ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

গোয়েন্দাগিরিঃ শূন্য হতে অবধি - লিখেছেন - জুনায়েদ ইসলাম


গোয়েন্দা!!রহস্য!! শব্দ দুটি শুনলেই একটু নড়েচড়ে বসতে হয়। কেননা সাহিত্যের একটি বিরাট জনপ্রিয় শাখা হচ্ছে এই ডিটেকটিভ বা গোয়েন্দা গল্প। সাহিত্যের অন্যান্য শাখার জনপ্রিয়তায় বেশ উজানভাটি দেখা দিলেও গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বৈকি এতটুকুও পর্যন্ত কমে নি। আমি নিজেও একজন ডিটেকটিভ লাভার। সময় পেলেই ডিটেকটিভ গল্প পড়তে ভালোবাসি। তবে খুব যে বেশি জানি তা কিন্তু না যতটুকু জানি তা পাঠক সমাজের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র এটি। গোয়েন্দাকাহিনি পাঠক সমাজের দৃষ্টি বেশি কেড়েছে, এই যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তার শুরুটা ছিল ছিমছাম এবং খুব বেশি দিন আগেরও কিন্তু না। আমরা যদি সাহিত্যের দিকে নজর দেই তাহলে দেখতে পাব যে, ভারত, চীন, গ্রিস, ইউরোপের প্রাচীন সাহিত্যে অল্প কিছু গল্পের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ,কিন্তু আমরা যদি আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যের দিকে নজর দিতে আসি বা আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যকে তুলে ধরতে যাই তাহলে সবাই এক বাক্যে মেনে নিতে রাজি হব যে, মার্কিন সাহিত্যিক এডগার এলান পোর মাধ্যমেই আধুনিক গোয়েন্দা সাহিত্যের জন্ম হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতি দেয়া বা না দেয়া নিয়ে অনেক মতবাদ চালু আছে সেটা নিয়ে অন্য কোনো দিন অন্য কোনো পর্বে বলব।






”রহস্যের বেড়াজাল” 


গোয়েন্দা কাহিনীগুলোর কাঠামোটা কিন্তু খুবই ছিমছাম প্রকৃতির। সাধারণভাবে গোয়েন্দার কাছে রহস্য আসবে। তারপর রহস্য আরো জট পাকতে থাকবে। যিনি গোয়েন্দা থাকবেন তিনি সবার দিকে কড়া সন্দেহের দিকে তাকাবেন কাউকে বাদ দেবেন না। এর মধ্যে কখনো কখনো দু-একজন খুনও হয়ে যেতে পারে বা আরো বেশি কিছুও হয়ে যেতে পারে সেটা লেখক বিশেষে পার্থক্য আছে। তারপর দেখা যাবে রহস্য উন্মোচনে তৎপর হয়ে উঠবে গোয়েন্দা (মাঝে মাঝে গোয়েন্দার সাথে তাঁর সহকারীও থাকে) এবং একসময় নিজের অসম্ভব বুদ্ধি খাটিয়ে জেনে যাবে সবকিছুর পেছনে কে ছিল মাস্টারমাইন্ড!!তারপর সবাইকে এক জায়গায় ডেকে এনে ধরিয়ে দেবে আসল অপরাধীকে ।পুরো গল্পটা বলতে থাকবেন গোয়েন্দারই কোনো এক স্বল্পবুদ্ধির সহকারী বা বন্ধু। 




