ইতিহাসনামায় আপনাকে স্বাগতম

চৈতী হাওয়া (পর্ব -২) - লিখেছেন - আবীর হাসাম সায়েম


রাফা, লতিফ সাহেবের রুমে বসে গল্প করছে। গল্প করছে বললে ভুল হবে। এইখানে একপাক্ষিক কথপোকথন চলছে। রাফা বলছে আর লতিফ সাহেব এবং নবনী মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে। নবনী কে দেখে রাফার বেশ মজা লাগছে। সে এক চোখে কাজল দিয়েছে আরেক চোখে দেয় নি। টিপ টাও কপালের ঠিক মাঝখানে নেই, ডানে একটু সড়ে গেছে, খোলা চুল চেয়ার দিয়ে নেমে মাটিতে কুন্ডুলি পাকিয়ে আছে। আচ্ছা এতো বড় চুল থাকতে পারে মানুষের? নবনীর ছোট বোন তিশা, ওর চুলতো আরো বড়। নবনী একবার বলেছিলো ওর মা এর ও এইরকম চুল ছিলো। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে তা কমতে থাকে। এখন রাবেয়া খাতুনের চুল হাতে গোনা যায় ।

রাফা আজ কথা বলছে দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে।রাফা বলল,

  "দেশের অবকাঠামোর এমন নাজেহাল অবস্থা।দেশ আস্তে আস্তে তলানিতে চলে যাচ্ছে। "

লতিফ সাহেব বলে উঠল,

  "ঠিক। দেশে আর শান্তি নাই। শান্তির মা অনেক আগেই মারা গেসে।"

রাফার বেশ মজা লাগে লতিফ সাহেবের সাথে কথা বলতে। রাফা যা বলবে তাই সঠিক।রাফা যদি বলে,

  "কাল থেকে আপনি আর কিছু খাবেন না। "

তাহলে লতিফ সাহেব সত্যি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিবেন। রাফা নিজেও বুঝে না লোকটা কেনো তাকে এতো পছন্দ করে। একবার রাফা শখের বশে একটা কবিতা লিখে পড়তে দিয়েছিলো লতিফ সাহেবকে। লতিফ সাহেব কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। লতিফ সাহেব বললেন-

"ফেন্টাস্টিক। তুমি ১সপ্তাহর মধ্যে আমাকে আরো ১০ টা কবিতা লিখে দেখাবা। এইটা তোমার হোমওয়ার্ক।"

অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাফাকে ১০ টা কবিতা লিখতে হয়েছিল। কারণ বেশি দেরি করলে লতিফ সাহেব তার পাজেরো নিয়ে রাফার বাসার সামনে এসে বসে থাকবেন। যতক্ষণ রাফা কবিতা গুলো লেখা শেষ না করবে ততক্ষন।

রাফা যেদিন কবিতা গুলো নিয়ে লতিফ সাহেবের কাছে যায়, সেদিন ড্রয়িং রুমে কয়েকজন বসে ছিল। তাদের সামনে নানা পদের নাস্তা। নবনী শাড়ি পরে তাদের সামনে বসে আছে। রাফা বুঝতে বাই রইলো না, এরা নবনীকে দেখতে এসেছে, সে হনহন করে হেটে ভিতরের রুমে ধুকে যাচ্ছে এমন সময় নবনী উঠে রাফার দিকে এলো এবং গম্ভির মুখে বলল,

"ভিতরে আয় তো।তোর সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।"

শুধু তাই না, সে রাফার  হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেলো। রাফা কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। রুমে গিয়ে নবনী রাফার উল্টোপাশে বসল। তারপর রাগভরা গলায় বলল-

    "তুই একটা গাধা। তুই বললি পাখিরা পোষ মেনে গেলে যদি খাচার দরজাও খুলে দেই তাহলে উড়ে যাবে কিন্তু আবার ফিরেও আসবে। আমি আমার ময়না পাখির খাচার দরজা ঠিকই খুলে দিয়েছিলাম। সে উড়ে গেলো কিন্তু আর ফিরল না।"

বলেই নবনী কাঁদতে শুরু করল। রাফা কি বলবে বুঝতে পারছে না। নবনী কাঁদো কাঁদো গলায় বলল-

  "তুই আমাকে আরেকটা পাখি কিনে দিবি।আমি জানি না তোকে দিতেই হবে"

রাফা অস্ফুটস্বরে বলল -

 "আচ্ছা ঠিক আছে দিবো।"

লতিফ সাহেব ঘরে প্রবেশ করলেন। গম্ভির মুখের রাফার হাত থেকে কবিতার কাগজগুলো নিলেন। বললেন-

  "১০ টাই আছে না?"

রাফা বলল-

  "হ্যা। আচ্ছা, মেহমান কি চলে গেছে?"

লতিফ সাহেব বললেন-

 "হ্যা। তারা বলে গেছে, আমার মেয়ের নাকি তোমার সাথে ইটিসপিটিস চলে।আমি বললাম  যে, তুমি আমার ছেলের মতো। কিন্তু তারা জিজ্ঞেস করে কেমন ছেলে আপনার,আপনার নাকি শুধু ২ মেয়ে। স্টুপিডের দল। রক্তের সম্পর্কই কি সবচেয়ে বড় নাকি? ফুলিস পিপল।"

এই কথা বলে লতিফ সাহেব তার রুমে চলে গেলেন। রাফাও উঠে পরলো।  ড্র‍য়িং রুম পেরিয়ে সদর দরজা। ড্রয়িং রুমে বসে আছেন রাবেয়া খাতুন। তার চোখ লাল হয়ে আছে। রাফা মনে হলো, ওই চোখের দিকে তাকালে হয়তো আর বাঁচা যাবেনা। ওই জ্বলন্ত আগুনের পুড়ে যেতে হবে।রাফার নিজের উপর বড্ড রাগ হলো।



লেখকঃ আবীর হাসাম সায়েম

ইন্টারে পড়ছেন। এই করুণ বস্তুবাদিতার ব্যস্ত শহরে জীবন পড়ার এক চেষ্টা চালাচ্ছেন।