বিকেল ৫টা পার হয়েছে বোধ হয়। জীবন্ত সেই রাস্তাটির দু'পাশে সে আর আমি। এ রাস্তাটি আমার অনেক চেনা। আর চিনব নাই বা কেন!প্রত্যহ স্কুল যাওয়া-আসার সময় বন্ধু সাদ্দু (সা'আদ বিন সাকিব)'র সাথে করা প্রত্যেকটি গল্পের সাক্ষী এই রাস্তাটি। যাই হোক, সেদিন সাদ্দু আর আমি এপাশে আর ও রাস্তার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। কি সুন্দর তার মুখের হাসি! তার হাসিটিই আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে যেন! রাস্তা পার হয়ে তার সাথে হাত মেলালাম,কুশল বিনিময় করলাম। আরো কত কি! কিছুক্ষন পর তার বাসায় যেতে বলল। আমি না করলাম। অবশ্য এ না করার মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিমাণ হলেও হ্যা লুকায়িত আছে। থাকবেই না বা কেন! স্কুল যাওয়া-আসার সময় এই গলিতে যে আমাদের থামতেই হতো। যদি ভুল করে হলেও একবার তার দেখা পাই! আমি আর সাদ্দু গেলাম তার বাসায়। আমরা যা ভাবছিলাম ঠিক তাই। তার বাসা দু'তলায়। প্রত্যেকদিন তাকে নিয়ে আমাদের মধ্যে গবেষণা চলত। কোন বাসাটা হতে পারে এই বিষয়ে। বোধ হয় LOVE AT FIRST SIGHT এটাই!  

বাসায় ঢোকামাত্র আঙ্কেল, আন্টির সঙ্গে দেখা। সম্মাননা প্রকাশের পর ড্রইং রুমে বসলাম। অবশ্যই তা অনুমতি পেয়ে। আদব-কায়দা বলেও তো কিছু একটা আছে না কি! কিছুক্ষন গল্প-গুজবের পর চা-কফি খেলাম। আঙ্কেল,আন্টি বেরুলো কি যেন দরকারি কাজে। বন্ধুটিকেও কৌশলে বাইরে পাঠালাম। এরপর বুক পকেটে অতি যত্নে রাখা সকালের কেনা লাল গোলাপটি বের করলাম।
মনে মনে সকাল থেকেই ঠিক করেছি আজ প্রপোজ করবই। ১৪ই ফেব্রুয়ারি বলে কথা! যা ভাবা তাই কাজ। ওর সামনে হিন্দি ফিলিমের নায়কদের মতো হাটুগেড়ে বসে গোলাপ ফুলটি তার সামনে ধরে যখনি মনের কথা বলতে যাব ঠিক সেই মূহুর্তেই ঘুম ভেঙে গেল। কি আর করা। উঠে এলার্মটা বন্ধ করলাম।  

এরকম অফুরন্ত স্বপ্ন আসে আমার মাথায়।
অবশ্য এতে স্বপ্নের কোনো দোষ নেই। সবসময় ভাবি যে তাকে নিয়ে! স্বপ্নকে তো আসতেই হবে!
মেয়েটির নাম নন্দিনী। হাস্যকর সত্য এটাই যে, মেয়েটিকে আমি এখনো সরাসরি দেখি নি। ফেসবুকেই পরিচয়। ফেসবুক একটা অদ্ভুত জিনিস। তুমি কাউকে নিয়ে কিছু ভাবলেও সে তোমাকে নিয়ে কি ভাবছে বোঝা মুশকিল। সে আদৌ তোমাকে নিয়ে ভাবছে কি!
তখন সম্ভবত শীতকাল। সবেমাত্র নবম শ্রেণিতে পা দিয়েছি। অবশ্য ফেসবুকের সাথে আগে থেকেই কিঞ্চিৎ পরিচিত ছিলাম। নতুন ফেসবুক ইউজার। তাই স্বভাবতই মেয়ের আইডি দেখলেই রিকুয়েস্ট সেন্ড করতাম।
সেটা কোনো বড় আপু-ই হোক না কেন। অবশ্য যদি রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ম্যারিড অথবা ইন এ রিলেশনশিপ থাকতো তাহলে সেই আইডি রিকুয়েস্টের হাত থেকে রক্ষা পেত। হঠাৎ একদিন একটি মেয়ের আইডি চোখে পড়ে। যদিও নিজস্ব ছবি আপলোড করা নেই, তবুও কেনো জানি রিকুয়েস্ট দিলাম। এক্সসেপ্টও করল।

তারপর থেকে চ্যাটিং শুরু হল। তার কথার মধ্য দিয়েই তাকে ভালো লাগতে শুরু করল। ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটা ভালো বন্ধুত্বে
পরিণত হলো। ফোন নম্বর আদান প্রদান হলো। এমনকি তার ছবিসহ আমার সাথে শেয়ার করল। তখন বুঝতে পারি নি যে, এ বয়সটা আবেগী। তার প্রেমে পড়ে গেলাম। বলতে গেলে সাইলেন্ট লাভার। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। In fact, এখনো দেখি। তখন বুঝতে পারি নি যে এটা রিয়েল লাইফে অস্তিত্বহীন। এভাবেই চলতে থাকে। অনেকবার Indirectly প্রপোজও করেছি। সেও করেছে এটা আমার কাছে মনে হয়েছে। এটাও হতে পারে যে সে আমাকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কল্পনা করে নি। অবশ্য তাকে মনের কথা জানানোর সাহস আমার ছিল না। এখনো নেই। জানিনা আদৌ সেই সাহস আসবে কি না।
এই হলো সেই মেয়ে। নন্দিনী। জানি না এটা ভালোবাসা কি না। কিন্তু, একটা কথাই বলতে চাই, তাকে আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। হাজার হলেও LOVE AT FIRST SIGHT বলে কথা!    


+লেখক: দূর্জয় অধিকারী শুভ
পড়ছেন হাবিপ্রবিতে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে নিজেকে খোঁজাতে ব্যাস্ত।
ফেসবুক আইডি:আইডি লিংক