“গোয়েন্দাকর্মে ব্যবহৃত উপাত্ত” 
আর এই রীতিকেই প্রথম অনুসরণ করেন এডগার অ্যালান পো। আর তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র অগাস্ত দুপাঁই হচ্ছে প্রথম আধুনিক গোয়েন্দা। অ্যালান পোর এই রীতি অনুসরণ করেই ডিটেকটিভ স্টোরি লিখতে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে এসেছিলেন কোনান ডয়েল, আগাথা ক্রিস্টি থেকে শুরু করে বাংলার শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায় সবাই। মাঝে মাঝে হয়তো গল্পের প্রয়োজনে একটু এদিক সেদিক নড়তে হয়েছে কিন্তু এই মূল রীতি থেকে কেউ সরে যান নি। আর এভাবেই আমরা পাঠক সমাজরা গোয়েন্দা জুটি বা একক গোয়েন্দাগুলোর সাথে পরিচিত হই যেমনঃ শার্লক হোমস-ওয়াটসন (ডয়েল), মিস মারপল, ব্যোমকেশ বক্সী-অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়(শরদিন্দু), মিসির আলি, টেনিদা, তিন গোয়েন্দা, ফেলুদা-তোপসে(সত্যজিৎ), জেমস বন্ড, মাসুদ রানা, আঙ্কল আবনার, দ্যা ওল্ডম্যান ইন দ্যা কর্ণার, ইন্সপেক্টর মেগ্রে, এরকুল পোয়োরো-ক্যাপ্টেন হেস্টিংস(আগাথা) প্রমুখ। এখন কথা হচ্ছে অধিকাংশ গোয়েন্দাকাহিনীর লেখক কেন এই রীতিটাকেই বেঁছে নিলেন ???কেন অন্য ধারায় গল্পগুলো ফাঁদলেন না???
ইন্টারনেট একটু ভালোমতো ঘাটলেই এর উত্তর সহজে পাওয়া যায় এবং সবচেয়ে বেশি পাঠক গ্রহণীয় বিখ্যাত ইংরেজ রহস্যোপন্যাস লেখক ডরোথি এল সোয়ার্স (“লর্ড পিটার উইমসে” এর মতো বিখ্যাত রহস্যোপন্যাসের স্রষ্টা) এর মতে, অ্যালান পোর এই রীতিতে দেখা যায় মূল লেখক গল্পের পেছনে লুকিয়ে থেকে গোয়েন্দার সহকারীকে দিয়ে কাহিনী লিখিয়ে নেয় বা বলাতে থাকে। এর একটি সুবিধা হচ্ছে লেখক এতে চরিত্রগুলো খুব সুন্দরভাবে পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। কিছু সূত্র ধরিয়ে দেন গল্প বর্ণনাকারীর মাধ্যমে যাতে পাঠক গল্পে আরো সম্পৃক্ত হয়ে যেতে পারে এবং গল্পের শেষটা না জানা পর্যন্ত যাতে পাঠক মনোযোগ হারিয়ে না ফেলে। এই প্রক্রিয়ায় সবগুলো সূত্র অতি গোপনে সযত্নে রাখা হয় যাতে অতি বুদ্ধিমান গোয়েন্দা সবশেষে রহস্য উন্মোচন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে। আরেকটা সুবিধা হচ্ছে রহস্য উন্মোচনের পর কাহিনিকারদের দিয়ে সহজেই গোয়েন্দার প্রশংসা করানো যায়। লেখক যদি নিজের বয়ানে এমন প্রশংসা করত সেটা প্রকারান্তরে নিজের প্রশংসাই হয়ে যেত...





”দ্যা মার্ডার ইন দ্যা রু মর্গস ম্যানুস্ক্রিপ্ট” 


মজার কথা হলো বিখ্যাত গোয়েন্দা সাহিত্যিকদের অনেকেই কিন্তু এমন গল্প বেশি দিন লিখতে চাননি। আমরা পোর দিকেই যদি দৃষ্টি দেই তাহলে দেখব দুপাঁর এত বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ৪বছরে মাত্র ৩টি গল্প লিখেছিলেন অ্যালান পো। যথা-“দ্যা মার্ডারস ইন দ্যা রু মর্গ”, “দ্যা মিস্ট্রি অব ম্যারি রোজে” ও “দ্যা প্যারালয়েন্ড লেটার”। এদের মধ্যে আধুনিক এই গোয়েন্দা সাহিত্যের পথচলা শুরু হয় “দ্যা মার্ডার ইন দ্যা রু মর্গ” এর মাধ্যমেই যেখানে দেখা যায় জোড়া খুন হয়ে যায় শহরে। সাজা পাচ্ছে একজন নিরপরাধ ব্যক্তি যা মেনে নিতে পারছেন না প্যারিসেই বসবাসরত আরেকজন বাসিন্দা অগাস্ত দুপা। প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করতে নিজে থেকেই শুরু করে তাঁর তদন্ত এবং অচিরেই নিজের অসম্ভব মেধা খাঁটিয়ে ঠিক আসল অপরাধীকে ধরে ফেলতে সমর্থ হন।বেশির ভাগ গোয়েন্দা চরিত্রের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যাতে আকৃষ্ট না হয়ে পারা যায় না ।আর দশটা সাধারণ মানুষের সাথে তাদের তুলনা চলে না ।তাদের চরিত্র সম্পূর্ণ অদ্ভুত ঠেকে আমাদের কাছে।এই যেমন এই অ্যালান পোর দুপার কথাই ধরুন। একজন খ্যাপা প্রকৃতির মানুষ ইনি। ঘর বন্ধ করে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে থাকে শুধুশুধু। রাস্তায় বের হতো রাতে। মানুষের মুখের কথাই বিশ্লেষণ করে দিয়ে মানুষকে হুটহাট চমকিয়ে দেয়। অগাস্ত দুপাই হচ্ছে প্রথম আধুনিক স্বার্থক গোয়েন্দা চরিত্র।
“শার্লক হোমস” 


