ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

আইফেল টাওয়ার বিক্রির কেলেঙ্কারি! - লিখেছেন - শরফুদ্দিন চিশতী


বিশ্বের অন্যতম অথবা শ্রেষ্ঠ প্রতারক বললেও ভুল হবে না এমন একজন ব্যক্তি যে কী না EIFFEL টাওয়ার বিক্রি করেছে - কেবল একবার নয়, দুই বার !! উপরে ভিক্টর লাস্টিগের ছবি দেখানো হয়েছে, যিনি আইফেল টাওয়ারটি দু'বার বিক্রি করেছিলেন। এটি বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারী বলে মনে করা হয় যে কোনও প্রতারণার তুলনায়, খাঁটি বাংলায় বাটপারি !! "The Handsome Devil" বইটি ভিক্টর লাস্টিগের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। সে সবচেয়ে আলোচিত এবং সাহসী প্রতারক হিসাবে আজও অবধি বিবেচিত হয়।


১৯২৫ এর এক দিনে ভিক্টর লাস্টিগ তাঁর প্যারিসের হোটেল কক্ষে বসে ছিলেন এবং ১৮৮৮ সালের প্যারিস ওয়ার্ল্ড ফেয়ারের জন্য আইফেল টাওয়ার সম্পর্কে একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধ পড়ছিলেন এবং এটি ১৯০৯ সালে ভেঙে যাওয়ার কথা ছিল, তবে উচ্চতার কারণে এটি একটি রেডিও টাওয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯২৫ সালে একটি পত্রিকার নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এটি মরিচা পড়েছে এবং ব্যয়বহুল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল। নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছিলো যে, সরকারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তহবিল সন্ধানে সরকার সমস্যায় পড়ছিল, নিবন্ধের শেষে সাংবাদিকরা এটি বিক্রির একটি ভিত্তিহীন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলো !! আর এই নিবন্ধন ভিক্টরকে এক কূটবুদ্বির ধারণা দিয়েছিলো - "এটি বিক্রয় করো'" !! তিনি কাগজপত্র এমনভাবে বানালেন যা দেখে মনে হয়েছিল সরকারী দফতরের।
প্যারিসের লোহার উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি লক্ষ্য ছিল আইফেল টাওয়ারের জন্য বিড করার আর এজন্য ভিক্টর  তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এটিকে অফিসিয়াল মনে করার জন্য তিনি হোটেল ক্রিলনে এই সভাটি ডেকেছিলেন, যেটি এমন একটি জায়গা হিসেবে বিখ্যাত ছিলো, যেখানে সমস্ত কূটনৈতিক চুক্তি হতো। এমন সমস্ত পরিকল্পনা করা হয় যাতে এটি কোনও সরকারি প্রকল্পের মতো লাগে।


বৈঠকের দিন, ভিক্টর প্রত্যেককে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, এটি একটি বিতর্কিত বিষয় এবং সমস্ত পক্ষের একটি গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত!! ভিক্টরের দুর্দান্ত উপস্থাপনা দক্ষতা দেখে সে ঘরের উপস্থিত সবাই বিশ্বাস করেছিল যে এটি কোন সন্দেহ ছাড়াই সত্য। ভিক্টর মিঃ পোইসনকে শিকার হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন যিনি প্যারিস দাসত্বের বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন এবং কিছু ঘুষ দাবি করেছিলেন যাতে আইনী সরকারী কর্মচারী মনে হয়। ভিক্টর টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্যারিস থেকে পালায় আর নিজের বাহাদুরির খবর ভাইরাল হওয়ার অপেক্ষা করে কিন্তু পোইসন কাউকে এ কথা জানায় না নিজের খ্যাতি হারানোর ভয়ে!! ভিক্টর আবার প্যারিস যায় আবার Eiffel Tower বেচতে !! কিন্তু অতি সাহস তাকে এ যাত্রায় ফাঁসায়
সে ধরা পরে FBI র হাতে!!
মামলার কাগজে সম্মানজনকভাবে তার পেশা হিসেবে লেখা হয়"Salesman"
এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি এবং সাহসী প্রতারণা যেকোনো মানুষের জন্য!!   




+লেখক: শরফুদ্দিন চিশতী
জগতের মায়া কাটাতে ব্যস্ত, সাধারণ এক কিশোর :)  

ফেসবুক আইডি :আইডি লিংক