ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (পর্ব ৫) - লিখেছেন - আবীর হাসাম সায়েম


শুধু রাবেয়া খাতুন কিংবা রাফা নয়, ওইখানে উপস্থিত সব মানুষই অবাক হয়ে নবনীর দিকে চেয়ে আছে। তিশা আর জুই নবনীকে ধরে সিড়ি দিয়ে নামাচ্ছে। রাবেয়া খাতুন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তার মেয়ে কিভাবে এমন একটা কাজ করল? নিজের বিয়ের দিন কেও এমনটা করে?

নবনীর দু'ঠোটে দু'রকম লিপ্সটিক দেয়া। দেখতে অনেকটা কার্টুনের মতো লাগছে।

 রাফা ভাবছে, 'মেয়েটা এমন পাগলামি করে কেনো?'

যদিও রাফার সাথে এমন কাজ নবনী এর আগেও করেছে। ছোটবেলায়, একবার রাফার জন্মদিনে,নবনী জিজ্ঞেস করেছিলো,

  "তোর কি উপহার লাগবে বল তো।"

রাফা মজা করে বলেছিল,

  "আমাকে ১০০ টা গল্পের বই দিবি।"

তার পরেরদিন নবনী রাফার বাসায় ১০০ টা গল্পের বই দিয়ে আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটা বইও তখন রাফা পড়তে পারে নি। কারণ সবগুলো বই নবনী নিয়েছিলো তার বাবার বুক সেল্ফ থেকে। সবগুলোই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই। রাফার বাবা আবার রিক্সাতে করে বই গুলো ফেরত দিয়ে আসেন।


লতিফ সাহেব তিশার দিকে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বললেন,

   "এই তোরা এভাবে লিপ্সটিক দিয়ে দিসিস কেনো? বুদ্ধি -সুদ্ধি কি লোপ পাইসে নাকি?।"

 তিশা কাপাকাপা গলায় বলল,

  "আমি দিয়ে দেই নি। আপু নিজেই দিয়েছে।"

লতিফ সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

 "এভাবে লিপ্সটিক দিসিস কেন?"

নবনী মলিন গলায় উত্তর দিলো,

  "রাফা বলেছে তাই দিয়েছি।"

রাফার কথা বলাতে লতিফ সাহেব অনেকটা শান্ত হয়ে গেলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে বললেন,

   "বেপারটা কিন্তু ওতোটাও মন্দ না। এভাবে লিপ্সটিক দিয়েছিস তাই সারা জীবন এই কাহিনী মনে থাকবে।রাফা তোমার চিন্তাটা অসাধারণ।"

রাফা কি বলবে বুঝতে না পেরে শুধু হ্যা সূচক মাথা নারল। রাবেয়া খাতুনের গা রাগে জ্বলে যাচ্ছে। পাত্রের মামা চেচিয়ে উঠে বলল,

   " ভাই মস্করা করছেন? মেয়ে এইভাবে বিয়ে করবে? আমাদের একটা মান-সম্মান আছে না? "

লতিফ সাহেব বললেন,

 "কেনো এতে খারাপ কি আছে? আপনিও তো পাঞ্জাবির সাথে জাম্পিং সু জুতা পরেছেন। আমরা তো কিছু বলছি না।"

এভাবে এক কথা-দুই কথায় তুমুল ঝগড়া লেগে যায়। রাফা অনেক চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারছে না। পাত্রের বাবা বললেন,

  " নবনীর ঠোট থেকে সব লিপ্সটিক মুছে ফেলতে হবে নাহলে বিয়ে হবে না। "

লতিফ সাহেবও চিৎকার  দিয়ে বললেন,

   "আমার মেয়ে লিপ্সটিক মুছবে না।"

শেষে কোনো উপায় না পেয়ে রাবেয়া বেগম রাফাকে আড়ালে নিয়ে গেলেন।

"বাবা, তুমি যা করার করেছো কিন্তু এখন তুমি একটু তাদেরকে বুঝিয়ে বলো।"

কথাটা বলেই রাবেয় খাতুন কেদে ফেললেন।এর আগে রাফা কখনো রাবেয়া খাতুনকে কাদতে দেখে নি।

রাফা সবার সামনে গিয়ে বলল,

 "দেখুন চিল্লাচিল্লি করে তো আর লাভ নেই। আমি খালু আর নবনীর সাথে একটি কথা বলে আসছি। আমাকে ৫ মিনিট সময় দিন।তিশা সবাইকে শরবত দে। "

রাফা লতিফ সাহেব এবং নবনীকে নিয়ে লতিফ সাহেবের রুমে ঢুকল।

রাফা নবনীর দিকে তাকিয়ে বলল,

  " তুই কি একটা আস্ত রাম ছাগল নাকি? আমি ফাইজলামু করে বলেছিলাম তাই বলে তুই করে ফেলবি?"

 নবনী বলল

 " তুই তো বলেছিলি দু'ঠোটে ২রকম……" বলেই নবনী কেদে দিলো।

লতিফ সাহেব বললেন-

  "দুই রকম লিপ্সটিক দিলে ওদের সমস্যাটা কি? বেকডেটেড ফুলস। বিয়ে না হলে না হবে।"

রাফা বলল,

  " দেখেন খালু বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে নবনীর ভবিষ্যতে একটা বিশাল প্রভাব পরবে। একটা কাজ করা যায়,নবনী তুই তোর সব মেকাপ ধুয়ে ফেল। একদম সাদামাটাভাবে বিয়েটা হোক। "


সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হয়েছে। কাজি বিয়ে পড়িয়েছেন। রাফাকে ধরে নবনী কেদেই যাচ্ছে। রাফা নবনীকে আস্তে আস্তে গাড়ির সামনে নিয়ে এলো। গাড়িতে উঠার আগ পর্যন্ত নবনী রাফাকে শক্ত করে ধরে রাখল। মেয়েটা মা/ বাবা কাওকে ধরে কাদল না। শুধু যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বিদায় নিলো আর তিশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।



লেখকঃ আবীর হাসাম সায়েম

ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।