উপরের ছবিটা দেখে নিশ্চয়ই আপনাদের “২২১/বি বেকার স্ট্রিট,লন্ডন” –এই ঠিকানাটার কথা মনে পড়ে গেছে। আরেকটি কালজয়ী চরিত্রের সৃষ্টি এখানেই। শার্লক হোমস। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের একটি কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র এটি। ১৮৮৭ সালে প্রথম আবির্ভূত হন এই চরিত্রের স্রষ্টা স্কটিশ লেখক ও চিকিৎসক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল। এই ডয়েল ও কিন্তু একটা সময় পর আর গোয়েন্দা গল্প লিখতে চাননি বরং ঐতিহাসিক লেখার দিকে নজর দিতে চেয়েছিলেন বেশি তাই একটা সময় পর মেরে ফেলেছিলেন শার্লক হোমস কে।পাঠকদের প্রচণ্ড চাপে পরে মৃত হোমস কে আবার জীবিত করতে বাধ্য হন তিনি যেটি এর আগে কখনো দেখা যায় নি কোনো গোয়েন্দা চরিত্রের ক্ষেত্রে। হোমস উচ্চ মেধাসম্পন্ন, নির্ভুল যুক্তিসম্পন্ন,যেকোনো প্রকারে ছদ্মবেশ ধরতে এবং ফরেনসিক বিজ্ঞানের দক্ষতাবলে জটিল আইনি মামলার নিষ্পত্তি করতে পারে।সমগ্র লন্ডনে সে “কনসালটিং ডিটেকটিভ” নামেই পরিচিত মূলত। তিনি মিসেস হাডসনের বাড়িতে থাকেন এবং মাঝেমাঝে ভাই মাইক্রোফট হোমসের সাথে দেখা করেন। তাঁর সবকিছুর সঙ্গী ওয়াটসন। হোমস ও কিন্তু দুপার মতোই অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন, কাউকে এক পলক দেখেই বিস্তর তথ্যাদি বলে দেয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে। বেহালা বাজানো তাঁর অন্য একটি দৃষ্টি কাড়ার মতো গুণ, নিজের বুদ্ধি নিয়ে অনেক গর্ব তাঁর।নিজের মর্জিমতো চলে।দুই চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকা মানেই যে দেখা নয় সেটা মনে হয় না শার্লকের থেকে ভালো কেউ শিখাতে পারবে। ডয়েল শার্লককে কেন্দ্র করে ৬০টির মত গল্প আর উপন্যাস লিখেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্প হিসেবে পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে “দ্যা স্পেকলড ব্যান্ড”। সবচেয়ে অদভুতুড়ে গল্প “দ্যা ডেভিলস ফুট” , সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত গল্প “দ্যা কার্ডবোর্ড বক্স” এবং সবচেয়ে বেশি নিন্দিত গল্প হচ্ছে “দ্যা ফাইনাল প্রবলেম”। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজেরও সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র এই শার্লক হোমস।এইজন্যেই হয়তো খুব বেশি বলে ফেলা। 


”ইন্সপেক্টর মেগ্রে” 


“ইন্সপেক্টর মেগ্রে এন্ড দ্যা বারগ্লারস ওয়াইফ”,”দ্যা মেমোরিজ ভেন মেগ্রে””মেগ্রে লসেস হিস টেম্পার”-এগুলো জর্জ সিমেনোর সৃষ্ট ইন্সপেক্টর মেগ্রের অভিযান। পুলিশকে নিয়ে বরাবরই হাসি তামাশা করত প্রায় অনেক লেখকরাই। তাদের লেখনীতে পুলিশকে হেয় করত অনেকটা কিন্তু এই রীতিটা পাল্টে যায় ৫০দশকে। পুলিশই হয়ে উঠে মূল গোয়েন্দা অথচ পুলিশকে নিয়ে বিস্তর অবজ্ঞা ছিল দুপার আর হোমসের। বাস্তব জীবনে সবচেয়ে জনপ্রিয় সে সময় ফরাসী গোয়েন্দা চীফ ইন্সপেক্টর মার্সেল গিয়মের আদলে তৈরি করেন এই চরিত্র টি জর্জ সিমেনো। মেগ্রেকে সাহায্য করতে আছে ৪জন সহকারী। তিনি একাই নায়ক নয় বরং পুরো টিমটাই নায়ক এখানে আর এই পথেই তৈরি নতুন উপশাখা পুলিশ প্রসিডরাল। যেখানে পুরো একটা দলকেই নায়ক বলা চলে। 
\

