ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

একজন এডওয়ার্ড অ্যালবার্টের কথা - লিখেছেন - আয়েশা খাতুন

আমাদের সবারই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও জ্ঞানী- গুণীজনদের জীবনী  সম্পর্কে জানার কম-বেশি  আগ্রহ রয়েছে। তেমনি তাদের পারিবারিক জীবন, সন্তান-সন্ততি, বংশধরদের সম্পর্কে জানার  আগ্রহেরও কমতি নেই। এমনই একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের  সন্তান, এডওয়ার্ড অ্যালবার্টের করুণ সংক্ষিপ্ত জীবন নিয়েই আজকের লেখা।



মিলেভা মেরিক ছিলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের প্রথম স্ত্রী। ১৯০৩ সালে দু'জনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের দুটি ছেলে হ্যান্স অ্যালবার্ট এবং এডওয়ার্ড অ্যালবার্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৪ সালে আইন্সটাইন ও মেরিকের বিচ্ছেদের পরও আইন্সটাইন তাঁর সন্তানদের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। এ সম্পর্কে হ্যান্স অ্যালবার্ট বলেন, “যখন মা বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, বাবা তাঁর কাজ একপাশে রেখে  ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের দিকে নজর রাখতেন ।”



এডওয়ার্ড , তাদের  কনিষ্ঠ সন্তান, ১৯১০ সালের ২৮শে জুলাই সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জন্মগ্রহণ করে। এডওয়ার্ড ছোটবেলা থেকেই  দুর্বল ছিল। তার এ অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত তার বাবা, আইন্সটাইন মনে করতেন যে, এডওয়ার্ডের পক্ষে একজন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা অসম্ভব। এডওয়ার্ডের বিকাশে তার বিখ্যাত পদার্থবিদ বাবা সাধ্যমতো চেষ্টা করে গেছেন। এর জন্যে তিনি বিভিন্ন স্যানিটোরিয়ামেও এডওয়ার্ড কে সঙ্গ দিয়েছেন।



বেড়ে উঠার সাথে সাথে এডওয়ার্ড মনোরোগবিদ্যায় আগ্রহী হয়ে উঠে এবং একজন সাইকোলজিস্ট হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তার বাবার অনুসরণে  জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরই মধ্যে, আইনস্টাইনের খ্যাতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাবার এ খ্যাতিতে এডওয়ার্ডের কাছে নিজেকে গুরুত্বহীন মনে হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি প্রেমে পড়েন, তবে সে সম্পর্কটির পরিণতিও ছিল দুঃখজনক। সবকিছু মিলিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।এরই মধ্যে তার সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক সমস্যা ধরা পড়ে। তখনকার যুগের কঠোর চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগে তার অবস্থার উন্নতির বদলে অবনতি ঘটতে থাকে। যার ফলে তার বাকশক্তি ও মেধাশক্তি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



সর্বশেষ এডওয়ার্ড জার্মানিতে এবং আইন্সটাইন যখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তখন এডওয়ার্ডের মানসিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। এ অবস্থায় আইন্সটাইন তার চিকিৎসার খরচ পাঠানো চালিয়ে যান এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে  তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত কারণে এরপর তাদের আর কখনো দেখা হয়নি। এডওয়ার্ড তার  জীবনের তিন দশক জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকে কাটিয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করে।


+লেখকঃআয়েশা খাতুন

লেখকের আইডিঃআইডি লিংক