ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

আমার সাথে ভূতের একদিন - লিখেছেন - শাহনেওয়াজ ইবনে শাজাহান



ভূত বলতেই ছোটবেলা থেকে আমার একটু আগ্রহ ছিল। ভূত খোঁজার জন্য আমি আর রাঙামামা কতই না ঘুরে বেড়িয়েছি রাতের আঁধারে গাবতলা আর তালতলায়। কিন্তু নানিমা বলতো, “ওই ভূতই তোরে একদিন ঠাইস্যা ধরবে। ভূত তো দেখো নাই জীবনে। দেখলে আর থাকা লাগত না!”

তবে বাবার কাছে শুনেছি তার সাথে ঘটে যাওয়া অনেক ভূতের গল্প। বাবা নাকি দেখতো ছোট এক হাতে মানুষের তিন হাতের দাড়ি নিয়ে আসছে। আবার কখনো মাছ ধরতে গিয়ে দেখে মাছ ভর্তি হাড়ি উধাও। আবার নাকি তার চাচাতো বোনকে পরী উঠিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু মায়ের কাছে একটাই গল্প শুনেছি। ছোটবেলায় একবার খেলতে গিয়ে সে নাকি একজন বৃদ্ধা মহিলাকে খেজুর গাছের কাঁটার মধ্যে বসে থাকতে দেখেছে। তারা সেই মহিলাকে নিয়ে মজা নেওয়ার সময় সে নাকি হঠাৎ উধাও!

এই থেকে আমার মনে জাগলো ভূত দেখতেই হবে! ভূত দেখার জন্য কত না রাত জাগতাম, আবার জানালা দিয়ে রাতে তাকাতে ভয়ও করত! কে না কে জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে!

এসব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই একদিন ভূত খুঁজতে বের হলাম রাঙা মামার সাথে। আমি আর রাঙা মামা ভূত খুঁজতেও বের হতাম আবার ভূত থেকে বাঁচার সরঞ্জামও যেমন: লোহা, ম্যাচ, রসুন সাথে রাখতাম। মাঝে মাঝে বিড়াল বা কুকুরের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে বলতাম, “এটা কি ভূত, রাঙামামা? পালিয়ে এস!” মামা বলত, “আরে, ধুর বোকা! ওটা তো লাইটের Reflection!”

একদিন আমরা রাতের বেলায় জঙ্গলের ঘেরা পুকুরের ধার দিয়ে আসছিলাম। প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ। আমরা কিছু ভাজাপোড়া তৈলাক্ত খাবার খেতে খেতে বাড়ি ফিরছিলাম। আমি আমার এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম, এই বনের মাঝে মানুষের সাথে ঘটে যায় নাকি অনেক জল্পনা কল্পনা। আমি অবশ্য ওর কথায় তেমন পাত্তা দেই নি। এসব কথাই আমি আবার মামাকে বলছিলাম যেতে যেতে। রাঙা মামাতো ভয়ে অস্থির! কিন্তু আবার রঙ্গ-রসিকতাও চালিয়ে যাচ্ছেন, সে ভূতে ভয় পায় না! আমিও বললাম ভূত বলতে কিছু হয় না! রাঙা মামা যেতে না চাইলেও আমি তাকে জোড় করে টেনে নিয়ে যেতে চাইলাম, ‘চল না মামা, যাই। আজ সব জল্পনা কল্পনা ভেদ করে ফেলব।’

রাঙামামা ছিল পেটুক। সে খেতে খুব ভালোবাসত। আমরা আবারো খেতে খেতে যাচ্ছি, এমন সময় কালো রঙের একটি কুকুর বেরিয়ে এল। আমরা কুকুরটাকে দু-এক টুকরো খাবারের অংশ দিলাম। খাবার দিয়েই আমরা কথা বলতে বলতে এগুচ্ছিলাম, তখনই রাঙামামা কিসের জন্য যেন পেছনে ফিরে তাকালো। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ছোটু, কুকুরটা বিড়াল হল কি করে?” রাঙামামা একটু মজা করতে ভালোবাসত। তাই আমি তার কথায় কর্ণপাত না করে উড়িয়ে দিলাম এবং পেছনে ফিরে তাকালাম না। অনেকটা রাস্তা এগোনোর পরে মাঝ জঙ্গলে এসে দেখি কুকুরটা আমাদের সামনে হাজির। রাঙামামাতো দেখে অচেতন হয়ে পড়ল। আমি ভাবলাম, ‘ব্যাপারখানা কি?’

কিছু ভাবার আগেই দেখি কুকুরটা হাতির মুখ ধারণ করে এসে দাঁড়ালো। আমি ভাবলাম এটা বুঝি আমার চোখের ভুল। আমি চোখ ঘষতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি হাতি হাতি মুখের কুকুরটা আমার দিকে এক পা দু’পা করে এগিয়ে আসছে।

রাঙামামার একটি অভ্যাস ছিল। সিগারেটের গন্ধেই তার ঘুম ভেঙে যেত। কথাটা মনে পড়া মাত্রই তার পকেট থেকে ব্লাক সিগারেটের প্যাকেট বের করে তার নাকে ধরলাম। সে আস্তে আস্তে উঠতে লাগল।

আমি বললাম, “রাঙামামা, তাড়াতাড়ি ওঠো। হাতি আমাদের শুঁড় পেঁচিয়ে নেবে।” রাঙামামা উঠে বলল, “ছোটু, তোর পকেটে একটা রসুন আছে না? ওটা বের কর। এক্ষুণি ব্যাটাকে মজা দেখাচ্ছি।”
তারপর রসুন এক দুই কোয়া করে ছুঁড়তে লাগলাম আর রাঙা মামার লাইটার দিয়ে একটি ফুলকি তৈরি করলাম। সাথে সাথে দেখি হাতিমুখো কুকুর অদৃশ্য।

আমি আর রাঙামামা কাঁপতে কাঁপতে বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে শুয়ে পড়লাম।

সেই থেকে আমরা হালকা বিশ্বাস করতে থাকলাম, ভূত হয়তো বা আছে, হয়তো বা নেই… 


+লেখকশাহনেওয়াজ ইবনে শাহজাহান
 শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনষ্টিটিউশনের অষ্টম শ্রেনির ছাত্র,
ভালোবাসে ক্রিকেট খেলতে আর wrestling দেখতে

ফেসবুক আইডি:আইডি লিংক