”দ্যা ওল্ড ম্যান” 



উপরের ছবিটিতে যেই বুড়ো লোকটিকে দেখতে পাচ্ছেন ইনি সেই নাম না জানা গোয়েন্দা। “দ্যা ওল্ডম্যান ইন দ্যা কর্ণার”,”আনরেভেলড নট “-ব্যারনেস অর্কজির লেখা এই গোয়েন্দা ব্যক্তির নাম জানা সম্ভব হয় নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বুড়ো। কোথাও রহস্যের গন্ধ পেলেই সেখানে গিয়ে হাজির হন, রহস্য সম্বলিত যেখানে যা পান মুখস্থ করে রাখেন ও পকেটে কাটিংগুলো রাখেন। এরপর এবিসি চা খানার এক কোনায় বসে এক নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপ করতে করতে রহস্যের গিট খোলেন। রহস্যের গিট খুলতে গিয়ে বাস্তবেও তিনি হাতে দড়ি রাখেন ও জটিল প্যাচ দেন এবং খোলেন। তাঁর পুলিশের প্রতি অবজ্ঞা আছে তাই ক্রাইম সলভ করলেও তিনি পুলিশকে বলেন না ফলে বেশিরভাগ সময়ে দেখা যায় অপরাধীকে হাতের নাগালে পেয়েও কিচ্ছুটি করা সম্ভব হয় না। 



”ডাঃথর্নডাইক” 



হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন অ্যাটাচি বক্স হাতে জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব এই লোকটাই সেই ফরেনসিক গোয়েন্দা। “দ্যা মিস্ট্রি এট নাম্বার ৩১”,”ডঃথর্নডাইক”,”দ্যা বেস্ট ডঃথর্নডাইক ডিটেকটিভ স্টোরিস”-গল্পগুলোর জনক অস্ট্রিন ফ্রিম্যান। তার সৃষ্টি থর্নডাইক ই হলো প্রথম ফরেনসিক গোয়েন্দা। আলামতকেই প্রধান বিবেচ্য মনে করেন তিনি। সঙ্গে সবসময় একটি অ্যাটাচি কেস নিয়ে ঘোরেন যাতে থাকে সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কোন কিছুই তাঁর পর্যবেক্ষণের বাইরে থাকে না। এদিক থেকে তিনি শার্লকের এক কাঠি উপরে।শার্লকের সাথে আরেকটি পার্থক্য আছে তিনি সবকিছু পাঠকের সামনে খোলাসা করেন যেটা শার্লক ওয়াটসনের ক্ষেত্রে পাঠকের সাথে পুরোপুরি খোলাসা করে নি। ফ্রিম্যান নিজে পরীক্ষা করে তারপর বইতে তা দিতেন আর তিনি নিজেই একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক। পূর্বসুরীদের সাথে তাঁর আরেকটা বিষয়ে পার্থক্য আছে থর্নডাইক পুলিশকে অবজ্ঞা করে না,মিলেমিশে কাজ করে। তিনি এই ক্ষেত্রে আরেকটি কাজ করেছেন চীনাদের মতো আগেই অপরাধ ও অপরাধীর পরিচয় ফাঁস করে দিয়েছেন এবং তারপর তাকে পাকড়াও করার পদ্ধতি দেখিয়েছেন।


”রেফলস” 


আস্ত একজন চোরই কিনা হয়ে উঠল একজন গোয়েন্দা শেষ পর্যন্ত!! অপরাধীকে নায়ক বানানো যাবে না এটাই ছিল মূলমন্ত্র ডয়েলের। তারই পন্থা ব্যবহার করেছে তারই বোনজামাই ই ডব্লিউ হরনং। একটা চোরই হয়ে উঠেছিল গোয়েন্দা। একজন চোরই যখন গোয়েন্দা ভাবা যায় ব্যাপারটা!! “রেফলসঃদ্যা এমেচার ক্রাকম্যান”,”রেফলস”,”দ্যা থ্রিলার”এসব উল্লেখযোগ্য বই। শার্লক হোমসের বিপরীত চরিত্র এটি। চোর হলেও তাঁর রয়েছে নিজস্ব পন্থা। আশ্রয়দাতার থেকে চুরি করে না, বন্ধুর বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সম্পদের সুষম বণ্টনে বিশ্বাসী এই গোয়েন্দা। লন্ডনে অভিজাত পাড়ায় সে থাকে ও ক্রিয়েটিভ উপায়ে চুরি করে সে। চোরকে নায়ক বানিয়ে ধারার লেখনিতে সবচেয়ে বিখ্যাত ফরাসী লেখক মরিস লা ব্লার আরসেন লুপাঁ। পরবর্তীতে আরো অনেক গল্পেই চোরকে গোয়েন্দা বানানোর প্রবণতা দেখা গেছে।


