ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

একটি বাদামি জুতার গল্প - লিখেছেন - নুসরাত মিতু

১.

হাসপাতালের আইসিইউ বেডে শুয়ে আছেন মফিজ সাহেব। কিছুক্ষণ আগে তার‌‌ জ্ঞান ফিরেছে।
চারিপাশে তাকিয়ে দেখলেন তিনি শুয়ে আছেন হালকা নীল রঙের একটি কামরায়। মনে হলো ভিন্নজগতে যাওয়ার কোন দূরযানে চেপে বসেছে সে। সময় যেন থমকে রয়েছে এখানে। ঘড়ি না থাকলে আসলেই কি সময় চলা বন্ধ করে দেয়?
তার স্মৃতিতে ভেসে উঠে একজোড়া বাদামি জুতা। অফিস থেকে আসার সময় বড় নাতির জন্য কিনে এনে ড্রয়ারে রেখে দিয়েছিল। ওরা কি খুঁজে পাবে!
অফিস, ও হ্যাঁ এই করোনাকালীন সময়েও অফিস যেতে হয়েছিল বসের কড়া নির্দেশে। সেখান থেকেই তো ছোট্ট ভাইরাসটি এখন তার শরীরে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে। ওদেরকে শান্তিতে থাকতে দিয়ে মফিজ সাহেবের ভাবনার কিচিরমিচির চলে গেল তার অমিমাংসিত কাজগুলোর দিকে।

গাড়িটার‌ লাইসেন্স করা হয়নি এখনো, সাভারের বাড়িটাও‌ অর্ধেক মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার চাকরির স্থায়ী ব্যবস্থা ও করা হলো না। সে না থাকলে তার সেদিনের পুচঁকে ছেলেটা কিভাবে সব সামলে নিবে। কত কাজ বাকি রয়েছে তার। এসব চিন্তা করতেই মাথায় চাপ পড়ছে।

তারচেয়ে বরং মমতার কথা চিন্তা করা যাক। মমতাকে খুব মানায় আসমানী রঙের শাড়িতে। মনে হয় যেন‌ একটুকরো বিকাল এসে বসে তার ছোটখাটো শরীরে। বড্ড রং সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে সে। একেকটা মানুষ একেক রংয়ের হয়ে ধরা দিচ্ছে। মেয়ে লাল, ছেলে খয়েরী আর......।
নাহ আর কিছু চিন্তা করতে পারছে না সে। সবগুলো রং মিলেমিশে রংধনুর বিপরীতে চলে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে সাদা হয়ে একটি বিন্দুতে মিলিয়ে যাচ্ছে।

২.

নাফিজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বসে আছে। কি করবে সে বুঝে উঠতে পারছে না। প্রতিবার ঈদে বাবা আর দাদার সাথে সকালবেলায় ঈদগাহে নামাজ পড়তে যেতো। এবারতো দাদাও নেই, নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ঈদগাহ ও নেই। মা তাকে একজোড়া বাদামি জুতা পড়িয়ে দিয়েছে। সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জুতাটির দিকে।


+লেখক: নুসরাত মিতু
কৈশোর কাল থেকে কোন এক আলেয়ার পিছনে ছুটে চলছে লেখক। এ যেন‌ নিরন্তর এক যাত্রা। আপাতত সে খুব আনন্দের সাথেই করছে এ কাজ।
ফেসবুক আইডি: আইডি লিংক