ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

বুক রিভিউ: অক্টারিন - লিখেছেন - রেদওয়ানা তাবাসসুম বহ্নি


বই প্রচ্ছদ


আমাদের চেনাজানা জগতে রং সাতটা হলেও, তার বাইরে ম্যাজিকের যে বিস্তৃত জগত আছে সেখানে রং আছে আটটা। সেই আট নম্বর রঙের নাম কি তাহলে? জানতে হলে পড়তে হবে 'অক্টারিন' বইটা। বিশুদ্ধ জাদুর রঙ বলা হয় সেই রঙকে।


কথাগুলো গুলিয়ে যাচ্ছে তো? আচ্ছা মার্ডার মিস্ট্রি, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার তো মোটামুটি অনেকেই পড়েছেন। কিন্তু ম্যাজিকাল থ্রিলার বা পজেশন মিস্ট্রি? আচ্ছা ভণিতা বাদ দিয়ে সবটুকু খুলেই বলি তাহলে---    


গল্পের শুরুটা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এক পরিবারের ওপর অশুভ ছায়া পড়ার মাধ্যমে। দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারের একমাত্র মেয়ে হুট করে ঘুমিয়ে গিয়েছে। গভীর, নিরবিচ্ছিন্ন সে ঘুম। ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পার হবার পরও যখন সে ঘুম ভাঙলো না, রহস্য উদঘাটনের জন্য ডাক পড়লো মুমিনুল ইসলাম মুমিনের। যার নিজের স্মৃতিজুড়ে রয়েছে এসব অতিপ্রাকৃত রহস্যকে ঘিরে নিবিড় আর তিক্ত অভিজ্ঞতা। যে নিজে কিনা সবসময় ছুটে পালিয়ে বেড়াতে চেয়েছে এসব থেকে।অথচ,তাকেই জড়িয়ে পড়তে হলো এইঅতিপ্রাকৃত রহস্যের চোরাবালিতে। ডুবতে ডুবতে একসময় মুমিন টের পেলো, এটা সাধারণ অতিপ্রাকৃত ঘটনা না। এর পিছনে আরোও গভীর কিছু আছে। এজন্য অন্য এক মানুষের সাহায্য দরকার। একজন ম্যাজিশিয়ানের দরকার, রিচুয়াল ম্যাজিশিয়ান বলা যায় হয়তো। যে শক্তিশালী ম্যাজিকাল স্পেল জানে, পজেশন মিস্ট্রি জানে। একপর্যায়ে অ্যানিমাকে খুঁজেও পেলো মুমিন।


কি ভাবছেন, তারপর রহস্য শেষ? একদম না। এরপর থেকে ঘটনা আরোও বেশি প্যাচাতে শুরু করলো। সবার ওপর আরো নতুন, অজানা সব বিপদ আসতে লাগলো। নিছক ভয় দেখানো নয় এরপর ঘটে গেলো খুনের মতো ভয়ংকর ঘটনাও। একের পর এক নতুন গল্প, রহস্য, নতুন চরিত্র সামনে আসবে এরপর। এসব গল্পের চোরা গলিতে, রহস্যময় চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যাবেন আপনিও।


আচ্ছা ভালো কথা, আপনি কি জ্বিন, ঘুলা, ইফরিত এসবে বিশ্বাস করেন? বিশ্বাস না করলেও খুব বেশি পার্থক্য হবে না। নিছক গল্পের জন্য হলেও পড়তে পারেন। আর যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি নতুন নতুন কিছু স্বাদ পাবেন। আমাদের স্বল্প পরিচিত জগতটাকে অসাধারণ আর অতিপ্রাকৃত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। মুমিন আর অ্যানিমার সাথে আপনিও হারাবেন ভয় আর বিপদের অন্ধকার এক জগতে। খুঁজে পাবেন এই রহস্যের জাল ভেদ করে অসম্ভব ক্ষমতাধর এক আততায়ীকে।


অক্টারিন পড়ার পর ব্যক্তিগত অনুভূতি এখনও বলে বোঝানোর মতো কোন রঙ বা গন্ধ বা নিছক শব্দও খুঁজে পাচ্ছিনা আমি। শুধু এটা বলতে পারি, বইটা এত দেরীতে পড়ার জন্য আফসোস হচ্ছে আমার। জ্বিন বিশ্বাস করি সবসময়ই। তাই এই বইয়ের প্রতিটি শব্দ আমাকে চুম্বকের মতো টেনেছে। লম্বা একটা রিডার্স ব্লক কাটানোর পর একটানে, এক বসায় পড়া ওঠা বইয়ের নাম অক্টারিন। ৩৮৪ পৃষ্ঠার বই এত গলি ঘুপচি পেরিয়ে, এত ভয়, উৎকণ্ঠার অনুভূতি নিয়ে শেষ করার পরও বইটা এত দ্রুত কেন শেষ হলো? আরেকটু বড় কেন হলো না, এমন অনুভূতি যখন একজন পাঠকের হয় তখন সেই লেখককে নিঃসন্দেহে সার্থক বলাই যায়।


বইঃ অক্টারিন
লেখকঃ তানজীম রহমান
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ ডিলান
দামঃ ৩৮০ টাকা

লেখক: রেদওয়ানা তাবাসসুম বহ্নি

মানুষের ডাক্তার হবার কার্যক্রম শেষ। কিন্তু মেডিকেলের কঠিন পড়াশোনা কোনদিনই ভালো লাগেনি। তারচেয়ে বরং বিষন্ন সন্ধ্যায় ইতিউতি জীবনানন্দকে খুঁজি।