”স্যাম স্পেড” 


“ব্ল্যাক মাস্ক”,”এ ম্যান কল্ড স্পেড”,”দ্যা এডভেঞ্চার অফ স্যাম স্পেড”-ড্যাশিল হ্যামেটের তৈরি প্রথম ভিন্নধারার গোয়েন্দার আবির্ভাব।আর এই ধরনের নাম হার্ড বয়েল্ড । এই ঘরানায় প্রথম সার্থক গোয়েন্দা স্যাম স্পেড। লেখক নিজেও ব্যক্তিজীবনে পিংকারটন ন্যাশনাল এজেন্সীতে ছিলেন সেখানের অভিজ্ঞতার আলোকেই রচিত গল্প এগুলো। এই গোয়েন্দা ক্লায়েন্টের জন্য অসাধু পথে যেতে রাজি। এদের সবসময় প্রতিপক্ষ ছিল সংঘবদ্ধ অপরাধীর পাশাপাশি দূর্নীতিপরায়ণ পুলিশ। বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রভাব এখানে স্পষ্ট পাওয়া যায়। 


”ম্যাক্স কারাডোস” 



“দ্যা আইস অফ ম্যাক্স কারাডোস”,”ম্যাক্স কারাডোস”-আর্নেস্ট ব্রামার তৈরী গোয়েন্দা চরিত্র যিনি দেখতে পারেন না চোখে এবং শার্লকের সমসাময়িক এই চরিত্র। একইসাথে স্ট্রান্ড পত্রিকায় ছাপা হত। কারাডোসের গল্পগুলো শুনিয়েছে আরেকজন গোয়েন্দা কার্লাইল। তার অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের পারসেপশন এতই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই যে সে অন্ধ। অন্যান্য অংগের পারসেপশন ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই সলভ করে ক্রাইম। তাঁর সলভ করার ধরনগুলিও অনেকটা ব্যতিক্রম এজন্য পাঠক সমাজে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে এই গোয়েন্দা। 


”নেরো উলফ” 



“নেরো উলফঃদ্যা সাইলেন্ট স্পিকার”,”নেরো উলফঃদ্যা রাবার ব্যান্ড””নেরো উলফঃদ্যা ব্ল্যাক মাউন্টেইন” – রেক্স স্টাউটের সৃষ্ট এই নেরো উলফ চরিত্র টিও একজন প্রতিবন্ধী গোয়েন্দা। তার চলনশক্তি স্থবির । কারাডোসের মতো অন্ধত্ব নয় বরং অতিরিক্ত স্থূলতাই এর কারণ। তিনি আর্ম চেয়ার ডিটেকটিভ।ঘরে বসেই সলভ করেন কেস। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে আছে সহকারী আর্চিবল্ড গুডউইন। নেরোর জীবন মানে এই তিনটি জিনিস খাওয়াদাওয়া,পড়াশোনা, অর্কিড। গোয়েন্দা লেখকদের বিচারে এটি শতাব্দীর সেরা গোয়েন্দা সিরিজ কেননা শুধু কথার অনুমানেই সঠিক বিশ্লেষণ করে দেয়ার ক্ষমতা সত্যিই প্রশংসনীয়।


"ফাদার ব্রাউন" 


“ফাদার ব্রাউনঃদ্যা এসেন্সিয়াল টেলস”,”দ্যা ইনোসেন্স অফ ফাদার ব্রাউন”,”দ্যা ফাদার ব্রাউন অমনিবাস”- গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন এর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র এই ফাদার ব্রাউন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ফাদার ব্রাউন একজন ধর্মযাজক। গির্জার পাদরী। একজন গির্জার পাদরীই হয়ে ওঠে আস্ত এক গোয়েন্দা চরিত্র। বগলে বিশাল ছাতা,মাথায় টুপি আর ছিমছাম পোশাক দেখে বোঝার উপায়ই নেই যে সে একজন গোয়েন্দা হতে পারে। শুধুমাত্র প্রজ্ঞার উপর নির্ভর করেই সে জটিল রহস্য ভেদ করে ফেলে। তার সুবিধা হচ্ছে গির্জার পাদরী হওয়াতে মানুষ তাঁর কাছে এসে পাপ স্বীকার করে এভাবে সে মানুষের মনস্তত্ত্ব ঢুকতে পারে যার জন্য রহস্যে পড়লে নিজেকে সে জায়গায় বসিয়ে ভেবে রহস্যের ঝট খুলে দেন যেমনটা বাংলা গোয়েন্দা চরিত্র মিসির আলির ক্ষেত্রে দেখা যায়। 



