ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

জীবাণু অস্ত্র বিনাশের তলোয়ার - লিখেছেন - ফারজানা আক্তার মিলি



সমস্ত পৃথিবী এখন নিশ্চুপ। থমকে আছে পৃথিবীতে বসবাসরত প্রাণীকুলের জীবন, দাঁড়িয়ে আছে মন এক অনিশ্চয়তার পথে। এসবের পেছনে আসলে অদৃশ্য অস্ত্রের মতো কাজ করছে এক জীবাণু। প্রাণের উপর পড়ছে নির্মম থাবা, ঝরছে অসংখ্য প্রাণ, আতঙ্কে আছে জীবকূল।
তবে আর কতদিন! মানুষ থেমে নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়ে যাচ্ছে প্রতিটি মুহুর্ত এই অদৃশ্য অস্ত্রের বিরুদ্ধে। খুঁজে বেড়াচ্ছে তার থেকে মুক্তি পাওয়ার অজস্র পথ।

লড়াই করার এ জীবনের এক ছোট্ট প্রতীকী গল্প—

প্রশান্তি, একজন বালিকা, যে আজ ভীষণ আশাবাদী চঞ্চলতায় মুখর জীবন ফিরে পাওয়ার… হঠাৎ একদিন প্রশান্তি দেখলো তার বাবা বারান্দায় মনটা খারাপ করে পলকহীন দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছেন।
সে বাবার কাছে গেল। বাবার পাশে বসে তার মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করল।

- বাবা! ও বাবা! তোমার কি হয়েছে? অন্যদিনের মতো তোমার আজ অফিসের তাড়াহুড়ো নেই… কি হলো বাবা?

- মনটা ভালো নেই রে মা…! চারিদিকে তাকিয়ে দেখ, কেমন অজস্র বিষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বাতাসে বাতাসে…

- কিন্তু এসব অদৃশ্য বিষের প্রভাবটা কি, বাবা?

- এরা জীবাণু অস্ত্রের মতো্ হাজারো প্রাণের উপর হামলা করছে। এর জন্য সারা পৃথিবীর মানুষ এখন ঘরবন্দী, চারিদিকে অনাহারীর হাহাকার… আতঙ্কে মানুষ বের হতে পারছে না প্রয়োজনের তাগিদ মেটাতে।

- এটা খুবই দু:খজনক। তবে বাবা, এর থেকে কি কোনো নিস্তার পাবো না আমরা?

- জানি না রে, মা! এ অস্ত্রের নির্মমতা কখন থামবে!!

মুখ কালো করে বাবা বারান্দা হতে বাহির হলেন। প্রশান্তি ক্ষোভে জ্বলে উঠল। এ জীবাণু অস্ত্রের এমন নির্মম থাবার কারণ উদঘাটন করতে তার অলৌকিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রবেশ করল ঐ নির্মম জীবাণু শত্রুর জগতে…

-হা হা হা! কিরে মানব জাতির প্রতিনিধি, আমাকে দাওয়াত দিতে এসেছিস?

-চুপ করো তোমরা। কেন তোমরা আমাদের জগতের উপরে এই আক্রমণ চালাচ্ছ? কেন এমন থমকে দিচ্ছ প্রাণীকুলের জীবন?

-আমরা আক্রমণ করার আগে মানবজাতি তোমরা তোমাদের প্রকৃতির উপর নির্মম হস্তক্ষেপ করেছো… প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান তোমরা দূষিত করেছো, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। বনজঙ্গল উজার করেছো ইচ্ছেমতো, সমুদ্রে পানির উচ্চতা বাড়ছে, মেরু অঞ্চল গলে যাচ্ছে। এখান থেকেই তো আমাদের শক্তির উৎপত্তি।

হাহাহাহাহা……

তাই আমি এখন বাতাসে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছি। মানুষের মানুষের সংস্পর্শে আমি ছোঁয়াচের মতো কাজ করছি। আমার আরো একটি পছন্দের স্থান আছে। তা হলো মানুষের অপরিষ্কার হাত।

হোহোহোহাহাহা…….

প্রশান্তি উপলব্ধি করলো আসল ব্যাপারটি এবং খুবই চিন্তিত হয়ে বেরিয়ে এল এই জগৎ থেকে।
ঐদিন সারারাত চিন্তা করেও বের করতে পারল না এই অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার পথ। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো সে।

পরদিন সকালে এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে প্রশান্তির মাথায় একটা আইডিয়া খেলা করল। সে তার পড়ার রুমে গিয়ে কতগুলো আর্টপেপার সংগ্রহ করে তাতে এই জীবাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার পন্থা লিখতে লাগল। তারপর তৈরি করে ফেলল অনেক লিফলেট, বাবার সহায়তা নিয়ে…

লিফলেট এ উল্লেখ আছে…

১. ভালোভাবে সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।

২. হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করা।

৩. হাঁচি-কাশির সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নেওয়া।

৪. অসুস্হ ব্যক্তি ও পশুপাখির সংস্পর্শে না থাকা।

৫. মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করা।

৬. বারবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা।

৭. প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া।

……………………………………………………….

এরপর প্রশান্তি তার বাড়ির উঠোনে এই লিফলেটটি টাঙিয়ে দিল। মানুষের ঘরে দ্বারে দ্বারেও লাগাতে লাগল এই সতর্কতামূলক বাণী। প্রশান্তির এই উদ্যোগে আরো অনেক সাহসী মানুষ, যারা প্রশান্তির মতো সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে, তারাও এগিয়ে এল প্রশান্তির পাশে। একসাথে লড়াই করছে এই জীবাণু অস্ত্র বিনাশ করার। এরাই জীবাণু অস্ত্রের তলোয়ার।

বাস্তবিক অর্থে গল্পের এ প্রশান্তির মতো বীর সৈনিক- চিকিৎসক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন সমাজ কল্যাণে এগিয়ে আসা সম্মানিত মানুষদের জানাচ্ছি স্যালুট এবং অবিরাম শ্রদ্ধা।


একদিন সুদিন ফিরে আসবে…
আসবে আবার ছন্দ, আসবে আবার মুখরতা,
আসবে আবার চঞ্চলতা, আসবে আবার আনন্দ…
এ প্রত্যাশায়, মনে রাখতে হবে,

               রাত পোহালে যেমন সূয্যিমামা হাসে,

              তেমনি অন্ধকারের পর আলোও আসে…

 

+লেখিকা: ফারজানা আক্তার মিলি


হলিক্রস কলেজ এ অধ্যয়নরত ছাত্রী।ভালোবাসে স্বপ্ন দেখতে, কাজ করে সেই স্বপ্ন পূরণে। আশা করেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার।
ফেসবুক আইডি:আইডি লিংক