ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

কবিতাঃপাবৈ ব্রিজে,সন্ধ্যায় - লিখেছেন - শীর্ষ সংশপ্তক


নদীর নামটি জানা নেই,
পাবৈ ব্রিজ বাংলার ১৩শত নদীর উপর অবস্থিত অজস্র ব্রিজের একটি
বিগত কোন জন্মে এখানে পা পড়ে নি কোনদিন
এই জন্মেও আর পড়বে কিনা জানা নেই,
অথচ আমার সমস্ত পূর্বপুরুষের ভিটা এই মোহনগঞ্জেই,
শিকড় ধীরে ধীরে হয়েছে বিচ্ছিন্ন,
এইখানে,
এমনকি ভিটেমাটির ঘ্রাণ লাগা যে কোন স্থানেই
আমি খুব আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগি
বাংলার সবুজ এবং সবুজাভ জেলাগুলোয় সবাই খুব আপন,
মোড় ঘুরতেই চোখে পড়বে পরিচিত হাসিমুখ
কেবল আমি, আর এই চাঁদ খুব একা
চাঁদ চেনে না আকাশের অন্তহীন নক্ষত্ররাজি
আমি বসে বসে এই পাবৈ ব্রিজের ধারে, দেখি
অচেনা মানুষ, অচেনা গাছ, অচিন পাখির মুখে অপরিচিত কলকাকলি
গুচ্ছ গুচ্ছ ধানখেত নিচে ভেসে গেছে অপরিসীম জলে
বরষার বাঁশিসুরে ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে
নিঃশব্দ মেঘেরাও গর্জে মিশে যায় সে জলে
অথবা, শ্রাবণের হাওয়ার স্বরে পথ হারিয়েছে মেঘেরাও
সব আন্দোলন কি আর গন্তব্য খুঁজে পায়.?!

পাবৈ ব্রিজে বসে, সন্ধ্যায়
কেবল নিঃসঙ্গ চাঁদ, আর গুচ্ছবদ্ধ তারা
আর বাতাস, নিরাবেগ ছুটে চলা বাতাস
শ্রাবণের হাওয়ারা থামে না কখনো
পাড়ি দিয়ে যায় এইসব গ্রাম-গ্রামান্তর
দপদপ জ্বলতে থাকা সিগারেট হাত থেকে পড়ে
ডুবে যায় অন্তহীন জলের বুকে,
মানুষ তার পাপের সাক্ষী রাখে না বলে
এই জল অজস্র পাপকে ডুবিয়ে নিয়েছে তার অন্তরে
সন্ধ্যাতারা ডুবে যায় ধীরে
পাবৈ ব্রিজে টেনে নেয় অন্ধকারের গাঢ় আঁচল
এখন পাশে দাঁড়ানো মুখেও পরিচয় অপরিচয়ের ফাঁরাক করা যায় না,
বাতাস নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায়,
চিৎকারজুড়ে দিয়ে গ্রাস করে নেয় সমস্ত নীলিমা
বাতাসের আহ্বানে সাড়া দেয় অচিন নদ
ছোটবেলা থেকেই জলকে আমার খুব ভয়,
বারবার আমার আত্মা ডুবে যেতে চায় তার অন্তরালে
রোজ রাতের দুঃস্বপ্নে, আমি চিৎকার করে ভেসে উঠি।

এইখানে, পাবৈ ব্রিজে, সন্ধ্যায়
বাতাস এখন ভুলে গেছে নিয়মের বিধিনিষেধ,
ডুব দিতে রাজি সমস্ত চরাচর
অচিন নদী,
কোন কোন নদীর নাম শুনেছি ডুবুরির নামেও হয়
তোমার গর্ভে আমার অনেক পূর্বপুরুষ ঘুমায় চিরন্তন
আজ, এই মাতোয়ারা হাওয়ার নায়ে পাল তুলে
আমিও যদি ডুবুরি হয়ে তোমার অন্ধকারে স্থান নেই
হায় নদ,
বহুপূর্বের সেই আত্মীয়ের সাথে হবে তো পরিচয়..?!   


+লেখক: শীর্ষ সংশপ্তক,
বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ভালবাসেন বিতর্ক, কবিতা আর প্রাসঙ্গিক সমস্ত সামাজিক-রাজনৈতিক কড়চা। 


লেখকের ফেসবুক:ফেসবুক আইডি