"আংকল আবনার" 


“আংকল আবনারঃমাস্টার অফ মিস্টিরিয়াস”-এই সংকলনের অনেক বই লিখে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মেলভিন ডেভিসন পোস্ট।তার সৃষ্ট চরিত্র হচ্ছে আংকল আবনার। খুবই সাধারণ একজন মানুষ তিনি।গ্রামের সবাই আংকেল বলে ডাকে। ধর্মভীরু তিনি।বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই তাঁর পরিবর্তে আছে সাধারণ কান্ডজ্ঞান ও পর্যবেক্ষণশক্তি ,সরল যুক্তিবোধ আর বাইবেলের প্রতি প্রেম ও জ্ঞান।এগুলো সম্বল করেই রহস্য উন্মোচিত করেন তিনি । তার গল্প আমাদেরকে শোনান তাঁর এক নাতি। সাধারণ ধাঁচেই এগিয়ে যায় তাঁর গল্প।গোয়েন্দা গল্পের নিয়ম অনুসারেই সে কেস সলভ করে থাকে।


 
"জাজ ডি"


এবার চলুন চীনাদের রহস্য সাহিত্যে একটু ঢু মেরে আসি। চীনাদের ইতিহাস আমরা সবাই জানি যে হাজার বছরের পুরোনো। এদের রচনার প্লট হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয় যার জন্য রহস্য গল্পে ফেলা যায় না এদের। কখনো শুরুতেই ফাঁস হয়ে যায় অপরাধীর চরিত্র আবার কখনো ঢুকে পড়ে ভূতপ্রেত আবার কখনো দার্শনিক আলোচনা। “দ্যা চাইনিজ গোল্ড মার্ডারস”, ”দ্যা চাইনিজ বেল মার্ডারস”,”দ্যা লেকুইয়ার স্ক্রিন”- ওলন্দাজ চীনা সাহিত্যবিশারদ রবার্ট ভ্যান গুলিক প্রথম গোয়েন্দা গল্পের রীতি ও আবহ বজায় রেখে তৈরি করেন গোয়েন্দা চরিত্র জাজ ডি। ডি বলে কিন্তু আসলেই একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিল। গুলিকের লেখায় ডি টাং যুগের একজন আঞ্চলিক ম্যাজিস্ট্রেট,বদলি হয়ে নানা জায়গায় যায় আর রহস্যে জড়িয়ে পড়ে। নজর কাড়া বিষয় হচ্ছে প্রতিটা বইয়ে একসাথে তিনটি কেস নিয়ে কাজ করে এই গোয়েন্দা। আর এজন্য এই চরিত্রটি খুব নাম করেছে।




অনেক তো বিশ্ব সাহিত্যে ঘোরা হলো এবার বঙ্গে ফিরে আসি।আমাদের বঙ্গেও কিন্তু নেহাত কম নয় গোয়েন্দার সংখ্যা।বাঙালি গোয়েন্দা গল্পে পাশ্চাত্যের আবহ থাকলেও আমাদের বাঙালি গোয়েন্দাগুলো বেশ সাধারণ।
”ব্যোমকেশ বক্সী” 



শরদিন্দুর ব্যোমকেশ বক্সী শিক্ষিত, মেধাবী ও সহৃদয়। সাধারণ বাঙালি মধ্যবিত্ত মানুষের মতোই।বাংলা সাহিত্যবিশারদ। কম কথা বলে। ধারালো নাকের সাথে আছে তাঁর ধারালো বুদ্ধিও।সে নিজেকে কখনো গোয়েন্দা পরিচয় দেয় না,সত্য অন্বেষণই তাঁর প্রধান ব্রত।বাংলাদেশ এক সময় ছিল তাঁর আদি নিবাস পরে ভারতের কলকাতায় আস্তানা গেড়েছে। হ্যারিসন রোডের একটি বাড়ির তিন তলা ভাড়া নিয়ে সে বাস করে। তাঁর পরিচারক পুটিরাম। সত্যবতী তাঁর স্ত্রী। ব্যোমকেশের অনুরোধে অজিত এ বাড়িতে থাকেন তাকে রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করেন আর অজিতই ব্যোমকেশের গল্পগুলো আমাদের বলেন।


