ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (১ম পর্ব) - লিখেছেন - আবির হাসান সায়েম



রাবেয়া খাতুন হন্তদন্ত হয়ে ছোটাছুটি করছেন। তাকে বেশ বিরক্ত দেখাচ্ছে।
একটু আগে সে একটা ছোকরা কে বলেছিলেন-
      "সিড়ির নীচে সাদা ফুল লাগিয়ে দে, বেশ ভালো মানাবে।"
 কিন্তু এখন সে ছোকরাটাকে বোকছেন,
"তুই সাদা ফুল খুলে ফেল।দেখছিস না একটুও মানাচ্ছে না।চোখে কোনো সৌন্দর্য নেই যত্তসব। "
ছোকরাটা সব ফুল খুলতে লাগল।
রাবেয়া খাতুনের মুখ লাল হয়ে রয়েছে। একটু আগেও সে সবার সাথে হাসিখুশিভাবে গল্প করছিলেন ।বড় মেয়ের বিয়ে কিন্তু তাকে মটেই চিন্তিত মনে হচ্ছিলো না।
কিন্তু এখন তার মন-মেজাজ উভয়ই বেশ খারাপ। তার মন-মেজাজ খারাপ হবার মূল কারণ একজন মানুষ। মানুষটার নাম রাফা।
রাবেয়া খাতুন রাফা ছেলেটাকে মোটেই সহ্য করতে পারেন না।  এই ছেলেটার জন্য তার মেয়ের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। কিন্তু কি আশ্চর্য রাফা ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই রাবেয়া খাতুনের স্বামী লতিফ চৌধুরী রাফাকে ডেকে তার রুমের ভিতরে নিয়ে গেলেন। রাবেয়া খাতুন তখনো শান্ত ছিলেন,কিন্তু নবনী যখন শুনল রাফা এসেছে, সাজগোছ সব বাদ দিয়ে সে নিচে এসে গল্প করতে বসেছে ।  একটা মেয়ে, তার আজ বিয়ে কিভাবে সে অন্য একটা ছেলের সাথে দেখা করার জন্য সাজ বাদ দিয়ে চলে আসতে পারে?
রাবেয়া খাতুন উত্তর পায় না। তার গা রাগে জ্বলে যায়। মেয়ে যেমন, তার বাপও তেমন।কি আছে ছেলেটাতে এতো? ছেলেটার জন্য ২ বার মেয়েটার বিয়ে ভেঙে গেলো।একবারতো পান-চিনিও হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষমেষ বিয়েটা হলো না। বিয়ের ২দিন আগে পাত্রপক্ষ ফোন দিয়ে বলল,
"আপনার মেয়ে রাফা নামের কোন এক ছেলের সাথে ঘুড়ে বেড়ায় ।আপনাদের বসায়ও তার আসা- যাওয়া আছে।আমরা আমাদের ছেলেকে এমন মেয়ের সাথে বিয়ে দিবো না। আর আপনাদের মতো ফ্রড ফেমিলির সাথে কোনো প্রকারের সম্পর্কে  যুক্ত হবারও আমাদের কোনো ইচ্ছে নেই।'"
এই কথা বলেই অপাশ থেকে ফোন রেখে দিলো।এপাশে রাবেয়া খাতুনের কান্না কে দেখে।লতিফ সাহেব,নবনী সবাই ছুটে এলো।
লতিফ সাহেব স্রীকে সান্ত্বনা দিতে বসলেন, নবনী তার রুমে চলে গেলো।
আধঘন্টা পর রাবেয়া খাতুন শান্ত হলেন।রাবেয়া খাতুন ভাবলেন তার এমন করে কান্না করা উচিত হয় নি। মেয়েটা নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছে।অধিক দুঃখের সময় হাসাও যায় না,আবার বেশি কাদাও উচিত নয়। যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখতে হয়।রাবেয়া খাতুনের আফসোস লাগলো।সে মেয়ের রুমের দিকে গেলেন।তিনি ভেবেছিলেন মেয়ে হয়তো এতক্ষনে কেদে মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।কিন্তু হায়! রাবেয়া খাতুন দেখল তার মেয়ে ড্রেসিং টেবিলের  সামনে বসে চোখে কাজল দিচ্ছে। মাকে দেখে নবনী স্বাভাবিক ভজ্ঞিতে জিজ্ঞেস করল,
"মা দেখো তো চোখের এই দিকটাতে কাজল লেপ্টে গেছে।একটু ঠিক করে দিবে?"
রাবেয়া খাতুন মেয়ের কাজল ঠিক করে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করল,
"কোথায় যাচ্ছিস মা?"
নবনী বলল,
"রাফার সাথে মার্কেটে যাচ্ছি ।"    


+লেখক: আবির হাসান সায়েম

ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ফেসবুক:আইডি লিংক