ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

সময় গণনা - লিখেছেন - মাহির আলম জিসান









সময়


হাজার বছর মানুষ সূর্য দেখেই সময় হিসাব করেছে। সূর্যোদয়ের সময় তাদের ঘুম ভাঙতো, সূর্যাস্তের পরই ঘুমিয়ে যেত। সর্বপ্রথম ঘড়ি তে সময় দেখা হতো ছায়া ব্যবহার করে, কখনো আবার প্রবাহমান পানি কিংবা বালির সাহায্যে। যাইহোক, মানুষ তাদের দিনকে সঠিক ভাবে ভাগ করতে চেয়েছিল, তাই ঘড়ি নির্মাতারা প্রতিনিয়ত যান্ত্রিক ঘড়ির বিকাশ ঘটিয়েছে। এসব জটিল যন্ত্র গুলোই আমাদের এগিয়ে নিয়েছে উত্তম সময় গননার পদ্ধতির দিকে।

ছায়া ঘড়ি







সান ডায়াল হচ্ছে সবচে পুরনো ছায়া ঘড়ি। সূর্যের অবস্থানের মাধ্যমে এতে সময় বোঝা যায়। সান ডায়াল সকল ঘড়ির মধ্যে সবচে পুরনো নকশা এবং সময় দেখার প্রাচীনতম যন্ত্র। পুরাতন সান ডায়াল গুলো ছিল লম্বা স্তম্ভ বা obelisks এবং মাটিতে দাড়া করানো লাঠি। যাত্রারত মানুষ, গাছ অথবা নিজের ছায়া ব্যবহার করে আনুমানিক সময় বলতে পারতো। শতাব্দীর শেষে আরো সহজে বহনীয় সান ডায়াল ও উদ্ভব হয়েছিল।

সূর্যের আলো স্তম্ভ বা লাঠির ওপর পরে, ফলে তা মাটিতে একটি চিহ্নিত ধাতব পাতের উপর ছায়া ফেলে। মানুষ সেই ছায়া এবং পাতের ওপরের চিহ্নের তুলনা করে সময় বলতে পারতো।

এর কিছু ভালো দিক হচ্ছে এইধরনের ঘড়ি গুলো সহজে বহন যোগ্য ছিল। পরিবেশ বান্ধব, যেহেতু কোনো ব্যাটারি কিংবা শক্তির উৎসের প্রয়োজন নেই। আর্দ্রতা কিংবা অভিকর্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয় না। তৈরি করাও খুব সহজ।

কিন্তু এটি সূর্যের আলো ছাড়া কাজ করতে পারবে না। বর্তমানের আধুনিক ঘড়ির মতো নির্ভুল ছিল না। সেটি নির্দিষ্ট একটি স্থানে প্রয়োগ করে সময় বলতে হবে। স্থান পরিবর্তন কালীন সঠিক সময় দিবে না।

যান্ত্রিক জলের ঘড়ি







যন্ত্রটির প্রকৃত নাম ‘Water-driven Spherical Birds’- Eye-View Map of the Heavens’।
খ্রিস্টপূর্ব ৭২৫ সালে এই ঘড়ির উদ্ভাবন করেন Yi Xing, যিনি একজন বৌদ্ধ গণিতবিদ এবং সন্ন্যাসী । এটিকে তৈরি করা হয় জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত যন্ত্র হিসেবে যা প্রসঙ্গক্রমে ঘড়ি হিসেবেও কাজ করতো। এই যন্ত্রে পানির প্রবাহের সাহায্যে একটি চাকা পূর্ণ আবর্তনে ২৪ ঘণ্টা ঘুরতে থাকে।

অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা টি ছিল স্বর্ণ এবং তামার তৈরি এবং তার সাথে ছিল অসংখ্য চাকা, কাটা এবং দন্ডের অন্তর্জাল। প্রতি এক ঘণ্টায় একবার স্বয়ংক্রিয়

ভাবে ঘণ্টা বেজে উঠতো, এবং ঘণ্টার এক চতুর্থাংশ হিসেব করতে ডঙ্কা বেজে উঠতো।







আরেকটি চমৎকার নামধারী ঘড়ি ছিল 'cosmic engine' যা তৈরি করেন চীনা উদ্ভাবক Su Song, খ্রিস্টপূর্ব ১০৮৬ থেকে ১০৯২ এর মাঝে Sung রাজবংশের এক সম্রাটের জন্য। এটিও একটি যান্ত্রিক জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত ঘড়ি ছিল, কিন্তু তা ছিল বিশাল বড়, বেশ কয়েক তলার দশ মিটার উচু একটি টাওয়ারের মত। সেটি তামার তৈরি এবং পানির সাহায্যে চলতো। সবার উপর একটি মাচায় একটি গোলক থাকতো যা গ্রহ সমূহের গতির হিসাব রাখতো। ঘড়িটি নিজ অবস্থানে কার্যরত ছিল ১১২৬ পর্যন্ত, যখন Tatar Invasion (তাতার আক্রমণ) এর সময় হারিয়ে যায়।

{
ফান ফ্যাক্ট:
ইউরোপিয়ান সন্যাসীরা সর্বপ্রথম ১৩০০ শতাব্দীতে অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করেন। তাদের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল জানার জন্য, কখন সকালের উপাসনার সময় হয়েছে।
 
দোলন ঘড়ি







১৬৫৬ সালে ডাচ গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রকৃতিবিজ্ঞানী Christiaan Huygens দোলন ঘড়ি আবিষ্কার করেন এবং ১৬৫৭ সালে তা প্রকাশ করেন। এই প্রযুক্তি টি সময় হিসাবের ভুল পনেরো মিনিট থেকে পনেরো সেকেন্ড পর্যন্ত কমিয়ে আনে।

Huygens এর নকশাকৃত ঘড়িটি তৈরি করেন Salomon Coster. Huygens ১৬০২ সালের শুরুতে Galileo Galilei এর দোলক বা পেন্ডুলাম সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। Galileo দোলকের মুখ্য বৈশিষ্ট্যটি আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন, Isochronism অর্থাৎ বিভিন্ন আকৃতির দোলনের জন্য সকল দোলকের দোলনকাল প্রায় একই। ১৬৩৭ সাল থেকেই Galileo এর একটি দোলন ঘড়ির পরিকল্পনা ছিল, যার আংশিক তৈরির কাজ করেন তার ছেলে ১৬৪৯ সালে, কিন্তু ঘড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেন নি।
মায়ান ক্যালেন্ডার







মায়ান ক্যালেন্ডার, প্রাচীন মায়ান সভ্যতার দিন গণনার ব্যবস্থা এবং মেসোমেরিকান সভ্যতা দ্বারা ব্যবহৃত অন্যান্য সমস্ত বর্ষপঞ্জির ভিত্তি। বর্ষপঞ্জি টি ২৬০ টি আনুষ্ঠানিক নাম সহ সর্বমোট ৩৬৫ দিন এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। একসঙ্গে হিসাব করলে, তারা ১৮,৯৮০ দিন অর্থাৎ ৩৬৫ দিনের ৫২ টি বছরের একটি চক্র তৈরি করে যাকে 'বর্ষপঞ্জি চক্র' বলা যায়।

ধন্যবাদ সময় নিয়ে পুরো লেখাটি পড়ার জন্য। আপনাদের পরবর্তীতে কোন বিষয়ে জানার আগ্রহ হলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। শুভকামনা।

+লেখক: মাহির আলম জিসান
Confused among all these confusions. Currently studying in Dhaka Imperial College.
ফেসবুক আইডি:আইডি লিংক