”ফেলুদা” 


সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাঙালি গোয়েন্দা। ব্যোমকেশের মতো সেও সাধারণ বাঙালি। পছন্দ করে খেতে। সিনেমা দেখা, গান শোনা-এগুলোতে তাঁর আগ্রহ আছে। অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে ব্যায়াম করে। কথা বলে অপরাধীকে বশীভুত করার ক্ষমতা তাঁর আছে। সে গল্পে ২৭ বছর বয়সী একজন যুবক যার উচ্চতা ৬’’২’। সে মার্শাল আর্টে দক্ষ যদিও অসম্ভব ভালো বিশ্লেষন ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার উপরেই যে কোনো রহস্য উন্মোচনে সে ভালোবাসে। তার এই বিশেষ ক্ষমতাকে সে মজা করে বলে মগজাস্ত্র। তাঁর সহযোগী তোপসে। তাঁর নিজস্ব রিভলভার হচ্ছে থ্রি টু কোল্ট রিভল্ভার। যেখানেই রহস্যের গন্ধ পান সাথে সাথে সে জায়গা সম্পর্কে বিস্তর পড়ালেখা করে সেখানে যাওয়া তাঁর অভ্যাস। গোয়েন্দা চরিত্রের জনপ্রিয় যে ফর্মূলার কথা বলেছিলাম সেটা সত্যজিৎ এর পছন্দ ছিল না তাই ফেলুদার গল্প তিনি ফেঁদেছেন অন্য ধাঁচে। এখানে আগেই জেনে যাওয়া যায় অপরাধী কে। ফেলুদা আর অপরাধী কিভাবে একে অন্যের পথে আসেন এবং ফেলুদা তাকে পাকড়াও করে। 




 
”কাকাবাবু” 


কাকাবাবুকে আমরা সবাই চিনি। তাঁর আসল নাম রাজা রায়চৌধুরী। তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গু হন। সব ঘটনায় তাঁর সাথী ক্রাচ। তাঁর বিশেষ বন্ধু নরেন্দ্র ভার্মার ভাইপো সন্তু ওরফে সুনন্দ রায়চৌধুরী আর সন্তুর বন্ধু জোজোকে নিয়ে অনেক অ্যাডভেঞ্চারে জড়িয়ে পরতে দেখা যায় তাকে। প্রতিটি উপন্যাসে নতুন নতুন জায়গার কথা উল্লেখ থাকে। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য সাহস, মনের জোর আর নানা বিষয়ে অভূতপূর্ব জ্ঞান থাকায় সব সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারেন তিনি। কাকাবাবু অবিবাহিত। মানচিত্র দেখা তাঁর শখ। ম্যাপ দেখতে ভালোবাসে। কোথাও যেতে হলে সে জায়গা সম্পর্কে আগে পড়াশোনা করেন। 


মিসির আলি কে আমরা সবাই চিনি। হুমায়ূন আহমেদ এর কালজয়ী চরিত্র এটি। মিসির আলি যুক্তিনির্ভর একজন মানুষ বলেই অনেক সাহসী। ভূতাশ্রিত স্থানেও রাত কাটাতে পিছপা হোন না। বরং এজন্য থাকেন যে তাতে তিনি রহস্যময়তার ব্যাখ্যা দাঁড়া করাতে পারেন। তিনি হৃদয়বান,তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। “ফিফটি ফাইভ” ব্রান্ডের সিগারেট খান তিনি। তিনি আত্মভোলা। অসাধারণ স্মৃতিশক্তি তার।মানুষের মন, আচরণ, স্বপ্ন এবং নানাবিধ রহস্যময়তার অসীম আগ্রহ রাখেন। যুক্তিনির্ভর মানুষ কিন্তু আবেগপ্রবণ।
অর্জুন হলো সমরেশ মজুমদার এর সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় একটি গোয়েন্দা চরিত্র। এই সিরিজের প্রথম বই খুনখারাপি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। এই সিরিজ টা মূলত উত্তরবঙ্গ কে কেন্দ্র করে। তবে এর বাইরেও অনেক অভিযান আছে। অর্জুনের গুরু প্রাক্তন গোয়েন্দা অমল সোম। এছাড়াও আছে মজাদার চরিত্র মেজর এবং বিষ্টুসাহেব । অর্জুন ও নিজেকে সত্যসন্ধানী বলে থাকে।

