বান্ধবীর মুখে যা শুনলাম, ওর বয়ফ্রেন্ড নাকি ওকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।তাতেই খুব ডিপ্রেসড ছিলো কয়েকদিন। বাপ মা মরা মেয়ে,চাচা চাচিদের কাছেও অত ভীড়ে না।
.
ওর মৃত্যুর পর এ বিশাল সম্পত্তি কে পাবে ? আপনি ? আপনার তো লাভ ই হলো তাহলে।
.
ছি অমন কথা বলবেন না। আমার বিষয় সম্পত্তি একেবারে কম না,আর অদিতির বাবা পলাশ এর উইল অনুযায়ী অদিতির কিছু হলে পুরো সম্পত্তি কোন এক ট্রাস্টে দান করে দিতে হবে। আমরা পাবো না আর চাই ও না।
.
অও আচ্ছা। তা ওর বয়ফ্রেন্ডের নামধাম জানেন ?
.
শুনলাম নাম নাকি জাহিদুল ইসলাম মামুন। রুয়েটের ছাত্র। তবে এসব ওর বান্ধবীই ভাল বলতে পারবে।
.
আচ্ছা আপনি শান্ত হোন,আমরা দেখছি কেসটা।
.
এদিকে রাব্বী ভাই এখনো লাশ এর কাছে কিজানি করছে। হয়ত ভাবছে এটা মার্ডার কিনা। বাংলাদেশের সিআইডির ওপর হাসি পেল খুব। আমি ঘরে ঢুকেই বুঝে গিয়েছি এটা পিউর সুইসাইড কেস। কারন লাশটা ছিলো উপুড় করা। বডির চেয়ে মাথার ওজন বেশি হওয়ায় তাই বডি সামনের দিকে ঝুকে পড়ে। যদিও বেশীরভাগ মুভিতেই দেখায় চিত হওয়া লাশ। মার্ডারের কোন আলামত ও ঘরের মধ্যে নেই। সিআইডি তদন্তে এত ঢিলা কেন !
.
মাহিম ! হঠাৎ চিল্লিয়ে ডাকলো রাব্বী ভাই। তোর আশা তো পূরন হয়েছে দেখছি,বড় কেস পাবি। ইটস এ মার্ডার কেস !
.
মার্ডার ! একসাথে যেন ঘরের সবাই অবাক হয়ে চেচিয়ে উঠলো। এ কি করে সম্ভব !
.
এই দেখ,আমার হাতে এটা হলো মেটাফিলিন ডাই অ্যামিন এর সলিউশন। পিস্তলে গুলি করলে হাতে কিছুটা হলেও পোড়া বারুদ লাগবে,আর বারুদে থাকে পটাশিয়াম নাইট্রাইট। যা এটার সাথে বিক্রিয়া করে বিসমার্ক ব্রাউন রং সৃষ্টি করবে। কিন্তু দেখ,হাতে ঢাললাম কিছুই হলো না। মানে সিম্পল,মার্ডার করার পর সুইসাইড সাজাতে হাতে পিস্তল টা ধরিয়ে দিয়েছে।
.
আমার ধারনা ভুল প্রমান হওয়ায় থতমত খেয়ে গেলাম।তবে বুঝলাম,কেস বেশ ইন্টারেস্টিং। নতুন করে তদন্ত শুরু করা লাগবে।
.
চলবে...  
লেখকঃমাহিম পারভেজ
সবার তিনি ছাত্র। "আমিই ঠিক, অন্যরা ভুল" এমন তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। মূলত প্রকৃত সত্য জানার প্রতিই আগ্রহ বেশি।