 

”তিন গোয়েন্দার রাজত্ব” 


বাংলাদেশি সবচেয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ হচ্ছে তিন গোয়েন্দা –কিশোর পাশা, মুসা আমান ও রবিন মিলফোর্ড। বেশির ভাগ গল্পেরই লেখক রকিব হাসান কিছু ছাপা হয়েছে শামসুদ্দিন নওয়াবের নামে। রবার্ট আর্থারের “থ্রি ইনভেস্টিগেটরস” সিরিজ এবং এনিড ব্লাইটনের “ফেমাস ফাইভ” সিরিজসহ বিদেশি অনেক বইয়ের ছায়া নিয়ে রচিত এগল্পগুলো। এক গোয়েন্দার বৈশিষ্ট্যই ভাগ হয়ে আছে তিনজনের মধ্যে। বাঙালি কিশোর বুদ্ধিমান ,আমেরিকান রবিনের প্রচুর পড়াশোনা আর আমেরিকান-আফ্রিকান মুসা শক্তিশালী।


টেনিদা বা টেনি বা ভজহরি মুখার্জী হলো নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র। কলকাতার পটলডাঙার আশেপাশে বসবাসরত চার তরুণ ছেলেদের একটি দলের নেতা টেনিদা পড়াশোনায় তেমন ভালো ছিলেন না। সাত বারের চেষ্টায় মাধ্যমিক পাশ করে সে। সে বিখ্যাত ছিল তাঁর খাড়ার মত নাকের জন্য। গড়ের মাঠে গোরা পেটানোর জন্য। আর তাঁর বিখ্যাত সংলাপ ,”ডি-লা গ্রান্ডি মেফিস্টোফেলিস ইয়াক ইয়াক “। সে তাঁর বন্ধুদের নিয়ে যাওয়া অ্যাডভেঞ্চারের গল্প শোনায়ও রহস্য সমাধান করে।





”মাসুদ রানা” 


আরেক ধরনের গোয়েন্দা আছে যারা ব্যক্তিগত নয় সরকারী বাহিনীর গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করে। এই ধারায় বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়েছে জেমস বন্ড। বাংলাদেশের জেমস বন্ড হচ্ছে মাসুদ রানা। বন্ডের মতো মাসুদ রানাও গুপ্তচর।অসম্ভব বলে কোন শব্দ তাঁর ডিকশনারিতে নেই। বিভিন্ন বন্ধুর সাহায্যে সে প্রতিপক্ষের চক্রান্ত নস্যাৎ করে ফেলে ।এটি বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী ও জনপ্রিয় সুপারহিরো। বাংলাদেশের কিশোর সমাজের পাশাপাশি তরুণ সমাজেও সমানভাবে জনপ্রিয় এই চরিত্র।





”গোয়েন্দা রাজ্য” 


আরো অনেক গোয়েন্দা চরিত্র আছে। যেমনঃএমিল ও গোয়েন্দা বাহিনী, ডিটেকটিভ কর্ণেল, নারায়ণ স্যানাল, পাণ্ডব গোয়েন্দা, মেঘনাদ, সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। গোয়েন্দা চরিত্র নিয়ে লেখা শুরু করলে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো লেখকের লেখনীর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নতুন কোন গোয়েন্দা চরিত্র। অনেকে গোয়েন্দাগল্পকে সাহিত্যে জায়গা দিতে নারাজ কিন্তু তাতে আমাদের মতো পাঠকদের বয়েই গেল। ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তা আজ পর্যন্ত একটুও কমে নি বরং বেড়েছেই। গোয়েন্দা চলচ্চিত্র গুলোর কল্যাণে জনপ্রিয়তা আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার মতো যারা গোয়েন্দাগল্প ভালোবাসে তাদের জন্য এগুলোই যেন স্বর্গ মনে হয়। আপনি যদি গোয়েন্দাগল্প কখোনো না পড়ে থাকেন তাহলে একবার পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি গোয়েন্দাগল্পের প্রেমে পড়তে খুব বেশি দিন লাগবে না ।






জুনায়েদ ইসলাম
দ্বাদশ শ্রেণী, এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ কলেজে পড়ার পাশাপাশি, বই পড়তে ও মুভি দেখতে ভালোবাসেন। তবে ডিটেকটিভ সবকিছু খুব বেশি প্রিয়, নতুন কিছু জানতে এবং জানাতে তিনি সর্বদাই আগ্রহী।